১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০৭ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:৫৯ পিএম

মদিনা হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. শাহ আলমকে হত্যা

মদিনা হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. শাহ আলমকে হত্যা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সৌদি আরবের মদিনা হাসপাতালে শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. শাহ আলমকে (৫০) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় মহাসড়কের পাশে একটি নির্জন স্থানে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

ডা. শাহ আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা বাইপাস সড়কে ঢাকামুখী লেনের পাশে গাছপালার ভেতরে এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পায় সেখানে খেলতে থাকা শিশুরা। পরে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। 

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ দুপুরে সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরার বাইপাস সড়কের ওই এলাকাটি অত্যন্ত নির্জন। রাতের আঁধারে ওই এলাকা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ডাকাতদের একটি দল সেখানে আগেও বহু মানুষের অর্থ ও মূল্যবান সরঞ্জাম কেড়ে নিয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই স্থান থেকে স্থানীয় এক যুবকের কার ভাড়া নিয়ে ৪-৫ জনের ডাকাত দল তাকে নিয়ে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাটের কাছে গিয়ে কারটি কেড়ে নিয়ে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়। 

তারা আরো বলেন, জায়গাটি নির্জন হওয়ায় অন্যত্র খুন করেও এখানে আগেও লাশ ফেলে গিয়েছিল অজ্ঞাত খুনিরা। হতে পারে ওই একই খুনি চক্র লোকটির সর্বস্ব কেড়ে নিতে চাইলে বাধা পেয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে যায়। রাতের আঁধারে অর্থ ও মূল্যবান সরঞ্জাম বহন করে নিয়ে যাবার সময় ডাকাতদের পাল্লায় পড়ে খুন হতে পারেন। 

তবে পুলিশ এখনো ঘটনার কারণ জানতে পারেনি। সীতাকুণ্ড থানার ওসির দায়িত্বে থাকা শামীম শেখ বলেন, কুমিরায় বাইপাস সড়কটি সমতল থেকে অনেকটা উঁচু। খুনিরা লাশটি মহাসড়কের পাশ থেকে নিচের দিকে ফেলে দিলে সেটি ঝোপের মধ্যে একটি গাছের সাথে আটকে যায়। 

তিনি আরো বলেন, নিহতের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। আঘাত ও রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হতে পারে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের হবে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের ছায়া 

এ প্রসঙ্গে ডা. শাহ আলমের শ্যালক ব্যারিস্টার মীর হেলাল ফেসবুকে তার টাইমলাইনে বলেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ী ও পরোপকারী ডা. শাহ আলম ভাইকে নরপিশাচরা গতরাতে হত্যা করে কুমিরায় রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে গেছে। সৌদি আরবের মদিনা হাসপাতালে শিশু বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। নিজ এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হঠাৎ মদিনার চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং নেমে পড়েন কুমিরার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিশু সেবা ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ক্লিনিক চালু করে এলাকাবাসীকে সেবা দেয়া শুরু করলেন।’

প্রিয় স্বজনকে হারিয়ে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ‘এই দেশে তো আর ভালো গুণী লোকের কদর নেই, নেই থাকার অধিকার। তাই এই সোনার মনের নিরীহ এবং অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের মানুষটাকে লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হলো কুমিরার জঙ্গলে।’

এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে গবেষক, বিশ্লেষক ও লেখক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘হে আল্লাহ, তাঁকে তুমি শহীদের মর্যাদা দাও। তাঁকে ক্ষমা করো, জান্নাত নসীব করো। আর যারা খুনি, তাদেরকে এমন শাস্তি দাও যেনো অন্যনা তা দেখে শিক্ষালাভ করে। এই খবরটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য খুবই বিপজ্জনক ও দুর্ভাগ্যের। যারা স্বদেশে ফিরে এসে দেশের জন্য কিছু করতে চান, তাদের কাছে ভিন্ন বার্তা দিবে। অনেকেই নিরুৎসাহিত হয়ে যাবে। আল্লাহ, তুমি এদের হেদায়েত করো। আর যারা দেশকে ভালোবাসে. তাদের সাহায্য করো। নিশ্চয় তুমি ভালোর সাথে থাকো। মন্দের সাথে নয়।’

গীতা অধিকারী বলেন, ‘উনার আত্মার শান্তি কামনা করছি। ঘটনাটা পড়ে খুব খারাপ লাগছে। আসলে মানুষই এতটা জঘন্য কাজ করতে পারে, হয়তো পশুরা ও আমাদের কাছে হেরে যাবে!’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত