কমপাউন্ডার ওসমান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হলেন যেভাবে 


মেডিভয়েস রিপোর্ট: মো. ওয়াসিম ওসমান ওরফে সৈয়দ ওসমান গণি—চিকিৎসকের কমপাউন্ডার (সাহায্যকারী) হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর ফার্মেসি দিয়ে শুরু করেন ওষুধের ব্যবসা। এ পথে কিছুদিন যেতে না যেতেই চিকিৎসক সেজে ডাক্তারি শুরু করেন তিনি। নিজের নামের সঙ্গে যোগ করেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। এজন্য প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে ফি নিতেন এই ভুয়া চিকিৎসক।

এভাবেই চিকিৎসক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। মো. ওয়াসিম ওসমান সন্দ্বীপ উপজেলা কুচিয়ামোড়া এলাকার আবুল উল্লাহর ছেলে।

গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহরে তার শাপলা আবাসিক সন্দ্বীপ জনতা ফার্মেসিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাকে আটকের পর দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মাঈনুদ্দীন আল মাসুদ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম বলেন, মো. ওয়াসিম ওসমান নিজেকে ডা. সৈয়দ ওসমান গণি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীর চিকিৎসা করে আসছেন। ৩০০ টাকা ফি নিতেন।

‘তার কাছ থেকে জব্দ করা প্যাডে সে নিজেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং মেডিসিন অভিজ্ঞ পরিচয় দিয়েছেন। তবে তার কাছে চিকিৎসক পেশার কোনো সনদ পাওয়া যায়নি’, যোগ করেন মো. আশরাফুল আলম।

জিজ্ঞাসাবাদে নিজের চিকিৎসা পেশার সনদ নেই বলে স্বীকার করে স্বাস্থ্য বিষয়ে ডিপ্লোমা রয়েছে বলে জানান। তবে ডিপ্লোমার কোনো সনদও দেখাতে পারেননি তিনি।

মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ বলেন, মো. ওয়াসিম ওসমান চিকিৎসকের কমপাউন্ডার হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এরপর ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করেন। ওই ফার্মেসিতে সে ডাক্তার সেজে রোগী দেখতেন।