০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:৩৮ এএম

বিপ্লবী চে গুয়েভারার মৃত্যুদিবস আজ

বিপ্লবী চে গুয়েভারার মৃত্যুদিবস আজ

মেডিভয়েস ডেস্ক: কিউবা বিপ্লবের মহানায়ক চে গুয়েভারার ৫২তম মৃত্যু দিবস আজ। ১৯৬৭ সালের এ দিনে বলিভিয়ার শহর লা হিগুয়েরাতে বলিভিয়ার সেনাবাহিনী তার মৃত্যদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুর পর সমাজতন্ত্র অনুসারীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হন ইতিহাসের নন্দিত বিপ্লবী চরিত্র চে গুয়েভারা।

চে গুয়েভারা ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার সান্তা ফে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না। 

পেশায় তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার। তারপরেও আর্জেন্টিনীয় মার্কসবাদী এ বিপ্লবী ছিলেন একাধারে লেখক, বুদ্ধিজীবী, কূটনীতিবিদ ও সমর তত্ত্ববিদ। 

বিপ্লবের অগ্নিপুরুষ, গেরিলা নেতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার নাম আজও ধ্বনিত হয়। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে খ্যাতিমান সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম চে গুয়েভারা। 

কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে সফল বিপ্লবের পর চে বলিভিয়ায় গিয়েছিলেন আরেকটি বিপ্লবের প্রত্যয় নিয়ে। বলিভিয়াতে থাকার সময় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) মদদপুষ্ট বলিভিয়ান বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন।

এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুর পর তার মুখচিত্রটি একটি সার্বজনীন বিপ্লবের মুখচ্ছবি হিসেবে বিশ্বপ্রতীকে পরিণত হয়।

যুবক বয়সে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছায় ভর্তি হন মেডিসিন বিষয়ে। ভালোই চলছিল তার ডাক্তারি পড়াশোনা, ব্যক্তিগত জীবন আর প্রেম। মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে চে বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে সমগ্র লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করেছিলেন। 

দীর্ঘ এ ভ্রমণে আর্নেস্তো একদিকে যেমন দেখেন নিম্নশ্রেণীর মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, বঞ্চনা, নিপীড়ন; অন্যদিকে শাসকের দুর্বৃত্তায়ন, শোষণ ও অত্যাচার প্রত্যক্ষ করেন। নিজ ভূখণ্ড ভ্রমণে সর্বব্যাপী দারিদ্র্য তার মনে গভীর রেখাপাত করে।

এ ভ্রমণ আর্নেস্তোকে বঞ্চিত মানুষদের ‘চে’ বা ‘বন্ধু’তে পরিণত করে। এখান থেকে লব্ধ বোধ থেকেই শুরু করেন মানব মুক্তির লড়াই। 

১৯৫৪ সালে সিআইএর ষড়যন্ত্রে গুজমানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে চের বৈপ্লবিক আদর্শ চেতনা বদ্ধমূল হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে মেক্সিকো সিটিতে বসবাসের সময় তার সঙ্গে রাউল ও ফিদেল কাস্ত্রোর আলোচনা হয়। চে তাঁদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ছাব্বিশে জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন। মার্কিন-মদদপুষ্ট কিউবান একনায়ক ফুলগেনসিও বাতিস্তা উৎখাত করার জন্য গ্রানমায় চড়ে সমুদ্রপথে কিউবায় প্রবেশ করেন।  

অল্প সময়ে ব্যবধানে চে বিপ্লবী সংঘের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড পদে তার পদোন্নতি হয় এবং বাতিস্তা সরকারকে উত্খাত করার লক্ষ্যে দুই বছর ধরে চলা গেরিলা সংগ্রামের সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

চে গুয়েভারা ছিলেন কিউবা বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। কিউবার বিপ্লবের পর নতুন সরকারে একাধিক ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। 

বৃহত্তর বিপ্লবে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৬৫ সালে কিউবা ত্যাগ করেন চে গুয়েভারা। প্রথমে কঙ্গো-কিনসহাসায় তার বিপ্লব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি বলিভিয়ায় বিপ্লবে অংশ নেন। এখানেই সিআইএ মদদপুষ্ট বলিভিয়ান সেনার হাতে বন্দি ও নিহত হন চে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত