২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৮:৩৩ পিএম

বিনা দোষে জেল খাটা ডা. কফিল খান অবশেষে নির্দোষ

বিনা দোষে জেল খাটা ডা. কফিল খান অবশেষে নির্দোষ

মেডিভয়েস ডেস্ক: হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৬০ জনেরও বেশি শিশু মারা যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতের উত্তর প্রদেশের ডা. কফিল খানকে অবশেষে নির্দোষ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বিনা দোষে নয় মাস কারাবরণ করেছেন এ শিশু বিশেষজ্ঞ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. কাফিলের বিরুদ্ধে ওঠা চারটি অভিযোগের একটিও প্রমাণিত হয়নি। বরং ওই বিপর্যয়ের সময় সব থেকে বেশি অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এছাড়া দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোরও কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর বাবা রাঘব দাস মেডিকেল কলেজে (বিআরডি হাসপাতালে) একদিনে মারা গিয়েছিল ৬০ জনের বেশি শিশু। অক্সিজেনের অভাবে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে খবর বের হয়। পরে এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় এ ঘটনা ঘটায় চরম অস্বস্তিতে পড়েন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পরে এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ডা. কাফিল খানকে বরখাস্ত করেন তিনি। কিছুদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করে নয় মাসের জন্য জেল হেফাজতেও পাঠানো হয়।

এ সময় তার বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়। মূলত তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আক্রোশের শিকার।

যদিও আগস্টের ১০ তারিখ থেকে ওই হাসপাতালে টানা ৫৪ ঘণ্টা অক্সিজেন ছিল না। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না করায় নিজের টাকা খরচ করেই রোগীদের জন্য সিলিন্ডার এনেছিলেন ডা. কাফিল। এজন্য সারা দেশের মানুষ তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিল; কিন্তু কয়েকদিন পরেই উল্টো ওই ঘটনায় তার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে উত্তর প্রদেশ সরকার। নায়ক থেকে খলনায়ক বানিয়ে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এই চিকিৎসককে। 

এরপর এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত দাবি করেন ডা. কাফিল খান।

বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিমাংশু কুমার ১৫ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ডা. কাফিলের বিরুদ্ধে ওঠা চারটি অভিযোগের একটিও প্রমাণিত হয়নি। বরং ওই বিপর্যয়ের সময় সব থেকে বেশি অবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। এতে বলা হয়, দুর্নীতি, কাজে ফাঁকি, প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও চিকিৎসায় অবহেলা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনবি ওই বিপর্যয়ের সময় বাইরে থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসার আগে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্কটের বিষয়টি তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তাতে কেউ কোনো গুরুত্ব দেয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুমৃত্যুর ঘটনার অনেক আগেই ২০১৬ সালে প্রাইভেট প্র্যাকটিসও বন্ধ করে দিয়েছিলেন কাফিল খান। সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকার সময় প্র্যাকটিসও করেননি। এমনকি যে এনসেফালাইটিস বিভাগে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। তার দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না এ শিশু বিশেষজ্ঞ। তা সত্ত্বেও তার দিকে অযথা আঙুল তোলা হচ্ছে।

তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর কাফিল খান বলেন, ‘আমি সবসময় জানতাম যে আমি কোনও ভুল করিনি। সেই দুর্ভাগ্যজনক দিনে, একজন চিকিৎসক, পিতা এবং একজন সাধারণ ভারতীয় হিসাবে আমার যা করণীয় থাকতে পারে তাই করেছিলাম; কিন্তু তারপরও শিশুমৃত্যুর অভিযোগে আমাকে জেলে আটকানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করা হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে আমার চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। আজ আমি খুব খুশি। দুই বছর বাদে আমার পুরো পরিবারের জন্য সত্যি এটা খুব ভালো খবর। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তা প্রকাশ পেতে দু’বছর লেগে গেল। এজন্য এতদিন ধরে আমাকে খুনির তকমা নিয়ে চলতে হতো। আশা করি এবার সেটা মুছে যাবে। তবে এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্তি পাবো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উচিত ক্ষমা চাওয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ঘটনাটি সিবিআইয়ের তদন্ত করা।’

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও