ডা. কাওসার আলম

ডা. কাওসার আলম

মেডিকেল অফিসার ও রেসিডেন্ট, কার্ডিওলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৪:১৮ পিএম

সোনার বাংলা গড়ায় এ ছাত্ররাজনীতি কতটুকু সহায়ক?

সোনার বাংলা গড়ায় এ ছাত্ররাজনীতি কতটুকু সহায়ক?

একজন বুয়েটের স্টুডেন্ট, একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট রাজনীতি করতেই পারেন। কিন্তু এ কারণে তার সহপাঠী বা বন্ধু বা ছোটভাইকে হত্যা করার মতো নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতি দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্ররা কিভাবে করে? যারা মানুষ হয়ে মানুষকে হত্যা করে তাদের কি মানবিকতা ও মূল্যবোধ আছে? মেধাবী হলেও তারা কি প্রকৃত মানুষ হতে পেরেছে? মেধাবী হয়ে কি লাভ যদি প্রকৃত মানুষই হতে না পারি।

একজন বুয়েটেপড়ুয়া ছাত্র নিঃসন্দেহে তার মা-বাবার তিলে তিলে অনেক কষ্ট, অনেক ত্যাগ, অনেক তিতিক্ষার ফসল। সে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সে তার মা-বাবার একটি গর্ব। আবরার ফাহাদের মা যদি আজকে বাংলাদেশকে প্রশ্ন করে, বাংলাদেশ আমার নিরাপরাধ ছেলেকে কেন হত্যা করা হয়েছে? এই জাতির বিবেক কি উত্তর দিবে? একটি পরিবারের স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে ছাত্ররাজনীতির হিংসাত্মক তৎপরতা। মা-বাবার বুক খালি করেছে এসব পথভ্রষ্ট ছাত্রনেতা।

ভাবতে অবাক লাগে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ যেখানে সর্বোচ্চ মেধাবীদের পদচারণা সেখানেও একজন ছাত্র নিরাপদ নয়। সঙ্গত কারণে মনের কোণে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে কোথায় আপনার সন্তান নিরাপদে থাকবে? কোথায় আপনার সন্তানকে পড়াবেন? কোথায় তার ক্যারিয়ার এবং তার জীবনের নিরাপত্তা আছে? আপনার মনে প্রশ্ন জাগে না? আপনার সন্তানকে নিরাপদ একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে আপনি নিশ্চিন্তে থাকার আশ্বাস আপনাকে কে দিবে?

এসব প্রশ্নের সহজ একটি সমাধান যদি আমাকে দিতে বলেন, তাহলে বলবো—এই একটি মৃত্যুই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের নিমিত্তে সামাজিক আন্দোলন তৈরির জন্য যথেষ্ট?

আমি আমার আগামী প্রজন্মের জন্য একটা নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাই, যেখানে তার সহপাঠী আরেক সহপাঠীকে হত্যা করবে না, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করার অধিকার পাবে। যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মা-বাবা তার সন্তানকে পাঠিয়ে তার সন্তান ফিরে আসা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। আমাকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান দিন যেখানে আমি আমার সন্তানের শিক্ষা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবো।

একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী ব্যক্তি স্বাধীনতা, নৈতিকতা, সততা এবং দেশপ্রেম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে সমানতালে শিখবে। ব্যক্তিস্বাধীনতা না থাকলে মানুষের মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটে না আর মুক্তচিন্তার সঠিক বিকাশ না হলে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তির তৈরি হবে কিভাবে? একজন বুয়েটের ছাত্রের যদি উদ্ভাবনী শক্তি না থাকে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে কিভাবে? যেই রাজনীতি ব্যক্তিস্বাধীনতাবিরোধী, যে রাজনীতি মুক্তচিন্তারবিরোধী সেই রাজনীতি আমি চাই না। সেই রাজনীতির উত্তরাধিকারের সম্মান আমি চাই না।

যেদেশে ছাত্রনেতারা তার শিক্ষকের কাছে চাঁদা চায়, সেদেশে ছাত্রনেতাদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। যেদেশের ছাত্রনেতারা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে দাদা বা ভাই বলে সম্বোধন করে তাদের পারিবারিক শিক্ষা, সৌজন্যবোধ প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে বাধ্য। এসব ছাত্রনেতারা যদি ভবিষ্যতে একটি দলের নেতা হয় এবং এই নেতারাই যদি আবার সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে তাহলে দেশ কিভাবে দুর্নীতিমুক্ত হবে, দেশ কিভাবে সোনার বাংলা হবে?

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত