ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:৫০ এএম

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার ফলে বর্তমানে এর প্রকোপ অনেক কমে এসেছে। মেয়েদের জরায়ুর নিচের অংশকে বলা হয় সারভিক্স বা জরায়ু মুখ। আর এই সারভিক্সে যদি ক্যান্সার হয় তবে তাকে বলা হয় সারভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার। সারা বিশ্বের নারীদের মধ্যেই এই ক্যান্সার দেখা যায়। বাংলাদেশে মেয়েদের স্তন ক্যান্সাসের পরেই এই ক্যান্সার বেশি হতে দেখা যায়। তবে আশার কথা হলো, ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে এই জটিল রোগ অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এই রোগ সম্পর্কে  সবার ধারণা থাকা জরুরি। 

কেন হয়? 
এই ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন। এসব কারণের মধ্যে আছেঃ
১. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV), 
২. হার্পিস সিমপ্ল্যাক্স ভাইরাস (HSV-2), 
৩. কম বয়সে যৌন জীবন শুরু করলে, 
৪. একাধিক যৌন সঙ্গী থাকলে, 
৫. অপরিচ্ছন্ন থাকলে, 
৬. কম বয়সে বাচ্চা হলে, 
৭. অধিক সন্তান নিলে, 
৮. ধূমপান করলে, 
৯. দীর্ঘদিন পিল খেলে, 
১০. বিভিন্ন যৌন রোগ থেকেও এই ক্যান্সার হতে পারে। তবে সব কারণ কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও বের করতে পারেননি।

কিভাবে বুঝবেন?
সারভাইক্যাল ক্যান্সারে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে আছে: 
১. সাদা স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত হয় সাধারণত, 
২. অনিয়মিত রক্তস্রাব, 
৩. সহবাসের পর রক্তস্রাব, 
৪. সহবাসে ব্যথা, 
৫. তলপেটে ব্যথা, 
৬. অনেক সময় ক্যান্সার দূরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। সারভাইক্যাল ক্যান্সারে অনেক সময় কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। 

প্রাথমিক অবস্থায় এই ক্যান্সার ধরা পরলে শতভাগ ভালো করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। তখন আর তেমন কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক অবস্থা নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন স্ক্রিনিং পদ্ধতি আছে। তারমধ্যে প্যাপস স্মেয়ার এবং ভায়া অন্যতম। 

প্রতিরোধ কোন পথে
উপরোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। দেরিতে ডায়াগনোসিস হলে অপারেশন, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কখনো আবার বিভিন্ন পদ্ধতি একসঙ্গে দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

ক্যান্সারের চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল। তাই প্রতিরোধের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে। প্রতিরোধক হিসেবে টিকা দেয়া যায়, যা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। গাইনির বিভিন্ন দক্ষ ডাক্তার আমাদের দেশেই আছে। কোনরকম লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কোনো অবহেলাই এক্ষেত্রে কাম্য নয়। 
 

নতুন শনাক্ত দেড় সহস্রাধিক

ঈদের আগে করোনায় একদিনে ২৮ জনের মৃত্যু

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না