১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৮ পিএম

‘একটি ভূল রিপোর্ট একটি পরিবারে ভয়াবহ বিপদ এনে দিতে পারে’

‘একটি ভূল রিপোর্ট একটি পরিবারে ভয়াবহ বিপদ এনে দিতে পারে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ এ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের প্রাক্তন চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ করীম বলেছেন, একটা সময় ছিল যখন চিকিৎসকরা রোগীদের জটিলসব রোগগুলো ধরতে পারতো না। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সবধরনের রোগই সনাক্ত করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে আল্ট্রাসোনোগ্রাম সিস্টেম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ ক্ষেত্রে যারা রিপোর্ট তৈরি করেন, তাদেরকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ক্রমেই একটা ভূল রিপোর্ট রোগীর হাতে না যায়। মনে রাখতে হবে, একটি ভূল রিপোর্ট একটি পরিবারে ভয়াবহ বিপদ এনে দিতে পারে।

১৯ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০ টায় দি থাইরয়েড সেন্টার লি. ও বিটমির আয়োজনে “বিটমির ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯”, সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠান ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী সম্পাদিত আল্ট্রাসোনোগ্রাম ও কালার ডপলার মেডিকেল সাইন্স বই এর তৃতীয় সংস্করনের মোরক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. এম এ করীম বলেন, আমাদের দেশে আল্ট্রাসোনোগ্রাম সিস্টেম অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিটমিরসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচিত এসব প্রতিষ্টান থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্ভয়ে কাজ করা। ভূল মানুষের হতেই পারে, তাই বলে ভূলের ভয়ে বসে থাকলে হবে না। তবে আপনাদের অনেক বেশি সচেতনতার সাথে এই কাজগুলো করতে হবে। যদি কোন বিসয়ে আপনাদের কনফিউশন তৈরি হয়, তাহলে সিনিয়রদের জানাবেন। তাদের থেকে পরামর্শ নিবেন। কোন ক্রমেই ভূল রিপোর্ট তৈরি করবেন না।

তিনি বলেন, আপনারা যখন কাজ করবেন, তখন নিজেদের আত্মসম্মান আপনাদেরকেই রাখতে হবে। অনুগ্রহপূর্বক ২০০ টাকার আল্ট্রাসোনো করবেন না। এটা অনেক জটিল ও কষ্টদায়ক কাজ। যেটা করবেন পূর্ণ মনযোগ দিয়ে করবেন। তবে ২০০ টাকার আল্ট্রাসোনো করবেন না। এতো কষ্ট করে এ অবস্থায় এসে যখন নিজেদের মূল্য নিজেরা না রাখেন, তখন আমাদেরও অনেক কষ্ট হয়। আমরাও চিকিৎসক।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এম এ করীম বলেন, আপনারা যারা পড়াশোনা করছেন, ভালো কিছু করতে হলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। শুধু আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহই আপনাকে উপরে তুলে দিবেন না, নিজেরও উপরে উঠার শক্তি থাকতে হবে। ডা. ফজলুল বারী, সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড অ্যালায়েড সায়েন্সের অধ্যাপক, একই সাথে তিনি বিটমির এবং দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেডের চেয়্যারম্যান। সে নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনারাও চেষ্টা করেন, অনেকদূর যাওয়া সম্ভব।

বিটমির এবং দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেডের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের মেম্বার (বায়ো সাইন্স) অধ্যাপক ডা. মো: সানোয়ার হোসেন, ওজিএসবি’র সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিটমির হতে গত জুলাই ২০১৯ সেশনে ডিপলোমা ইন মেডিকেল আল্ট্রসাউন্ড কোর্সে উর্ত্তীন প্রায় ১০০ জন ছাত্র / ছাত্রীদের মাঝে সনদপত্র ও বিটমির এ্যাওর্য়াড প্রদান করা হয়। এছাড়াও বরাবরের মতো বিটমির ন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ প্রদান করা হয়। এবছর এ এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন বাংলাদেশ এ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের প্রাক্তন চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ করীম।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত