ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৫ ঘন্টা আগে
০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৩৬

ছিনতাইকারীর ছুরিঘাতে গুরুতর আহত সিওমেকের আফসারা তাসনিম মম

ছিনতাইকারীর ছুরিঘাতে গুরুতর আহত সিওমেকের আফসারা তাসনিম মম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আফসারা তাসনিম মম। গতকাল শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

তাৎক্ষণিকভাবে একজন বয়স্ক লোক তাকে আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার অস্ত্রোপচার হয়।

তার স্বামী চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্টের লেকচারার ডা. তানভীর চৌধুরী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ছুরিকাঘাতে আফসারা তাসনিম মমর মুখ ও দুই হাত জখম হয়েছে। তবে অপারেশনের পর তার অবস্থা কিছুটা ভালো। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।’

আফসারা তাসনিমের বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে। তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শির্ক্ষাথী।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। আহত ইন্টার্ন চিকিৎসকের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়ার পাশাপাশি রক্ত প্রদানসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।

মমর ব্যাচমেট ইমাম হোসেন মামুন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘একজন বান্ধবীকে গাড়িতে তুলে দিয়ে হলে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয় আফসারা তাসনিম মম। পরে একজন বয়স্ক লোক আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। প্রচুর রক্তক্ষরণে ভেইন কলাপ্স হয়ে যাচ্ছে তার। অপারেশন থিয়েটারে জরুরি ভিত্তিতে জেনারেল সার্জারি, অর্থোপেডিক সার্জারি ও নাক কান গলা বিভাগের স্যারদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে।’

ইমাম হোসেন মামুন আরও জানিয়েছেন, ছুরির আঘাতে হাত কেটেছে গভীরভাবে। মুখে জখম হয় এবং জিহ্বায়ও আঘাত লাগে।

ফেসবুকে নিজের টাইলাইনে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘মানুষ কতটা নৃশংস, জানোয়ারে পরিণত হলে আরেকজন মানুষকে এভাবে আঘাত করতে পারে তা মমর অবস্থা না দেখলে বুঝতাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাচমেট সকলের দোয়া ও ভালোবাসা আছে তোর জন্য। ডিউটিরত বন্ধু-বান্ধবীরা তোর জন্য রক্ত দিতে ছুটে গেছে। এই বীভৎস মানসিক অবস্থা নিয়ে আবার তাদেরকে ডিউটিতে ফিরে যেতে হবে। তবুও তারা তোর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। তুই ফিরে আয় আবার আমাদের মাঝে—এ দোয়া রইলো।’

ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক তারেক ইমন ওই পোস্টের কমেন্ট সেশনে বলেন, ‘সিলেটে ছিনতাইটা বেশি হয় মনে হলো। এর আগেও এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে শেষ করে দিল মাত্র ক’টা টাকার জন্য।’

এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে গোপালগঞ্জ মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজিরুম মুবিন ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে লিখেন, ‘সিলেট শহর নাকি ডিজিটাল শহর। প্রতি মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা। শহরের প্রতিটি নাগরিককে নাকি ট্রেস করা সম্ভব। এরপরেও দুই দিন পর পর একই জায়গায় ছিনতাই হয়। নিরপরাধ মানুষ আহত হয়, নিহত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৭ এর মার্চে একই জায়গায় মাহিদ মারা গেল ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে। আজ আবার ৫২ ব্যাচের এক মেয়ে গুরুতর আহত৷ আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখুন। দ্রুত সুস্থ করে তুলুন।’

সিলেট শহর এমন ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আব্বার ভাষ্যমতে নব্বইয়ের দশকে ছিনতাই কি এই শহরের মানুষ জানতো না। রাত দশটা এগারোটার সময় মহিলারা গহনা গায়ে কোনো অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফিরেছে। কোন ভয় ছিলো না৷আর এখন..., এই শহরটাও নষ্ট হয়ে গেলো।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত