ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫৬

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি চান পল্লী চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নির্ধারিত কিছু কোর্স সম্পন্ন করেই নিবন্ধিত চিকিৎসকের মর্যাদা চাচ্ছেন পল্লী চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে পল্লী চিকিৎসকদেরকে নিবন্ধন করে দিতে হবে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন গ্রেডের যেকোনো একটা গ্রেডে তাদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পল্লী চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি আয়োজিত সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছে তারা। 

চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতিসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরে তারা বলেন, ‘আমরা সরকার কর্তৃত নির্ধারিত কোর্স করেছি, আমাদের সার্টিফিফিকেট আছে। আমরা তো সরকারিভাবে কোনো বেতন-ভাতা দাবি করছি না। আমরা শুধুমাত্র চাই একটু সম্মান, একটা স্বীকৃতি।’ 

সমাবেশে ২০০১ সালে পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ দফা ঘোষণার আলোকে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই পল্লী চিকিৎসকরা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সে সময় যদি এই পল্লী চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা না দিতেন, তাহলে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসার অভাবে মারা যেতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে পল্লী চিকিৎসকদের এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপদেষ্টা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সভায় তিনি পল্লী চিকিৎসকদের দাবিগুলো মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, অপসোনিন ফার্মা লিমিটিডের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মোমেন তালুকদার, বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সহ-সভাপতি হাকীম মো. আবু ইউসুফ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশে পল্লী চিকিৎসকদের অবদান অনেক। দেশে চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে তারা গ্রামের সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছেন। তবে তাদেরকে নিজেদের অবস্থান মনে রাখতে হবে। সব রোগের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। উপজেলা বা জেলা হাসপাতালেও সব রোগের চিকিৎসা হয় না। তাই যতটুকু সম্ভব হয় করবেন, অন্যথায় রেফার করে দিবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর পল্লী চিকিৎসকদের দাবিগুলো তুলে ধরার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে আপনাদের পড়াশোনা করতে হবে। ডাক্তারদের কাছে যেতে হবে, মিশতে হবে, তাদের কাছে থেকে শিখতে হবে। আপনারা যত বেশি পড়াশোনা করবেন, ততবেশি জানবেন এবং সাধারণ মানুষের সেবা করবেন। আপনাদের মানোন্নয়নের মাধ্যমে যেন এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়।’

পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি মো. সবুজ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। একইসঙ্গে চিকিৎসকরাও গ্রামে যায় না। এ অবস্থায় পল্লী চিকিৎসকরা গ্রামে অবস্থান করে চিকিৎসা না দিলে রোগীরা কোথায় যেত? তারা তো অসুস্থতায় বিনা চিকিৎসায় মারা যেত।’

সমাবেশে উপস্থাপিত ৫ দফা দাবিগুলো হলো: 

১. পল্লী চিকিৎসকদের পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য নির্মিত ১টি করে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে পল্লী চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

৩. রাজধানী ঢাকায় পল্লী চিকিৎসক সমিতির অফিসের জন্য জমি বরাদ্দ করে দিতে হবে।

৪. ইপিআই কার্যক্রমে পল্লী চিকিৎসক সমিতির সদস্যগণ যাতে সহযোগিতা করতে পারেন, এই ব্যাপারো প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. এ বিপুল সংখ্যক পল্লী চিকিৎসককে জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত