১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০২:০৭ পিএম

আইসিওআই’র প্রথম বাংলাদেশি অ্যাম্বাসেডর ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন

আইসিওআই’র প্রথম বাংলাদেশি অ্যাম্বাসেডর ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন

মো. মনির উদ্দিন: বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডেন্টাল ইমপ্লান্ট প্রতিষ্ঠান দ্য ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব ওরাল ইমপ্লান্টোলোজিস্ট’র (আইসিওআই) অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন খান। আইসিওআই’র সকল পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে ডিপ্লোম্যাট সার্টিফিকেটসহ গোল্ড মেডেল পান তিনি।

গত ৪ অক্টোবর জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্টের গোথে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান মেভিয়েসকে জানিয়েছেন, তিনি আইসিওআই’র মেম্বার, ফেলোশিপ, মাস্টারশিপ, ডিপ্লোম্যাট হয়েছেন। মাত্র তিন বছরে অ্যাম্বাসেডরসহ ডিপ্লোম্যাট হওয়ার রেকর্ড গড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জটিল জটিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এগুলো অর্জনের জন্য সাধারণত ৭ থেকে ৮ বছর সময় প্রয়োজন।

ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বর্ণাঢ্য জীবন

খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান। শহরের সেন্ট জোসেফ স্কুলে মাধ্যমিক ও সরকারি বিএল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। পরে ১৯৯৬ সালে রাজধানীর সিটি ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হন। ২০০২ সালে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফ্যাঙ্কফুটে গোথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওরাল ইমপ্ল্যান্টোলজি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন সিটি ডেন্টালের দ্বিতীয় ব্যাচের এ শিক্ষার্থী।

তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ড. এ ডাব্লিউ খান সরকারের একজন আমলা ছিলেন। মা এস পারভীন ছিলেন একজন শিক্ষিকা। তবে সন্তানদের উন্নত জীবনের চিন্তায় এ পেশা ছেড়ে একপর্যায়ে শতভাগ সংসারের কাজে যুক্ত হন।

ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খানের স্ত্রী ডা. নাসরীন বর্তমানে প্রাইভেট প্রাক্টিস করছেন। দুই ছেলে জারিফ আব্দুল্লাহ ও আলিফ আব্দুল্লাহ ঢাকার স্কুল শিক্ষার্থী।  

ডেন্টাল ইমপ্লান্টোলজি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাঁতের একশ রকমের চিকিৎসা আছে। অনেকেই মনে করেন, দাঁত তোলা বা লাগানো এটাই চিকিৎসার শেষ—আসলে তা না। দাঁতের অনেক রকম চিকিৎসার মধ্যে একটি হলো ডেন্টাল ইমপ্লান্টোলজি। অর্থাৎ যাদের দাঁত নাই, তাদের দাঁত স্থাপন করে দেয়া।’

গোথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘১৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কাজ শেখার অনেক সুযোগ ছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকরা ১৮ বার নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে শিক্ষকরা সকল ছাত্রকে বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। স্যার বলার রেওয়াজ নেই। এমনকি শিক্ষকদের নাম ধরে ডাকতে হয়। প্রথম প্রথম সংকোচ বোধ করতাম। পরবর্তীতে দেখলাম, অন্যদের মতো শিক্ষকদের বন্ধু হয়ে ভালো আছি, যে কোনো বিষয়ে তাদের সঙ্গে মতনিবিময় করা যায়। কোনো কিছু না বুঝলে একাধিকবার জিজ্ঞাসা করি। আমার মনে হয়, বাংলাদেশেও এমন সংস্কৃতি চালু হওয়া দরকার। ছাত্র যদি শিক্ষককে ভয় পায় তাহলে শিখবে কিভাবে?’

আইসিওআই’র সদস্য লাভ

ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রাজধানীর রামপুরায় বনশ্রী ডেন্টাল অ্যান্ড ইমপ্ল্যান্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিষয়ে তীব্র আগ্রহ থেকে ২০১৬ সালে আইসিওআই’র সদস্য হন তিনি। সফলভাবে ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ক ২২০টি কেস উপস্থাপন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মাধ্যমে ২০১৭ সালে ফেলোশিপ এবং ২০১৯ সালে আইসিওআই’র ডিপ্লোম্যাট নির্বাচিত হন।

ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ে বাংলাদেশি সার্জনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতে অনেকে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং অনেক ডেন্টাল সার্জন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। আমাদের দেশে আমি এটির খুব অভাব অনুভব করি। এ দেশের ডেন্টাল সার্জনরা যদি নিজ আগ্রহে এগিয়ে আসেন তাহলে অনেক ভালো কিছু সম্ভব।’

বিশ্বমানের ইমপ্ল্যান্টোলজি ইনস্টিটিউট তৈরির আশাবাদ

বাংলাদেশেই বিশ্বমানের একটি ইমপ্ল্যান্টোলজি ইনস্টিটিউট তৈরির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এ অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আগে কেউ ছিল না। এ সংকট কেটে গেছে। উচ্চতর ডিগ্রির জন্য আগে আমাদের ভারতের দ্বারস্থ হতে হতো। এখন আর বিষয়টি এমন থাকবে না। এখন বাংলাদেশ থেকেই যেন আইসিওআইয়ে ফেলোশিপ করা যায়—এমন একটি প্রস্তাব সংগঠনটির কাছে করবো।’

আইসিওআই’র পথচলা 

১৯৭২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টক্লেয়ার নিউ জার্সিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব ওরাল ইমপ্ল্যান্টলোজিস্ট (আইসিওআই)। এটি বিশ্বব্যাপী ইমপ্লান্টোলজির টিউটোরিয়াল ফোরাম এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষার বৃহত্তম ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ডা. সেনেচি সুজুকি সভাপতি এবং ডা. লিন মর্টিলা মহাসচিব হিসেবে সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করছেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি