ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২ ঘন্টা আগে
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৭

ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়া শেফালীর দায়িত্ব নিলেন ডিসি

ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়া শেফালীর দায়িত্ব নিলেন ডিসি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে স্তন ক্যান্সারের অজুহাতে স্তন কেটে ফেলা সেই শেফালী আক্তারের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঈনউল ইসলাম। মেডিভয়েসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর ডিসির নির্দেশে শেফালীকে এনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেকে) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় শনিবার রাত ৯ টায় ওই হাসপাতালের ১০ নং সার্জারি বিভাগে তিনি ভর্তি হন।

জানা গেছে, ৭ এপ্রিল খালিয়াজুরী উপজেলার পাঁচহাট গ্রামের বিধবা শেফালী আক্তার (৩২) বুকে ব্যথা নিয়ে স্থানীয় ইকবাল হোমিও হলের চিকিৎসক মানিক তালুকদারের কাছে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, তার স্তনে টিউমার হয়েছে, যা অপারেশন করাতে হবে। ২০ হাজার টাকায় অপারেশন করে দেয়ার কথা বলে তিনি শেফালীকে টাকা সংগ্রহ করতে বলেন। কয়েক দিনের মধ্যেই শেফালী টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে গেলে ব্লেড দিয়ে স্তনের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলেন ওই গ্রাম্য হাতুড়ে চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় দু’মাস আগে এ ঘটনা ঘটে। শেফালি আক্তার অর্থাভাবে কাটা স্তনের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি জেনে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন তার চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাকে শনিবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসক মানিক তালুকদারকে (৪৫) পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পাঁচহাট বাজারের ইকবাল হোমিও হল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মানিক তালুকদার মদন উপজেলার কাতলা গ্রামের আমির উদ্দিন তালুকদারের ছেলে। পাঁচহাট গ্রামের ভুক্তভোগী এক নারী তার বিরুদ্ধে খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। আজ মঙ্গলবার তাকে নেত্রকোণা আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল পাঁচহাট বাজারের ইকবাল হোমিওতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান ওই নারী। এ সময় তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। সেই রোগ সারানোর জন্য ওই নারীকে অজ্ঞান করেন মানিক। পরে সার্জিকাল ব্লেড দিয়ে তার বাম স্তন কেটে ফেলেন।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, মানিক একজন ভুয়া চিকিৎসক। তাকে গ্রেপ্তারের পরও নিজেকে একজন হোমিও চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র দেখতে চাইলে তিনি সেগুলো দিতে পারেননি। এতদিন তিনি মা ও শিশু, চর্ম, যৌন সার্জারি বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত