ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৬ ঘন্টা আগে
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪০

ডা. ইব্রাহীমের কীর্তি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডা. ইব্রাহীমের কীর্তি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট:  সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, অধ্যাপক ডা. ইব্রাহীম বাংলাদেশের একটা গর্বের নাম। তার রেখে যাওয়া কীর্তি আর অবদানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে অধ্যাপক ডা. ইব্রাহীমের ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও সেবা দিবসের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি ডা. ইব্রাহীম সমন্ধে অনেককিছুই নতুনভাবে আজ জানলাম। তার সমন্ধে কিছু বিষয় জেনে খুবই আশ্চর্য হয়েছি। আমি আশা রাখি তার এই কর্মময় জীবন ও তার অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবেন।

মন্ত্রী বলেন, ডা. ইব্রাহীম চাইলে নিজের জন্য অনেক কিছুই করতে পারতেন। কিন্তু নিজের জন্য কিছুই করেননি। তিনি যা করেছেন দেশের জন্য করেছেন, জাতির জন্য করেছেন। এরকম ডা. ইব্রাহিম যদি আজ আমাদের ঘরে ঘরে জন্ম নিতো, তাহলে গোটা দেশটাই পাল্টে যেত।

এসময় তার স্মৃতিচারণ করে বারডেমের সাবেক চিফ নিউট্রিশন অফিসার আখতারুন্নাহার আলো বলেন, একদিন রাত ৯টার দিকে এক রোগী এসে ভর্তি হলো, রাতের খাবার আগে দেয়ার ফলে তিনি আর খাবার পাননি। তারপর ইব্রাহিম স্যার তাকে দেখার সময় জিজ্ঞেস করলেন, সে খাবার পেয়েছে কিনা? সে অস্বীকার করলে রোগী দেখার পর স্যারের রুমে আমাকে ডেকে জানতে চাইলেন কেন সেই রোগী খাবার পায়নি?

আমি কারণ বলার পর স্যার বললেন, ‘তোমার বাসায় যদি কোন এ মুহূর্তে তুমি তাকে না খেয়ে রাখতে? সেই রোগীটাও আমাদের কাছে মেহমান। হয়তো সে বিপদে পড়েই আমাদের কাছে এসেছে।’ সে সময়টায় আমি খুবই অবাক হয়ে গেছিলঅম স্যারের প্রতি।

বারডেমের সাবেক চিফ নিউট্রিশন অফিসার আখতারুন্নাহার আলো আরও বলেন, স্যার সবসময় আমাদের আগেই হাসপাতালে চলে আসতেন। বারান্দায় বসে দেখতেন কে সঠিক টাইমে আসলো আর কে আসলো না। একদিন আমি ব্যক্তিগত একটা কাজের জন্য ১৫ মিনিট লেট করে আসলাম। এর ১০ মিনিট পরেই তিনি আমাকে সতর্ক করে একটা চিঠি পাঠিয়ে দিলেন। আর জরিমানা বাবদ আমার বেতন থেকে ১ টাকা কেটে নিলেন। এভাবে তিনি সবার থেকেই ১ মিনিটে ১ টাকা করে কেটে নিতেন। তার যে বিষয়টা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো, তা হলো- তিনি রোগীদের সামনে জুনিয়র ডাক্তারদের অনেক বড় করে পরিচয় করিয়ে দিতেন। বকা বা ঝাড়ি দিলে আলাদা ডেকে এনে সতর্ক করতেন।  

বারডেমের নেফ্রোলজি ও ডায়ালাইসিস বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল মনসুর বলেন, জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ও লক্ষ্য ছিলো— ‘কোনো ডায়াবেটিক রোগী দরিদ্র হলেও বিনা চিকিৎসায়, অনাহারে, বেকার অবস্থায় মারা যাবে না। তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।

অধ্যাপক ডা. আবুল মনসুর  আরও বলেন, আমি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ এখানে কাজ করছি, আর ডা. ইব্রাহীম স্যারের সাথে ১০ বছর কাজ করেছি। এটা যে আমার জন্য কতো বড় একটা ব্যাপার, তা বলে বুঝাতে পারবো না। আমরা যখন সেগুনবাগিচার টিনশেড হাসপাতালে কাজ করি, তখন আমাদের মাথার উপরের ছাদ ছিলো ডাক্তার ইব্রাহীম। তিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ পড়েই সকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে তিনি সেখানে চলে আসতেন। তারপর আবার দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আবার আসতেন হাসপাতালে। এসেই রোগীদের খোঁজখবর নিতেন। তার মতো এতো মানবসেবক আমি আর দেখিনি।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক জাফর এ লতিফ।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, বারডেম ও সমিতির অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় মরহুমের বনানীর কবর জিয়ারত, দোয়াপাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘর ও ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরের সামনে এবং এনএইচএন ও বিআইএইচএস -এর বিভিন্ন কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়াও বেলা ১২টায় বারডেমের বহির্বিভাগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, সমিতির অপর প্রতিষ্ঠান ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে হৃদরোগীদের জন্য বিনামূল্যে পরামর্শ ও সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত