ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৯, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

আমাদের দেশে অনেক রোগী আছে গাস্ট্রিকের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্যাস্ট্রিক নামে এমবিবিএস পাঠ্য বইয়ে কোন রোগই নেই। তাহলে মানুষ গ্যাস্ট্রিক গ্যাস্ট্রিক বলে যে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন ওটা কোন রোগ? আজ আমি সে বিষয়টা একটু পরিষ্কার করতে চাচ্ছি।

পাকস্থলীর ইংরেজি হলো স্টোমাক। এই স্টোমাক থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নামে একটা তরল এসিড এসিড উৎপন্ন হয় যা খাবার হজম করতে সহায়তা করে। এসিডের কিছু অংশ গ্যাস আকারে স্টোমাকের উপরের দিকে থাকে। কোন কোন সময় অতিরিক্ত গ্যাস খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আমরা তখন বলি ঢেকুর তোলা। এই গ্যাস যেহেতু এসিড জাতীয় সেহেতু এটা খাধ্যনালী জ্বালিয়ে দেয়। তাই আমরা বলি বুক জ্বলে।

এসিডে কিন্তু স্টোমাক জ্বলে না। কারণ, স্টোমাকের ভিতরে এসিড নিউট্রাল করার মিউকাসের একটা আবরণ থাকে। কোন কারণে এই আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্টোমাক জ্বলে। তাতে পেটে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত গ্যাস যখন স্টোমাক পার হয়ে ডিউডেনামে প্রবেশ করে তখন ডিউডেনাম জ্বলে। ডিউডেনাম ব্যাথা করে নাভির কাছে। রোগী মনে করে গ্যাসের কারণেই এসব হচ্ছে। তাই বলে 'গ্যাস্ট্রিক'। দোকানে গিয়ে বলে "আমাকে গ্যাসের ওষুধ দেন।" আর যাদের মাথার বিষ বা শরীরে বিষ আছে তারা বলে "আমাকে বিষের বড়ি দেন।"

কাজেই গ্যাস্ট্রিক হলো রোগীদের মুখে বলা রোগের নাম যেটা আসলে গাস্ট্রিক এসিড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হয়। স্টোমাকের আরেক নাম গ্যাস্ট্রোন। কাজেই গ্যাস্ট্রিক মানে হলো স্টোমাকের। যেমন- গ্যাস্ট্রিক আলসার, গাস্ট্রিক ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক এসিড। অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক থেকে গ্যাস্ট্রাইটিস, গাস্ট্রিক আলসার, ডিউডেনাইটিস, ডিউডেনাল আলসার, ইওসোফেজাইটিস, ইওসোফেজিয়াল আলসার ইত্যাদি সমস্যা হয়।

এসব ক্ষেত্রে রোগীর পেটে গ্যাস অনুভুত হয়, পেট ব্যাথা ও বুক ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করে। এক কথায় তারা বলে গাস্ট্রিক হইছে। স্টোমাক ও ডিউডেনামে হেলিকোব্যাক্টার পাইলো ইনফেকশন হলে প্রদাহ হয়ে আলসার বা ঘা হয় তাতেও ব্যাথা জয়। কোন কোন খাবার খেলে কারও কারও গাস্ট্রিক এসিড বেশী বেশী তৈরি হয়। তাই সেইসব খাবার পরিহার করলে গ্যাস্ট্রিক রোগ কম হয়। গাস্ট্রিক এসিড কমানোর জন্য ডাক্তারগণ এন্টাসিড দেন। গাস্ট্রিক এসিড তৈরি কম করানোর জন্য বেশ কিছু ওষুধ আছে। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন থাকলে ডাক্তারগণ এন্টিবায়োটিক দেন। রক্ত পরীক্ষা করে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ইনফেকশন আছে কিনা জানা যায়। পেটে ক্যান্সার হলেও গ্যাস্ট্রিকের অনুরূপ সিম্পটম হয়। এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করে স্টোমাকে, ডিওডেনামে ও ইওসোফেগাসে প্রদাহ ও আলসার (ক্ষত) অথবা ক্যান্সার আছে কি না তা দেখা যায়।

সুতরাং কারো গ্যাস্ট্রিক সিম্পটম দেখা দিলে ফার্মেসী থেকে নিজের ইচ্ছা মতো গাস্ট্রিকের ওষুধ না খেয়ে আসলে কি রোগ হয়েছে তা ডাক্তার দেখায়ে নির্নয় করে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

হার্ট ফেইলিউর: পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা

কেরামত মোল্লা সারারাত সোজা হয়ে বসে কাটিয়ে দেন। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ, ঘুমাতে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস