ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১২ ঘন্টা আগে
কামারুজ্জামান নাবিল

কামারুজ্জামান নাবিল

ছাত্র, ডক্টর অব মেডিসিন, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান


২৭ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:৫০

বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কথা এখনও স্মরণ করেন ইরানিরা

বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কথা এখনও স্মরণ করেন ইরানিরা

ইরানের দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত যাযাবর জনগোষ্ঠীকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য আমাদের দুই দিনের ক্যাম্প ছিল ইরানের ইস্পাহান শহর থেকে প্রায় ২০০ কি.মি পশ্চিমে চাদেগান নামক এলাকায়। যারা আবহাওয়ার কারণে কয়েক মাসের জন্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভ্রমণ করে থাকেন। এসব মানুষের মূল আয়ের উৎস কৃষিকাজ এবং গবাদি পশুপালন। এমন ৪ হাজার মানুষ এ এলাকার পাহাড়ের চূড়ায় অথবা কিনারায় অস্থায়ী বসতবাড়ি গড়েছেন।

আমাদের দুই দিনের ক্যাম্পের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০ জন। যাদের মধ্যে ছিল মেডিসিন, জেনিটিক্স, মহিলা ও শিশু, অর্থপেডিক্স, সাইকলোজি এবং ডেন্টাল চিকিৎসক। যাদের সহায়তায় ছিলেন একঝাঁক তরুণ মেডিকেল শিক্ষার্থী।

ইস্পাহান শহর থেকে আড়াই ঘন্টা পেরিয়ে গত বৃহস্পতিবার আমরা মূল গন্তব্যে পৌঁছালাম। ওখানে গিয়ে শুরুতে একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ৫জন করে মোট ৫টি টিমে বিভক্ত হই। তারপর তাবু গড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাদেগান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ী নিয়ে আমরা রওনা দেই।

এরপর সেবা প্রদানের মূল কার্যক্রমের প্রথম দিনের শুরু। আমাদের টিম প্রধান ছিলেন ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ডা. মেহেরদাদ জায়নালিয়ন। তার তত্ত্বাবধানে আমাদের চার জনের টিমের যাত্রা কয়েকটি প্রত্যন্ত পাহাড়ের ঢালে এবং চূড়ায় তাবুর মানুষদের কাছে। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন বয়সী লোকদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বয়স্কদের প্রেসার মেপে দেয়া, ডায়াবেটিস পরিমাপ করা, খাবারের আইটেম নিয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ফ্রি ওষুধ প্রদান ইত্যাদি।

প্রেসার মেপে দেবার সময় ডা. জায়নালিয়ন আমাকে সকলের সঙ্গে বাংলাদেশি বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এসময় পাশে বসে থাকা একজন বৃদ্ধ স্মরণ করছিলেন ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কথা। বলছিলেন সে সময় ইরানের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আসা চিকিৎসকরা কিভাবে তাদের সেবা প্রদান করেছেন। স্বদেশের চিকিৎসকদের সুনাম শুনে আমি আবেগে-আপ্লুত হয়ে যাই।

আমাদের টিমের কার্যক্রমের মধ্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি কিছু আয়োজন ছিল। শিশুদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন ও বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া ইত্যাদি। এরমাঝে অন্যতম ছিল বাচ্চাদের দাঁতের যত্ন নিতে ব্রাশ করতে উৎসাহিত করা এবং প্রায় ৫০০ জন শিশুকে বিনামূল্যে ব্রাশ ও টুথপেস্ট প্রদান।

আমাদের সঙ্গে অন্যান্য যে গ্রুপগুলো ছিল তাদের মধ্যে ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল ডিপার্টমেন্টের দুইজন ডেন্টিস্ট। যারা সে জনপদের মানুষদের দাঁতের চিকিৎসা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাইকলোজি চিকিৎসক ডাক্তার মুস্তাজেরান ও নিকবার মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত এই জনপদের মানুষদের সাইকলোজি চিকিৎসা দিয়েছেন। এছাড়াও ডাক্তার পোল ও ডাক্তার মাহশিদ সাদেকী বাচ্চাদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ইরানের ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘জিহাদে সালামাত’ নামক একটি সংস্থা নিয়মিতভাবে এমন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে যাচ্ছে বলে জানান -এ সংস্থার মুখপাত্র মেডিকেল শিক্ষার্থী এরফান মাজিদ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত