ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫৪

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে চিকিৎসা নেয়। সুস্থ হলে আবার চিকিৎসকদেরই গালমন্দ শুরু করেন।

কিছুদিন আগে দেখলাম একজন লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গারা লাখ লাখ বাচ্চার জন্ম দিয়েছে সিজার ছাড়া। সুতরাং গাইনির ডাক্তারদের সেখানে পাঠিয়ে ট্রেনিং দেয়া হোক।’

গণতান্ত্রিক দেশ তাই এসব কথা বলতেই পারেন। যা খুশি লিখে নিজেকে মহা পণ্ডিতও ভেবে গ্যাসের ওষুধও খেতে পারেন। 

কিন্তু কথা বলতে হয় তথ্য উপাত্ত দিয়ে। তাদের জানা উচিত সিজারের কল্যাণে এদেশে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমে এসেছে। যেভাবে বিজ্ঞানীদের অশেষ অবদানে গুটি বসন্ত ও কলেরা পৃথিবী থেকে দূর হয়েছে। 

একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে প্রতি লাখে প্রায় ৬০০ মা মারা যেতো বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে। ১৯৯০ সালে মারা যেত প্রায় ৫৭৪ জন। ১৯১৪ সালে নেমে আসে মাত্র ১৭০ জনে। 

বর্তমানে আরও অনেক কমে এসেছে। আধুনিক মায়েরা তো সিজার ছাড়া বাচ্চা হওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারেন না। এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই ডাক্তারকে সিজারের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। 

তবে কারণ ছাড়াই সিজার করেন কিছু অসৎ ডাক্তার। এ অনৈতিক আয় দিয়ে তারা অর্থনৈতিকাভাবে হয়তো সমৃদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু সেই কালো টাকা নিয়ে তারা যে খুব সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করে থাকেন, তা মোটেও নয়। 

তবে সত্য ও বাস্তব চিত্র হলো, কখনো প্রয়োজনে এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুরোধের কারণেই সিজার হয়। যাই হোক, এতে যে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ থাবা থেকে বিশ্ব সুরক্ষা পেয়েছে তা কি আজ দৃশ্যমান নয়?

সিজারের কল্যাণে মাতৃমৃত্যুর হার কমানোতে আমাদের দেশ সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে। যার কৃতিত্ব অবশ্যই চিকিৎসকদের দিতে হবে।  

সুতরাং ভারত বা থাইল্যান্ডে গিয়ে বেশ কিছু রুপি বা বাথ খরচ করে এদেশে এসে ডাক্তারদের দুর্নাম করে আখেরে লাভ হবে না।

আমরা মনে করি, এ দেশের চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের বিরাট সাফল্য এসেছে। সুতরাং ইমারজেন্সি চিকিৎসাও এই দেশেই নিতে হবে। 

আরেকটি কথা ভুলে গেলে চলবে না। তা হলো: ভালো ব্যবহার বা কথাবার্তা দিয়ে মানসিক রোগ ভালো হতে পারে কিন্তু হৃদরোগ বা ক্যান্সার ভালো হবে না। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত