০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:৪৮ এএম

অবশেষে প্রত্যাহার হচ্ছে দুই বছরের ইন্টার্নশিপ প্রস্তাবনা!

অবশেষে প্রত্যাহার হচ্ছে দুই বছরের ইন্টার্নশিপ প্রস্তাবনা!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের তীব্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের মুখে অবশেষে প্রত্যাহার করা হচ্ছে দুই বছরের ইন্টার্নশিপ প্রস্তাবনা। ১ সেপ্টেম্বর (রোববার) দিবাগত রাত ১টায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সেনাল তার ব্যক্তিগত আইডিতে দেয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, আমার তরুন চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, ২ বৎসর ইন্টার্নশিপের বিষয়ের নোটিশ আগামীকাল অফিস খোলার পর প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। আশাকরি উদ্ভুত পরিস্থিতির অবসান হবে।

এর আগে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সময়সীমা একবছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করার ব্যাপারে খসড়া নীতিমালা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে এই নীতিমালা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা। তাদের দাবি, এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এমবিবিএস ডিগ্রি শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পেতে একজন শিক্ষার্থীর কমপক্ষে সাত বছর সময় লাগবে। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কোনও কনসালটেন্ট থাকেন না, সেখানে শিক্ষার্থীদের শেখার মতো কিছু নেই। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এ ব্যাপারে গতকাল গণমাধ্যমকে দেয়া এক বক্তব্যে ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ইন্টার্নশিপ হচ্ছে কারিকুলামের একটি অংশ। আর কারিকুলাম তৈরি করে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিষয় নয়। আমার জানা মতে, বিএমডিসি এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তও গ্রহণ করে নাই এবং বিএমডিসি এ ব্যাপারে কোনও সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরকে করে নাই।

তিনি আরও বলেন, এটা মন্ত্রণালয় আলোচনা করেছে, কিন্তু তারা তো এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না, এটা করার অধিকার সংরক্ষণ করে বিএমডিসি। বিএমডিসি আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এদিকে, ইন্টার্নশিপ দুই বছর করার বিষয়ে প্রস্তাবনা বাতিল চেয়ে গতকাল (৩১ আগস্ট) বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে এ বিক্ষোভ করেন তারা। এতে অংশ নেন মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের সকল শিক্ষার্থী।

এ সময় খসড়া নীতিমালাকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তারা বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ডাক্তারি পেশায় আসতে নিরুৎসাহী হবেন। এতে দেশ বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ সময় ক্লাস থেকে নেমে এসে ‘দুই বছর ইন্টার্নশিপ মানি না, মানবো না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

তাদের হাতে ‘দুই বছর ইন্টার্নশিপ মানি না, মানবো না’, ‘দুই বছর ইন্টার্নশিপ প্রস্তাবনা বাতিল চাই’, ‘উপজেলায় আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে’, মেধাবীদের চিকিৎসা খাতে নিরূৎসাহিত করবেন না’ লেখা বিভিন্ন প্লেকার্ড দেখা যায়।

পরে অধ্যক্ষ বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানান তারা।

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি