১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:০০ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:০৮ এএম

জরায়ু ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা নির্ণয়ে পেপ টেস্ট

জরায়ু ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা নির্ণয়ে পেপ টেস্ট

পেপ টেস্টের মাধ্যমে জরায়ু মুখের কোষ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় কোষের এমন কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা হয়, যা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ এ পরীক্ষাটি জরায়ু ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা নির্ণয় করতে সক্ষম। এ অবস্থায় এর সহজ চিকিৎসাও সম্ভব।

কখন এই পরীক্ষা করতে হয়?  

জরায়ুর যে কোনো সমস্যাতেই এ পরীক্ষাটি করতে হবে, তা কিন্তু নয়। ২৫ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক মহিলাদের প্রতি তিন বছর পর পর এ পরীক্ষাটি করা উচিত। যদি পেপ টেস্টের সঙ্গে HPV-DNA টেস্ট নর্মাল থাকে, তবে প্রতি পাচ বছর পর পর এ টেস্ট টি করা যাবে। গর্ভাবস্থায়ও এ পরীক্ষাটি করা যায়। 

কিভাবে করা হয়?  

এ পরীক্ষার জন্য চামচের মতো একটি যন্ত্র মাসিকের রাস্তায় দিয়ে ব্রাশ এবং কাঠির সাহায্যে জরায়ু মুখ থাকে কোষ নিয়ে পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়। এতে আপনি তেমন ব্যথা অনুভূত হয় না, তবে সামান্য অস্বস্তি লাগতে পারে। 

ফলাফল অস্বাভাবিক হলে করণীয়: 

এ পরীক্ষার ফলাফলে যদি কোষের আস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ ধরা পরে, তবে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কারণ এটি সাধারণভাবে ক্যান্সার বোঝায় না। আনেক সময় জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ বা প্রদাহ থেকেও আস্বাভাবিক ফলাফল হতে পারে। সংগৃহীত কোষের পরিমাণ কম থাকলে এটি পুনরায় করার দারকার হয়। 

তবে পরীক্ষার ফলাফলে CIN বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা দেখা গেলে আপনাকে কল্পস্কপি এবং বায়পসি করার জন্য পাঠানো হবে। বায়পসি রেজাল্টের পর অথবা আনেক সময় কল্পস্কপি করাকালীন অবস্থাতেই চিকিৎসা করা হয়। এর বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিগু হচ্ছে লিপ, কোল্ড কোয়াগুলেসন, কটারি, লেজার। এ চিকিৎসার পরও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ফলোআপ করে যেতেহবে।  

বিকল্প টেস্ট আছে কি? 

পেপ টেস্টের একটি বিকল্প হচ্ছে VIA পরীক্ষা, যা আরও সহজে এবং কম খরচে করা যায়। তবে সব ল্যাবরেটরিতে VIA পরীক্ষা করা হয় না।

বলা যায়, জরায়ু ক্যন্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ক্যন্সার। কারণ এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার হবার পূর্বেই তা নির্ণয় করা সম্ভব।  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত