ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৯, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মারুফ রায়হান খান

লেকচারার, ফার্মাকোলজি বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ, সাভার, ঢাকা।  


মেডিকেল সায়েন্সের মহাসমুদ্রে একা কতটুকু এগোনো সম্ভব!

আজকে আমাদের এক প্রিয় স্যার রাউন্ডের সময় বলছিলেন, তোমরা ইন্টার্নদের শেখাবে। কারণ, কে জানে তোমার কোনো ইমার্জেন্সি কন্ডিশানে রোগী হিসেবে তুমি ওর হাতেই পড়তে পারো। আমাদের হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট স্যার প্রায়ই বলেন, তুমি যত নলেজ মানুষকে দেবে, তোমার নলেজ ততো পোক্ত হবে। ওয়ার্ডে ভালো কোনো কেইস পেলে একজন আরেকজনকে ডেকে এনে দেখাবে।

মানুষ খুব অল্পদিন বাঁচে। গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকটি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আজ যিনি সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক তাকে হয়তো আমরা আর ৫০ বছর পর একটুও পাব না। এটা জগতের নিয়ম। তবে সত্ত্বাগত উপস্থিতি না থাকলেও জ্ঞানগত উপস্থিতি কিন্তু থাকা সম্ভব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। আজ আমার শিক্ষক আমাকে যা শেখাবেন আমি যদি আমার ছাত্রকে তা শেখাই, আমার ছাত্র যদি তার ছাত্রকে শেখায় তবে যুগ যুগ ধরে এক মোমবাতি থেকে আরেক মোমবাতি জ্বলতেই থাকবে।

মোমবাতি থেকে মোমবাতি জ্বালালে কখনও আলো কি কমে? কখনোই না। আমাদের কার্পণ্য কিসের? আর যে ভালো কাজগুলো মানুষকে উপকৃত করে সে ভালো কাজের লিগ্যাসি রেখে গেলে মৃত্যুর পরেও পুণ্যের খাতায় যোগ হতে থাকে অনবরত। এ সুযোগ কেন হেলায় হারানো?

কে জানে আজ আপনি যাকে শেখাচ্ছেন একদিন আপনি অনেক দূরে, আপনার বাবা-মা তার শরণাপন্নই হলো। উপকৃত কে হলো? আপনি একদিন বৃদ্ধ হবেন, মাথা-হাত হয়তো কাজ করবে না, আপনার সন্তানের চিকিৎসা কিন্তু আজ যে একেবারে নবীন-আনকোরা ডাক্তার সেই করবে। আপনার মতো দক্ষ আপনি আরও দশজনকে বানিয়ে যান। যাদের মাঝে আপনি বেঁচে থাকবেন। একজন ভালো মেন্টর পেলে একজন ছাত্রের জীবনই পালটে যেতে পারে।

আসুন না আমাদের যার যতোটুকু সাধ্য আছে তা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিই। আর মেডিকেল সায়েন্সের মতো মহাসমুদ্রে একার পক্ষে খুব বেশিদূর এগোনোও সম্ভব না যদি না কোনো শিক্ষক গাইড না করেন, কোনো বন্ধু-সহপাঠী বোঝার সহজ কোনো উপায় না বের করে দেন। একেকজন একেকটা ভালো বোঝেন, ভালো পারেন। একেকজন একেকটাতে দুর্বল। সম্মিলিত প্রয়াস দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়ক।

এই প্রেক্ষিতে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার সমস্ত শিক্ষকদের যারা এক অক্ষর হলেও আমাকে শিখেয়েছেন, শেখাচ্ছেন। আজকের যতোটুকু- তাদেরই অবদান। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেসব বন্ধু-সহপাঠীদের যারা আমাকে কঠিন সময়ে কঠিন পড়া সহজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পড়িয়ে দিয়েছেন, দিচ্ছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমি অতি যৎসামান্য যা জানি আমার ছাত্রদের শিখিয়ে দিতে চেষ্টা করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

স্রষ্টার সৃষ্টি বড় অদ্ভুত, মেডিকেল সায়েন্স পড়লে এটা ভাল বুঝা যায়। মাছের…

বদ লোকের গল্প!

বদ লোকের গল্প!

উপজেলায় নতুন তখন। সবাইকে ঠিকঠাক চিনিও না। হঠাৎ একদিন আমার রুমে পেট…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস