ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:০০ এএম

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সদ্য পাশ করে জয়েন করা লেকচারারের বেতন মোটামুটি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলোতে এই বেতন ৫০ হাজারের উপরেই থাকে। তাহলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একজন লেকচারারের বেতন কতো? এই ক্ষেত্রে বলা যায়, অধিকাংশ মেডিকেল কলেজগুলোতে এই বেতন ৩০ হাজার টাকার কম।

অথচ অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী মোটামুটি ৫ থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যে তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেন। সেখানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সরকার গতবার নিয়ম করে দিয়েছে, এই টাকা যেনো ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি নেয়া না হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশই চেষ্টা করে ভার্সিটির সবচেয়ে ভালো ছাত্রগুলো যেনো সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করে। এজন্য তারা তাদের বেতন কাঠামোকে একটা সম্মানজনক জায়গায় রাখার চেষ্টা করে। আর প্রাইভেট মেডিকেলগুলোর চেষ্টা থাকে, সবচেয়ে কম বেতনে কিভাবে এখানে লেকচারার নিয়োগ দেয়া যায়।

তাহলে কেন এই বিশাল অংকের টিউশন ফী বেসরকারি মেডিকেলে পড়ার জন্যে? কারণ, বেসরকারি মেডিকেলের মালিকপক্ষ বাংলাদেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব খুব ভালো করে জানে।

এদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রফেসর এবং কোয়াক ছাড়া ডাক্তার দেখাবে না। এবং সেই প্রফেসর অবশ্যই একজন ব্যস্ত প্র্যাক্টিশনার হতে হবে। সেই ব্যস্ত প্র্যাক্টিশনারের চেম্বারে ৪৩ নাম্বার সিরিয়াল নিয়ে ঘন্টা চারেক অপেক্ষা করে ডাক্তারের হাতে ৫ মিনিটে ৫০০ টাকা গুজে দিয়ে সন্তানকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ঠিক করে ফেলে। সন্তান কী চায়, তার পড়াশোনার ঝোঁক কোন দিকে, দেশে আসলে ডাক্তারদের বাস্তব অবস্থা -এগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করার প্রয়োজন দেখে না। তাদের চোখে সেই ব্যস্ত প্রফেসরের চেম্বারের চিত্র শুধু বাবলের মতো করে ভাসতে থাকে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই বুদবুদযুক্ত কাল্পনিক স্বপ্নকে পুঁজি করে সবচেয়ে কম খরচে এই ব্যবসাটি করে যাচ্ছে। আর এর শিকার হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী এবং এর সাইড ইফেক্ট পড়ছে পুরো বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।

বেসরকারি বা সরকারি যেকোনো জায়গায় পড়েই ডেডিকেশন, পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে খুব ভালো করা সম্ভব। এটা বাংলাদেশের যেকোনো সেক্টরের যে কোন সাবজেক্টের জন্যেই সত্য। কিন্তু স্ট্রাগল আর সম্ভাবনা আর বাস্তবতা কতটুকু, সেই বিষয়টা জেনেই আসা ভালো। এই সম্ভাবনা আর বাস্তবতার সঠিক চিত্র সমন্ধে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা সচেতন হলেই প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের এই অনৈতিক ব্যবসায় ধ্বস নামবে বলে আমার ধারণা।

তাই আপনার আশেপাশের সবাইকে 'ডাক্তার হলেই বহুত ট্যাকা পয়সা' এই ধারণার বিরুদ্ধে টীকা দিন আর প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ নামক ব্যবসার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত