ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৬ ঘন্টা আগে
০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৪০

অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে বদলি

অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমানকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে বদলি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. খলিলুর রহমানকে একই পদে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে একই প্রজ্ঞাপনে ঢাকার মাতুয়াইল শিশু মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গাইনি এন্ড অবস বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফরোজা কুতুবীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ওই কর্মকর্তারা আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবে। অন্যথায় ১১ অক্টোবরের বিকালে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন। 

এক নজরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দেশের প্রথম বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করা হয়। ২০২০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।যেখানে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সুবিধা থাকছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন চানখাঁরপুল এলাকায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের পাশে ১২ তলা ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ এ ৫০০ শয্যা, ৫০টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং ১২টি অপারেশন থিয়েটার থাকবে। ইনস্টিটিউটের তিনটি ব্লকে থাকবে বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং অ্যাকাডেমিক ভবন।

১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয়টি বেড নিয়ে বার্ন বিভাগ চালু করেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। অধ্যাপক সামন্ত লালের চেষ্টায় ২০০৩ সালে সেটি ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে কাজ শুরু করে।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ইউনিটের বেড বেড়ে প্রথমে ১০০ ও পরে ৩০০ হয়।

 চানখাঁরপুলের পুরনো টিবি হাসপাতালকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে ওই জমিতে ৫০০ শয্যার এই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় ওই প্রকল্প।

এসব বিষয় বিবেচনা করেই ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানের একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারা দেশের কয়েক লাখ পোড়া রোগীকে সেবা দিতে দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৬ সালের ৬ মার্চ এই ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছিল, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হন। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় হাজার ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৫২ জন সেই সেবা দিচ্ছেন।

নতুন এই ইনস্টিটিউট পুরোপুরি চালু হলে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১.৭৬ একর জমিতে এই ইনস্টিটিউট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫৩৪ কোটি টাকা।  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত