ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


২৫ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:১২ পিএম

বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী

আমার সামনে বসা মধ্যবয়সী এক অত্যাধুনিক ভদ্রলোক! ঘাড় পর্যন্ত ঝুলানো লম্বা চুল, হাতে চুড়ি, গায়ে টি-শার্ট, পরনে জিন্সের প্যান্ট। জিজ্ঞেস করলাম- “কী করেন?” ভদ্রলোক মুচকি হাসি দিকে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। ওনার সাথে আসা ছেলেটি বললো- ‘‘আপনি চিনেন না ওনাকে! ওনিতো বুদ্ধিজীবী, কবিতা লিখেন।” একটা হাসি দিয়ে বললাম- “ও আচ্ছা।”

বুদ্ধিজীবী কথাটা শুনলেই আমার চোখে ভেসে উঠে একজন ভয়ঙ্কর বুদ্ধিমান লোকের চেহারা। যিনি নিজের বুদ্ধির জোরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জ্ঞানের খুব বেশি দরকার নাই, বুদ্ধির প্রয়োগটাই আসল।

একজন বুদ্ধিমান লোক কখনো উদয়াস্ত পরিশ্রম করে ধান কিংবা পাটের জিন আবিষ্কার করবেন না, গাধার খাটুনি খেটে ডাক্তারি করবেন না, ল্যবের গুমোট প্রকোষ্ঠে বসে ডেঙ্গুর টিকা আবিষ্কার করবেন না। তিনি ধান-পাট নিয়ে কবিতা লিখে, ডেঙ্গু মশা নিয়ে ছড়া লিখে মাত করে দিবেন। লম্বা বক্তৃতা দিয়ে সাড়া জাগিয়ে দিবেন মনুষ্য সমাজে। আবিষ্কারের চাইতে তার কবিতার মূল্য বুলন্দ করাই তার সার্থকতা। এই কবিতা দিয়েইতো সমাজ শুদ্ধ করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে ইতিহাস তাই না!

আসলেই কে কোথায় ভুল করলো, কে কোথায় ফাঁকি দিলো সেটা দেখার মতো লোকওতো দরকার। বুদ্ধিজীবীরা নিজে কোন কাজ না করলেও অন্যের দোষ ধরিয়ে দিতে ওস্তাদ। আদম ব্যপারীদেরকে আমার কাছে সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী মনে হয়। তারা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষকে আদম বানিয়ে সেটা নিয়ে ব্যাবসা করে যাচ্ছেন অবলীলায়!

ক্যানভাসারদেরকেও অনেক বড় মাপের বুদ্ধিজীবী মনে হয় আমার কাছে। আগেকার দিনে দেখতাম বেদে পুরুষ/ মহিলারা গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে সাপের নাচ দেখাতো। বীণের তালে তালে নাচতো সাপ। মাথায় হাত বুলানোর সাথে সাথে মাথা নুইয়ে দিত বিষধর কাল নাগিনী। ভাবা যায়, কাল নাগিনীও তার বশ।
একটুকরো তুলা দাঁতের ফাঁকে ধরতেই সুরসুর করে বেরিয়ে আসতো কিলবিল করা শতশত পোঁকা।

ইদানীংকালে আমি একজন সাংঘাতিক বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষাৎ পেলাম। তিনি চুলকানির ঔষধ বাঘা মলম বিক্রি করেন। তিনি শুরু করেন একটা ছড়া দিয়ে-

"চুলকানি ভাই চুলকানি,
হায়রে মজার চুলকানি।
রাজা চুলকায়, রানী চুলকায় 
আরো চুলকায় চাকরানী।"

হে ভাই, ১৭৫৭ সাল। পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। একদিকে অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনী, অন্যদিকে নিরস্ত্র নবাব সিরাজদৌল্লার বাহিনী। নবাব সিরাজ দৌল্লাহ বুদ্ধি করে কিছু যুবককে চান্দি ছিলাইয়া আলকাতরা মাখাইয়া দিলেন। তারপর লাইন ধরে একেকজনকে কামানের মতো ফিট করলেন। ইংরেজ বাহিনী কামানের বহর দেখে ভয়ে উল্টা দিকে দৌঁড়ানো শুরু করলো।

ভাইরে, একজনের পাছায় ছিল চুলকানি। যেইনা সে মাথা ঘুরাইয়া চুলকাইতে শুরু করলো ইংরেজ বাহিনী বুঝে ফেললো। এবার আর যায় কোথায়। প্রবল বেগে হামলা করলো ইংরেজ বাহিনী। পরাজয় হলো নবাবের। পরাজিত হলেন বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব। বাংলার ভাগ্যাকাশে অস্তমিত হলো স্বাধীনতার সূর্য। ২০০ বছরের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হলাম আমরা।

সেদিন যদি আমার এই বাঘা মলম থাকতো তাহলে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হইতো!

আহা, এই বুদ্ধিজীবী ইতিহাসবেত্তা না থাকলে বাংলার অনেক ইতিহাসই আমার অজানা থাকতো। স্যলুট, হে মহা বীর বুদ্ধিজীবি।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না