০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২৭ পিএম

এবার খুলনায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত, আটক ২

এবার খুলনায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত, আটক ২

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরগুনার বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক লাঞ্ছিতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এবার খুলনায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে। নগরীর খালিশপুর ক্লিনিকে রিপন (২৪) নামে এক পলিটেকনিক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় রোগীর স্বজনরা মরদেহসহ কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর ও জোর করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘঠে। পরে খুমেক হাসপাতাল থেকে কায়েস ও কৌশিক নামে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, নগরীর মুজগুন্নী শেখ পাড়া এলাকার বাসিন্দা শওকত সর্দারের ছেলে ও সিটি পলিটেকনিকের ছাত্র রিপন সর্দারকে (২৪) বুকে ব্যাথা অনুভব করায় রাত ১২টার দিকে খালিশপুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রিপনের মৃত্যু হয়। এতো অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যুতে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসককে মারধোর করে চিকিৎসকসহ রিপনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানেও রোগীর স্বজনরা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে সেখান থেকে কায়েস ও কৌশিক নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে খালিশপুর ক্লিনিকের মালিক ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পরে একটা রোগী আসে বুকে ব্যাথা নিয়ে। তাকে সম্ভাব্য সব চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজাউদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অস্ত্রের মুখে খুমেক হাসপতালে নিয়ে যায়। সে গুরুতর অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক ওয়ালে ডা. সুজাউদ্দিন সুজার উপর নির্যাতনের বিষয়ে একটি মন্তব্য করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন,ডা. সুজাউদ্দিন সুজা। খুলনা মেডিকেলে আমাদের প্রাক্তন ছাত্র। সে ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি। ইন্টার্ন হিসাবে সে অত্যন্ত সিনসিয়ার হওয়ায় আমার খুব প্রিয় ছাত্র ছিল।

তিনি আরও লিখেছেন, গতকাল খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে। পরে তাকে রাতেই হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে সারারাত নির্মম ভাবে শারিরীক নির্যাতন চালায়। পরে ভোর পাঁচটায় সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

হামলাকারিরা সবাই রাজনৈতিক পরিচয়ধারি প্রভাবশালী। ফলে বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য বলে জানান তিনি।

তিনি লিখেছেন, গতকয়েক মাসে চিকিৎসকদের প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ে ঢালাওভাবে বিরূপ বক্তব্য এবং ব্যবস্থা গ্রহনের ফলে চিকিৎসকরা এখন দেশের সবচাইতে অসহায় প্রাণী।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমতাজুল হক বলেন, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও জিম্মি করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য কায়েস ও কৌশিক নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত