ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৯, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


আতঙ্কিত হবেন না: সব কোলেস্টেরল ক্ষতিকর নয়

মফিজ সাহেব দ্বিতীয়বার যখন আমার চেম্বারে আসলেন, তখন তাকে চেনা দায়। এক কঙ্কালসার দেহ। ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না। কথা বলার শক্তিটাও যেন হারিয়ে গেছে। আমি হাঁ করে তাকিয়ে আছি। বললাম- আপনার এই অবস্থা কেন? জবাবে বললেন- আমারতো সবকিছুই খাওয়া নিষেধ। তারপর আমাকে দেখালেন তার ছুটির কাগজে দেয়া সিল, গরু, খাসি, ডিম, ঘি, চর্বি, মাখন, দুধের সর, কলিজা, মগজ, অস্থিমজ্জা নিষেধ।

আমিই ওনাকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম, ওনার হার্টের ভালভে বেলুন করার জন্য। হার্টের ভালভ নষ্ট (সংকুচিত) হয়ে গেলে এমনিতেই খাবার রুচি চলে যায়। রোগী শুকনো চিকনা থাকে। তারমধ্যে এত এত নিষেধাজ্ঞা থাকলে শরীরটাতো চালিয়ে নেয়াই মুশকিল।

তাকে ভুল করে এই সিল দেয়া হয়েছে। হার্টের রক্তনালী ব্লকের রোগীর সিল ভালভের রোগীকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। রোগীও নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলছেন।

আসলেই কোলেস্টেরল আমাদের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। তাহলে এটার কি কোনই উপকারিতা নেই?

জেনে নেয়া যাক কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা-

মানব দেহ তৈরী হয়েছে এক একটা কোষ সাজিয়ে। কোষগুলোকে বিল্ডিংয়ের একেকটা ইটের সাথে তুলনা করা যায়। প্রায় চল্লিশ ট্রিলিয়ন সেল দিয়ে তৈরি হয়েছে মানব দেহ। এই সেলের ওয়াল তৈরি হয় কোলেস্টেরল দিয়ে।

১. দেহের বিভিন্ন হরমোন তৈরি হয় এই কোলেস্টেরল দিয়েই। যেমন- ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন, এড্রেনাল হরমোন।

২. ভিটামিন ডি তৈরি হয় কোলেস্টেরল দিয়ে।

৩. নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হয় কোলেস্টেরল দিয়ে।

৪. কোলেস্টেরল বেশি কমে গেলে এতসব প্রয়োজনীয় উপাদান সৃষ্টি ব্যহত হয়।

৫. কোলেস্টেরল বেশি কমে গেলে ব্রেইনের রক্তনালী ছিড়ে স্ট্রোক হতে পারে।

৬. এর অভাবে সেক্স হরমোন কমে যেতে পারে।

৭. চিন্তাশক্তি কমে যেতে পারে। বিষন্নতা দেখা দিতে পারে। আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

তাছাড়া সব কোলেস্টেরলই খারাপ নয়, কিছু ভালো কোলেস্টেরলও আছে। যেমন- এইচডিএল। যাকে বন্ধু কোলেস্টেরল বলা হয়। এটা হার্ট থেকে চর্বি বের করে আনে।

সুতরাং ঢালাওভাবে সব খাবার বাদ দিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইদানিং অনেক নিরামিষভোজী আসছেন হার্ট অ্যাটাক নিয়ে। গরু, ছাগল কখনো একটা মাংসের টুকরো বা একটু চর্বিও খায়নি অথচ তাদের শরীরে কত চর্বি!

মেডিকেল সায়েন্স এতদিন পর আবিষ্কার করেছে কোলেস্টেরল তৈরীতে খাবারের ভুমিকা মাত্র ২০%, বাকি ৮০% ভিতরের কারসাজি।

বংশগতি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই বলে চিন্তামুক্ত থাকা, মাত্রাতিরিক্ত ও অখাদ্য খাওয়া বর্জন করা, ট্রান্সফ্যাট বর্জন করা, কায়িক পরিশ্রম করা এগুলোতো আমরা করতে পারি। তবে অবস্থা বুঝে কাউকে কাউকে চর্বিযুক্ত খাবারও বাড়িয়ে দিতে হবে। মফিজ সাহেবকে খাবার বাড়িয়ে দেয়াটাই দরকার ছিল।

সর্বোপরি, কোলেস্টেরলের ভয়ে আতঙ্কিত হবার প্রয়োজন নেই। হালাল সব খাবারই খেতে হবে, তবে পরিমিত, ব্যলেন্স ডায়েট।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

কেরামত মোল্লা সারারাত সোজা হয়ে বসে কাটিয়ে দেন। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ, ঘুমাতে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস