২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০৩:২৮ পিএম

২৪ ঘন্টায় আরও ১০ চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত

২৪ ঘন্টায় আরও ১০ চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সব রেকর্ড। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গুতে। ২৪ ঘন্টার ব্যাবধানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১০ জন চিকিৎসক। সবমিলিয়ে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪ জনে। বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল ৯৪ জন।

শনিবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

কন্ট্রোল রুম জানায়, চিকিৎসকদের পাশাপাশি ১৩৬ জন নার্স ও  অন্যান্য ৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৩৩০ জন স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুজন চিকিৎসক, নয়জন নার্সসহ মোট ১৫ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০২ জন চিকিৎসক, ১২৭ জন নার্স, ৮৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৩১৫ জন।

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা দেওয়া সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। এই হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৫১৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তন্মধ্যে এই হাসপাতালেরই ২৫ জন চিকিৎসক, ২২ জন নার্স এবং অন্যান্য স্টাফসহ মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ জন। বর্তমানে একজন চিকিৎসক ও তিন জন নার্সসহ চার জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রান্ত হয়েছেন চার জন চিকিৎসক। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন চিকিৎসক, ১৪ জন নার্সসহ মোট ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী। রাজধানীর মিটফোর্ড হাপসাতালে ৪ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন দুই জন চিকিৎসক ও তিন জন নার্স।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা ১৪ জন আর নার্সের সংখ্যা ২২ জন। এরমধ্যে দুই জন নার্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিজিবি হাসপাতালে চার জন নার্সসহ আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসকের সংখ্যা চার জন, নার্সের সংখ্যা তিন জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী সাত জন। এরমধ্যে বর্তমানে ভর্তি আছেন তিন জন।

অপরদিকে, ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল–ক্লিনিকে মোট ৩৪ জন চিকিৎসক, ৫৮ জন নার্স এবং ৪০ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ১৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচাইতে বেশি চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের ১৩ চিকিৎসক,  চার নার্সসহ ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়াও স্কয়ার হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন সাত জন চিকিৎসক, ২৭ জন নার্স, ছয় জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৪০জন। এদিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন দুই জন চিকিৎসক, দুই জন নার্সসহ মোট নয় জন স্বাস্থ্যকর্মী। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্স আক্রান্ত না হলেও তিন জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে একজন চিকিৎসক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, নার্স আক্রান্ত হয়েছেন চার জন। সেন্ট্রাল হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন তিন জন চিকিৎসক, ১৭ জন নার্স এবং অন্যান্য স্টাফ চার জনসহ মোট ২৪ জন। হাই কেয়ার হাসপাতালে আক্রান্ত হযেছেন দুই জন নার্স। আবার রাজধানীর খিদমা হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ জন চিকিৎসক, দুই জন নার্স এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মী তিন জনসহ মোট ১০ জন। সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসক এবং একজন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এ পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্সসহ কারও মৃত্যুর কথা নিশ্চিত না করলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ঢাকায় এসে মাদারিপুরের স্বাস্থ্য সহকারী তপন কুমার মণ্ডল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ আগস্ট মারা যান। এ ছাড়া বেসরকারি হিসাব বলছে, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন ডা. নিগার নাহিদ, ডা. শাহাদাত হোসেন, ডা. তানিয়া সুলতানা ও ডা. উইলিয়াম ম্রং।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত