ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৩৫

এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ১১ অক্টোবর

এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ১১ অক্টোবর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এমবিবিএস কোর্সে ২০১৯-২০২০ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কেম এম আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষে এমবিবিএস কোর্সে সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১১ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য বিষয় ও শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।  

এর আগে গত ১৯ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমবিবিএস কোর্সে ২০১৯-২০২০ শিক্ষা বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ অক্টোবর। 

পরবর্তীতে চলতি মাসের পাঁচ তারিখ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ও হলরুম প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দিনক্ষণ পরিবর্তন হতে পারে বলে জানানো হয়।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৪ অক্টোবরের আগে-পরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা পালিত হবে। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ওইদিনের অনুষ্ঠিতব্য এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। আর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ৪ অক্টোবরের পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কোনো ধরনের জটিলতা না থাকলে ১১ অক্টোবর পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সবার জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র:

এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সব পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা সেটের প্রশ্ন প্রণয়ন করা হবে। কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। তাই এবারের প্রশ্ন প্রেসে ছাপা হবে না। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও প্রিন্ট দেয়ার সময় দায়িত্বশীল কয়েকজন ছাড়া বাইরের কোনো লোক থাকবে না। প্রশ্নফাঁস এড়াতে এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে বলে জাগো নিউজের খবরে বলা হয়েছে। ডেন্টাল, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ভর্তি পরীক্ষায়ও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র প্রেসে ছাপানোর বদলে প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি ও প্রিন্ট দেয়া হবে। এরই মধ্যে ডেন্টাল, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ভর্তি পরীক্ষায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলতা এসেছে। গত বছর এমবিবিএস পরীক্ষা এ পদ্ধতিতে নেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রেসেই প্রশ্নপত্র ছাপা হয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হলে বাইরের কমপক্ষে ১০-১৫ জন লোক ছাপা, বাঁধাই ও সেলাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করা সত্ত্বেও তাদের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এ সব কারণেই তারা প্রেসের বদলে কম্পিউটার সফটওয়্যারে প্রশ্নপত্র ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র ছাপার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগে প্রতি বছর চার সেট প্রশ্ন প্রণয়ন করা হতো। চার সেট প্রশ্ন ভিন্ন হলেও যেকোনো একটি সেটের প্রশ্ন ও উত্তর একই হতো। কিন্তু এ বছর প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য এক সেট প্রশ্ন ছাপা হবে। ১০০টি প্রশ্ন একই থাকলেও এক পরীক্ষার্থীর এক নম্বর প্রশ্ন অন্য পরীক্ষার্থীর ৯৯ নম্বরে থাকতে পারে। বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন হবে।

প্রসঙ্গত, পূর্বঘোষিত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা সামনে রেখে গত ২৭ আগস্ট থেকে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আবেদনপত্র গ্রহণ। ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে।

কোচিং সেন্টার বন্ধ:

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের জন্য এক সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে সব ধরনের মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রেসে প্রশ্ন ছাপার বদলে কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণীত হবে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রেসে প্রশ্ন না ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দেখা গেছে, অধিকতর স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে অল্প সময়ে প্রশ্নপত্র ছাপা যাবে। প্রশ্নপত্রও হবে ভিন্ন ভিন্ন। বড় কোনো জটিলতা দেখা না দিলে এবার এমবিবিএসের প্রশ্ন প্রেসে ছাপা হবে না।

►সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত