১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৩৫ এএম

ভারতে সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট কেবিন, আয়ের অংশ পাবেন চিকিৎসক-নার্সরা

ভারতে সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট কেবিন, আয়ের অংশ পাবেন চিকিৎসক-নার্সরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি হাসপাতালে বেসরকারি কেবিন সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ইতিমধ্যে তা একটি হাসপাতালে চালু করা হয়েছে।  কিছু দিনের মধ্যেই রাজ্যের আরও অন্তত দশটি হাসপাতালে এ সুবিধা চালু হতে যাচ্ছে। এ থেকে আয়ের অংশ পাবেন চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীরা।

রোববার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

খবরে বলা হয়, প্রাইভেট কেবিন থেকে আয়ের ৭৫ শতাংশ রোগীকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে হাসপাতালের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ২৫ শতাংশ চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মধ্যবিত্ত রাজ্যবাসীকে সাধ্যের মধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালের মতো চকচকে পরিষেবা দিতে সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট কেবিন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রাইভেট ওয়ার্ড বা কেবিনগুলিতে বেসরকারি হাসপাতালের থেকে অনেক কম খরচে পরিষেবা পাবেন রোগীরা। চিকিৎসকের ফিও দিতে হবে না। কিন্তু চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীরা যাতে এই পরিষেবা প্রদানে বাড়তি চাপ অনুভব না করেন, তাই আয়ের ২৫ শতাংশ তাঁদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।'

এসএসকেএমের উডবার্ন ওয়ার্ডে বছরখানেক হল চালু হয়েছে সরকারি পরিষেবার প্রথম প্রাইভেট কেবিন। ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ার সে সমস্ত কেবিনে ভর্তি থেকে বেসরকারি হাসপাতালের মতোই 'টিপটপ' পরিষেবা পাচ্ছেন রোগীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেখানে পরিষেবা প্রদানের বিনিয়মে সরকারি ডাক্তার বা চিকিৎসাকর্মীরা আলাদা করে অর্থ পান না। ৎ

প্রাইভেট কেবিনে চিকিৎসায় সরকারি আয়ের ভাগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন?

স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তার কথায়, 'প্রাইভেট কেবিনগুলিতে কোনও ইউনিট নয়, একজন চিকিৎসকের অধীনে রোগী ভর্তি হবেন। তিনি হাসপাতালে তার সমস্ত দায়িত্ব সামলে ওই রোগীকে দেখবেন। এ ক্ষেত্রে কাজের চাপ নিশ্চিতই বাড়বে। পাশাপাশি, নার্স এবং অন্য চিকিৎসাকর্মীদেরও বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন পড়বে। তারা যাতে সঠিক পরিষেবা দিতে পারেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত।'

এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. দীপ্তেন্দ্র সরকারের অধীনে উডবার্নের প্রাইভেট কেবিনে গত বছরখানেকে ভর্তি হয়েছেন বেশ কয়েকজন রোগী। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নয়া উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দীপ্তেন্দ্র বলেন, 'পে-ক্লিনিকের পরিষেবা যখন চালু ছিল তখন পিজি হাসপাতালে পলিক্লিনিকে আমিও রোগী দেখেছি। অস্ত্রোপচারও করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাইভেট কেবিনে পরিষেবা দেওয়ার জন্য আয়ের অংশ চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার যে কথা ভেবেছে, সেটা প্রশংসার। এতে রোগীর প্রতি চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীদের পেশাদারি দায়িত্ব বাড়বে বলেই মনে করি।'

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত