ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১৩

দারিদ্র্যের জন্য কেউ যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

দারিদ্র্যের জন্য কেউ যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস ডেস্ক: বিশ্বে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যর কারণে কেউ যেন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। 

সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে একথা বলেন তিনি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে অনুষ্ঠানে কো-চেয়ার ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ইউএইচসি অর্জনের ক্ষেত্রে সম্পদের অপ্রতুলতা বিভিন্ন দেশের জন্য যে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ অর্জনের জন্য সাধারণ লক্ষ্যে পৌঁছানোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরের দেশগুলোর সহযোগিতাই মূল বিষয়।”

এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি দেশের অর্থায়নের কৌশল কী হবে, তা ঠিক করতে কার্যকর অংশীদারিত্বের উপর জোর দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের ৮০ ভাগ কাজ প্রাথমিক স্তরেই পূরণ করা সম্ভব। তাই শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে তা সংক্রামক এবং অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধের প্রথম প্রাচীর হিসেবে কাজ করবে।  

এক্ষেত্র বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে প্রত্যন্ত এলাকায়ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে আমরা ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তুলেছি।

“প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন স্বাস্থ্যসেবা নেয়, এর ৯০ শতাংশই নারী ও শিশু। এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রতি মাসে ১ কোটির বেশি মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নেয়।”

সাম্যতার ভিত্তিতে সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আর্থ-সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত লোকেরা প্রায়ই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে ভিড়তে পারে না। যার ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে অসমতা সৃষ্টি হয়।

“স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অসমতা দূর করতে পারে ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ’, যার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় করতে গিয়ে কোনো পরিবারই যেন দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত না হয়, সে বিষয়টিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “২০১৫ সালে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের সময় আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, প্রতিটি ব্যক্তি ব্যক্তি, প্রতিটি গোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নিশ্চিত করা হবে।”

সে লক্ষ্যে অগ্রগতি থাকলেও এখনও যে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না, তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

“স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় করতে গিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ে যায়। ৮০ কোটি মানুষকে তাদের পারিবারিক খরচের কমপক্ষে ১০ শতাংশ বা তারও বেশি ব্যয় করতে হয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায়।”

বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, অগ্রগতির ক্ষেত্রে কেবল প্রবৃদ্ধি ও সম্পদ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, যদি না সম্পদের অধিকার ও বিতরণ সঠিক ও যথাযথ হয়।

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে প্রত্যেকেরই সুস্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনের অধিকারী হওয়ার কথা যে বলা আছে, তাও বিশ্ব নেতাদের মনে করিয়ে দেন তিনি।

এই প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাশেলে, ম্যালেরিয়া নির্মূলে বিশ্বে নেতৃত্বে দেওয়া মাহা তায়সির বারাকাত, অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়নিমা, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেফরি স্যাকস প্রমুখ।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আট দিনের সরকারি সফরে রোববার নিউ ইয়র্ক পৌঁছার পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম কর্মসূচি।

সোমবার বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) তাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করবে।

আর জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ ২৬ সেপ্টেম্বর ‘অ্যান ইভনিং টু অনার হার এক্সিলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ৭৪তম বার্ষিক সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত