০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৫:২৭ পিএম

ডেঙ্গুতে জীবন গেল দেশের ১ম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা সিরাজুলের  

ডেঙ্গুতে জীবন গেল দেশের ১ম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা সিরাজুলের  

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেশের প্রথম লিভার প্রতিস্থাপনকারী সিরাজুল ইসলাম (২০) মারা গেছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া আজ রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মেডিভয়েসকে তার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘সিরাজুল ইসলাম লিভার প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। সেখানে অবস্থানকালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঈদের সময় বিএসএমএমইউতে নিয়ে আসা হয়। ঈদের সময় আমরা ডেঙ্গু নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখানের আনার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলেটি মারা যায়।’

তার চিকিৎসায় বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা একদিন সময়ও পাননি উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তাকে দুপুরের দিকে নিয়ে আসা হয়েছেলি আর রাত্রি বেলায় সে মারা যায়।  

ডেঙ্গুতে মারা যাওয়ার বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর পরীক্ষাগুলো নিয়ে এসেছে। সেখানে ডেঙ্গুর ডায়াগনোসিস ছিল। পরে বিএসএমএমইউতে আসার পর আমরা আবার ডেঙ্গুর টেস্টগুলো করি। রিপোর্টে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।’

ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মায়ের দান করা লিভারের একাংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ছেলেটি প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ডেঙ্গুর কাছে সে হেরে গেলো।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন বিএসএমএমইউর হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. জুলফিকার রহমান খানের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো লিভার প্রতিস্থাপনে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ২০ বছরের যুবক সিরাজুলের দেহে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগে এ সফল অস্ত্রোপচার করা হয়।

লিভার প্রতিস্থাপনে সহযোগিতা করেন ভারতের খ্যাতনামা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ড. বালাচন্দ্র মেনন ও তার চিকিৎসকদল। ২৪ জুন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়। রোগীকে প্রথমে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। মোট ৬০ জনের টিম ঐতিহাসিক অস্ত্রোপচারে অংশ নেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত