ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ২৫ মিনিট আগে
২৬ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:১৬

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬ হাজার ৫৭৬ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে বিএসএমএমইউ

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬ হাজার ৫৭৬ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে বিএসএমএমইউ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার ৫৭৬ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এদের মধ্যে ডেঙ্গু সেল চালু হওয়ার পর থেকে ২৫ আগস্ট (রোববার) সকাল ৮টা পর্যন্ত ১ হাজার ২১ জন ডেঙ্গু সেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। অন্যরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বাকি ৫ হাজার ৫৫৫ জন। যারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

রোববার (২৫ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু : বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক কেন্দ্রীয় সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মশা নিধনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, সাধারণ জ্বরের রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার এখন ১০ শতাংশের মতো। তারপরও ডেঙ্গু রোগীর আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে মশা নিধনে আরও তৎপর হতে হবে। সাথে সাথে সাধারণ জনগণকেও এডিস মশা কোথায় থাকে তা জেনে মশা নিধনের বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, যে সব মুমূর্ষু রোগী আইসিইউ, এইচডিইউ, সিসিইউর মতো ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকে সেখানে গভীর রাত বা ভোর রাতেও সমানভাবে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএসএমএমইউ থেকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, নিটোর, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক প্রেরণ করা হয়েছে।

সেমিনারে বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্ট ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. চৌধুরী আলী কাওসার, ন্যাশনাল গাইডলাইন ফর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু, অধ্যাপক ডা. কাজী তরিকুল ইসলাম।

এডিস মশার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। ডেঙ্গু ভাইরাসের নানা দিক নিয়ে বিশদভাবে তুলে ধরেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর জটিল পরিস্থিতি ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা এবং ব্যবস্থাপনার ওপর বিস্তারিত তুলে ধরেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ আরাফাত।

ডেঙ্গু পরীক্ষা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। শিশুদের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ে তুলে ধরেন শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কামরুল লায়লা। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. জিলন মিঞা সরকার। মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত