১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৫৪ পিএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:০৮ পিএম

কমছে বিএসএমএমইউ’র এমডি/এমএস রেসিডেন্সির ভর্তি ও কোর্স ফি

কমছে বিএসএমএমইউ’র এমডি/এমএস রেসিডেন্সির ভর্তি ও কোর্স ফি

মো. মনির উদ্দিন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এমডি/এমএসের ভর্তি ও কোর্স ফি কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

আগামী সেশন থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোর্স ফি, অ্যাডমিশন ফি সবই কমানো হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০০ টাকা করা হয়েছে। তবে ভর্তি ফি এরই মধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে। তাই এ বছর কার্যকর করতে পারলাম না। তবে আশা করছি, কোর্স ফি ও পরীক্ষা ফি জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে।’

কোন ভাবনা থেকে এ রকম ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, যা নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে নিলে চলে যায়। এতে আমাদের কোনো ক্ষতি নাই। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাভ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়নি। তাই তাদের কাছ থেকে বেশি নেওয়ার দরকার নাই। চিকিৎসকদের অনেকেই বেকার। চাকরিও যদি করে তারাতো জুনিয়র। বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনের অধিক কেন নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময় ইনসার্ভিস ট্রেইনি ছিলাম, ইন্টার্নিও না। এর মানে পাস করার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি। বেকারও থাকতে হতো না। এখনতো ছেলে-মেয়েদের জন্য কঠিন সময়। এতগুলো টাকা যোগাড় করতে নিশ্চয় কষ্ট হয়। তারপর আবার ১০ হাজার পরীক্ষা দেয় চান্স পায় এক হাজার। মেডিকেলে সাধারণত স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে। কিন্তু বাবা-মার কাছে ছাত্র জীবনে চাওয়া আর পাস করার পর টাকা চাওয়া এক জিনিস না। যারা মেডিকেলে চান্স পায়নি, তারা অন্য জায়গা থেকে পাস করে বড় চাকরি করছে। আর চিকিৎসকরা বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপর বাবা-মার কাছে প্রতি বছর টাকা নিয়ে এসে ভর্তি পরীক্ষা দেবে, এটা হতে পারে না। আরও কমাতে পারলে ভালো লাগতো।’

ছাত্রকল্যাণমূলক এ সিদ্ধান্তের অনুভূতি জানতে চাইলে প্রচারবিমুখ এ শিক্ষাবিদ বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাজটা করেছি। আমার একার ক্রেডিট নেওয়ার কিছু নাই। আমার ভিসি স্যার রাজি না হলে কী পারতাম? অ্যাকামিক কাউন্সিলের শিক্ষকরা মত না দিলে হতো?সবাই মিলে না করলে কারও একার পক্ষে সম্ভব না।’

সিন্ডিকেল সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসএমএমইউতে কোনা কোর্সে ভর্তি হতে চাইলে কর্মরত চিকিৎসকদের এক লাখ টাকা খরছ করে ইনস্যুরেন্স করতে হতো, সেটা বাতিল হয়েছে। আমাদের আইনে ছিল, স্টাডি লিকের জন্য। এটা মূলত যারা স্টাডি লিকে দেশের বাইরে যেতো তাদের জন্য। বিদেশি গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য যে আইন সেটি দেশের ছাত্রদের বেলায় প্রয়োগ করা হতো।’

এফসিপিএসের কোর্স ফি অনেক কমানো হয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান। তবে বাস্তবায়নের আগে টাকার পরিমাণ জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া ওয়েটিং লিস্ট চালুর বিষয়টি পরের শিক্ষা কার্যক্রম কমিটিতে নিয়ে যাওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে যদি পাস হয়, তাহলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে যাবে, তারপর সিন্ডিকেটে যাবে। আগামী সেশনে এটি কার্যকরের জন্য চেষ্টা করে যাবেন বলেও জানান তিনি।  

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার খরচ কমানোর লক্ষ্যে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ নবীন চিকিৎসকদের অনেকেই অর্থ সংকটে ভোগেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের অর্থের চিন্তা কিছুটা কমবে। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত