ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


বুদ্ধিজীবী

আমার সামনে বসা মধ্যবয়সী এক অত্যাধুনিক ভদ্রলোক! ঘাড় পর্যন্ত ঝুলানো লম্বা চুল, হাতে চুড়ি, গায়ে টি-শার্ট, পরনে জিন্সের প্যান্ট। জিজ্ঞেস করলাম- “কী করেন?” ভদ্রলোক মুচকি হাসি দিকে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। ওনার সাথে আসা ছেলেটি বললো- ‘‘আপনি চিনেন না ওনাকে! ওনিতো বুদ্ধিজীবী, কবিতা লিখেন।” একটা হাসি দিয়ে বললাম- “ও আচ্ছা।”

বুদ্ধিজীবী কথাটা শুনলেই আমার চোখে ভেসে উঠে একজন ভয়ঙ্কর বুদ্ধিমান লোকের চেহারা। যিনি নিজের বুদ্ধির জোরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জ্ঞানের খুব বেশি দরকার নাই, বুদ্ধির প্রয়োগটাই আসল।

একজন বুদ্ধিমান লোক কখনো উদয়াস্ত পরিশ্রম করে ধান কিংবা পাটের জিন আবিষ্কার করবেন না, গাধার খাটুনি খেটে ডাক্তারি করবেন না, ল্যবের গুমোট প্রকোষ্ঠে বসে ডেঙ্গুর টিকা আবিষ্কার করবেন না। তিনি ধান-পাট নিয়ে কবিতা লিখে, ডেঙ্গু মশা নিয়ে ছড়া লিখে মাত করে দিবেন। লম্বা বক্তৃতা দিয়ে সাড়া জাগিয়ে দিবেন মনুষ্য সমাজে। আবিষ্কারের চাইতে তার কবিতার মূল্য বুলন্দ করাই তার সার্থকতা। এই কবিতা দিয়েইতো সমাজ শুদ্ধ করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে ইতিহাস তাই না!

আসলেই কে কোথায় ভুল করলো, কে কোথায় ফাঁকি দিলো সেটা দেখার মতো লোকওতো দরকার। বুদ্ধিজীবীরা নিজে কোন কাজ না করলেও অন্যের দোষ ধরিয়ে দিতে ওস্তাদ। আদম ব্যপারীদেরকে আমার কাছে সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী মনে হয়। তারা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে আদম বানিয়ে সেটা নিয়ে ব্যাবসা করে যাচ্ছেন অবলীলায়!

ক্যানভাসারদেরকেও অনেক বড় মাপের বুদ্ধিজীবী মনে হয় আমার কাছে। আগেকার দিনে দেখতাম বেদে পুরুষ/ মহিলারা গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে সাপের নাচ দেখাতো। বীণের তালে তালে নাচতো সাপ। মাথায় হাত বুলানোর সাথে সাথে মাথা নুইয়ে দিত বিষধর কাল নাগিনী। ভাবা যায়, কাল নাগিনীও তার বশ।
একটুকরো তুলা দাঁতের ফাঁকে ধরতেই সুরসুর করে বেরিয়ে আসতো কিলবিল করা শতশত পোঁকা।

ইদানীংকালে আমি একজন সাংঘাতিক বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষাৎ পেলাম। তিনি চুলকানির ঔষধ বাঘা মলম বিক্রি করেন। তিনি শুরু করেন একটা ছড়া দিয়ে-

"চুলকানি ভাই চুলকানি,
হায়রে মজার চুলকানি।
রাজা চুলকায়, রানী চুলকায় 
আরো চুলকায় চাকরানী।"

হে ভাই, ১৭৫৭ সাল। পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। একদিকে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনী, অন্যদিকে নিরস্ত্র নবাব সিরাজদৌল্লার বাহিনী। নবাব সিরাজ দৌল্লাহ বুদ্ধি করে কিছু যুবককে চান্দি ছিলাইয়া আলকাতরা মাখাইয়া দিলেন। তারপর লাইন ধরে একেকজনকে কামানের মতো ফিট করলেন। ইংরেজ বাহিনী কামানের বহর দেখে ভয়ে উল্টা দিকে দৌঁড়ানো শুরু করলো।

ভাইরে, একজনের পাছায় ছিল চুলকানি। যেইনা সে মাথা ঘুরাইয়া চুলকাইতে শুরু করলো ইংরেজ বাহিনী বুঝে ফেললো। এবার আর যায় কোথায়। প্রবল বেগে হামলা করলো ইংরেজ বাহিনী। পরাজয় হলো নবাবের। পরাজিত হলেন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব। বাংলার ভাগ্যাকাশে অস্তমিত হলো স্বাধীনতার সূর্য। ২০০ বছরের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হলাম আমরা।

সেদিন যদি আমার এই বাঘা মলম থাকতো তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হইতো!

আহা, এই বুদ্ধিজীবী ইতিহাসবেত্তা না থাকলে বাংলার অনেক ইতিহাসই আমার অজানা থাকতো। স্যলুট, হে মহা বীর বুদ্ধিজীবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

: ব্যাটসম্যানদের ভুলে আজ খেলাটা চলে গেল! : ভুল বলছেন কেন? বল…

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর