ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:৩৫

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

মো. মনির উদ্দিন: কুমিল্লা জেলার সেরা মেডিকেল অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. আবুল ফরহাজ খান। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। 

ডা. আবুল ফারজান খানের বাড়ি কুমিল্লার সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গামে। তাঁর আব্বা আবুল বাশার খান একজন ব্যবসায়ী। মা নুরুন্নাহার খানম একজন গৃহিনী। 

তিনি ২০০৩ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০০৫ সালে রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে জিপিএ ফাইভ নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 

একই বছর রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এবং ২০১২ সালে এমবিবিএস পাস করেন। পরে ২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে যোগ দেন ডা. আবুল ফরহাজ। 

স্বাস্থ্য খাতে অবদানের সার্বিক দিক বিবেচনায় তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে জানিয়ে তরুণ এ চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘হাসপাতালে বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চান্দিনা উপজেলায় রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও ডেঙ্গু। রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে নিজের অবস্থান থেকে আমি চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি হাসপাতালেও রোগী ও স্বজনদের সচেতন করে যাচ্ছি। বিশেষ করে গত ঈদে ছুটি না নিয়ে একটানা তিন দিন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছি। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে প্রায় ৩০/৪০ জন হাসপাতালে আসেন। তখন আমি একাই এতগুলো রোগী ম্যানেজ করেছি। এসব দিক বিবেচনায় হয়তো আমাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।’

পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩৪তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ স্বীকৃতির কারণে দায়িত্ব বেড়ে গেলো। ভবিষ্যতে যেন আরও ভালো সেবা দিতে পারি—এই দায়বদ্ধতা তৈরি হয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করবো, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। নিজেকে আরও নিবেদিত করার চেষ্টা করবো।’

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতায় যেতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে বোঝানো ও কাউন্সিলিংয়ে নজর দেওয়া জরুরি। রোগীর পুরো অবস্থাটা তাদের জানানো; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি কোন চিকিৎসা দিচ্ছি—এই বিষয়গুলো জানানো। এ জায়গাটায় আমি কাজ করতে চাই। আমি চাই, শিক্ষার্থীরা যেন এ বিষয়টা কলেজ জীবনেই জেনে যায়। চিকিৎসা সবাই দিতে পারেন, কিন্তু আমি বাড়তি যেটা করি, তাহলো: রোগী ও তার স্বজনদের বুঝাই, যারা রোগীকে নিয়ে খুবই আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন থাকে। এর মাধ্যমে তারা সান্ত্বনা পায়। নবীন চিকিৎসকদের মনে বিষয়টি জাগিয়ে দিতে পারলে এবং এ জায়গাটায় উন্নয়ন ঘটাতে পারলে সারাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হবে।’ 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন অফিসের এমওডিসি ডা. নাজমুল হাসান।  

এছাড়া কমিল্লার সকল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (ইউএইচএফপিও) ও এমওডিসিগণ উপস্থিত ছিলেন। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত