ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৯, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. শুভ প্রসাদ


লেখক, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ।


চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমান

হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানোর জন্য চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক, প্যাথোলজিস্টরা রাত দিন পরিশ্রম করছেন। এর মধ্যে যেই কয়জন মারা গেছেন, তার বড় একটা অংশ চিকিৎসক। গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন চিকিৎসক। চিকিৎসকরা অকুতোভয় হয়ে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে লড়াই করে যাচ্ছেন ডেঙ্গু আউটব্রেক মোকাবেলায়।

২০১০ এ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে এনকেফালাইটিসের একটা বাচ্চা এলো। তার নিউট্রিশন দিতে ন্যাসোগ্যাস্ট্রিক টিউব দিলেন ডা. কামরুল। তার পরদিন ডা. কামরুলের এনকেফাইলাইটিস হল। সম্ভাবনাময় একজন চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে গিয়ে মারা গেলেন নিপাহ ভাইরাসে। তখন নিপাহকে বলা হত অজ্ঞাত রোগ। অনেকেই এর সম্পর্কে ভাল জানত না। সেদিন কেউ তার জন্য শোক প্রকাশ করেনি বা এক ফোটা চোখের পানি ফেলেনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ সংশ্লিষ্টরা ছাড়া। রাষ্ট্র তাকে চিনেও না, হয়তো নামও শোনেনি।

বাংলাদেশ যক্ষাপ্রবন দেশ। সারা দেশের ডাক্তারেরা যক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। পালমোনারী টিবি, মাল্টি ড্রাগ রেজিস্টেন্ট টিবি এমনকি এক্সট্রিম ড্রাগ রেজিস্টেন্ট রোগীর কাছে এক্সপোজ হচ্ছেন। নিজেকে নিজের পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে রোগীর সেবা করে যাচ্ছেন।

সারা দেশে সার্জনরা হেপাটাইটিস বি, সি, এইচআইভিসহ নানা ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে রোগের অপারেশন করছেন। হয়ত ডায়াগনোসিস হওয়ার আগেই এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছেন। কত সার্জন যে হেপাটাইটিস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান এদেশে নেই।

এবার অন্য কিছু দেশের গল্প বলি,

২০১১ পাকিস্তান ৩৫ দিনের প্রোটেস্টের পরে পাকিস্তানের মেডিকেল প্রফেশনালসদের হেলথ এলাউয়েন্স চালু হয়। ওদের ওখানে এমন বলা আছে, The health risk allowances are given to medical personnel who run the risk of getting infected in their field of work. They are exposed to different types of blood-borne and radiation related diseases, such as Hepatitis B and C, cancer, tuberculosis or needle or sharp instrument injuries.

ইন্ডিয়াতে রিস্ক এলাউয়েন্স চালু আছে, এছাড়াও পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত, উন্নয়নশীল দেশে ডাক্তারদের হেলথ হ্যাজার্ডটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

১৯৬২ এর আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে ওয়ার্ক রিকমেন্ডেশন ৪০ ঘন্টা। কিন্তু বাংলাদেশে নাইট ডিউটি করলে ১২ ঘন্টার পর পরদিন অধিকাংশ ইন্সটিটিউটে ছুটি তো দেয়াই হয়না বরং পরদিন পুরো সময় রাখা হয় ডিউটিতে। ছুটির দিনে বা শুক্রবারে ডিউটির পর চিকিৎসকরা ছুটি পান না। অথচ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল চাকুরীজীবি সপ্তাহে একদিন ছুটি পাওয়া উচিত।

২০০৯ সালে করা একটা আন্তর্জাতিক রিসার্চে দেখা যায়, যে সকল চিকিৎসক ১২ ঘন্টা টানা ডিউটি করেন তাদের জাজমেন্ট অনেক সময়ই একটা মাতালের মত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

স্রষ্টার সৃষ্টি বড় অদ্ভুত, মেডিকেল সায়েন্স পড়লে এটা ভাল বুঝা যায়। মাছের…

বদ লোকের গল্প!

বদ লোকের গল্প!

উপজেলায় নতুন তখন। সবাইকে ঠিকঠাক চিনিও না। হঠাৎ একদিন আমার রুমে পেট…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস