ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩২

জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২শ’ শয্যায় উন্নীত

জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১২শ’ শয্যায় উন্নীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত ও সেবা চালু করণে অনুমতি প্রদান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখা-৬ এর যুগ্ম সচিব হাবিবুন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়। 

পত্রে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০০ হতে ১২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও চালু করণে অর্থ বিভাগের অনাপত্তি নির্দেশক্রমে জ্ঞাপন করা হলো। 

এ সংক্রান্ত প্রচলতি নিয়মকানুন ও বিধিবিধান অবশ্যই পালন করতে হবে চিঠি শর্তারোপ করা হয়েছে।

কবে নাগাদ কাজ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম রসুল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘১২০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে অনুমোদন পেয়েছে। এখন এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এটি হলে আগামী মাস থেকেই আমরা এর কার্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯২ সালে ৫০০ শয্যার এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০২ সাল থেকে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। ৫০০ শয্যার হলেও প্রতিনিয়ত এখানে ১২শ’-১৪শ’ রোগী ভর্তি থাকে। গত বছর মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করি, সরেজমিন তদন্ত করে এ নিয়ে একটি কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করি। এবং হাসপাতালের উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ আমরা একটি পরিকল্পনা দিই। এর মধ্যে ছিল: ২০২০ সালের মধ্যে হাসপাতালটি ১৫শ’ শয্যায়, ২০২৫ সালে ২০০০ শয্যায় এবং ২০৩০ সালে এটিকে ২ হাজার ৫শ’ শয্যায় উন্নীত করণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩/৪ মাস আগে মন্ত্রণালয়ে একটি দল পরিদর্শন করেছে।  এরই ধারাবাহিকতায় আপাতত হাসপাতালটি ১২শ’ শয্যায় উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

আইসিইউ ইউনিট চালুসহ হাসপাতালের উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের এক পাশে চারতলা এবং অন্য পাশে পাঁচতলা ভবন ছিল। গত বছর একটি বাজেট অনুমোদনের মাধ্যমে এটি সাততলা করা হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের এ কাজ এখনো চলমান আছে। ষাটভাগ কাজ প্রায় শেষ। এটি ১০তলা করার জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫০ শয্যার নতুন একটি ডায়ালাইসিস ইউনিট খুলতে যাচ্ছি। এটি অনুমোদন হয়ে গেছে। এ বছরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। সামনের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, উত্তরবঙ্গে যতগুলো মেডিকেল কলেজ আছে, তার মধ্যে বগুড়া মেডিকেল কলেজ যন্ত্রপাতির দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ। গুরুতর রোগ—যেমন: ক্যান্সারের সেবা, ক্যান্সারের চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস, রেডিও ইমেজিংয়ের জন্য বগুড়া মেডিকেলের কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যতটা সচল অন্য কোথাও এতটা নেই। এ কারণে রাজশাহী, রংপুর, বৃহত্তর পাবনা, সিরাজগঞ্জ—এসব এলাকার রোগী এখানে আসে। এমনকি কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট থেকেও রোগীরা বগুড়ায় চলে আসে। কারণ ওখানে ক্যান্সারের চিকিৎসা পাওয়া যায় না। বগুড়ায় প্রচুর ক্যান্সারের রোগী আছে, যারা চিকিৎসা পাচ্ছে। ডায়ালাইসিসের রোগীরা আসছে। যন্ত্রপাতিগুলো সচল থাকার সুবাদে সেবাটা দেওয়া যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবা প্রদানের কাজ একসঙ্গে চালানো এবং সেবার মান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জের। তবুও যতটুকু সম্ভব হচ্ছে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মানুষ সেবা পাচ্ছে এটাই বড় কথা।’

►অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত