ঢাকা      মঙ্গলবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৯, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার ফলে বর্তমানে এর প্রকোপ অনেক কমে এসেছে। মেয়েদের জরায়ুর নিচের অংশকে বলা হয় সারভিক্স বা জরায়ু মুখ। আর এই সারভিক্সে যদি ক্যান্সার হয় তবে তাকে বলা হয় সারভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ু মুখের ক্যান্সার। সারা বিশ্বের নারীদের মধ্যেই এই ক্যান্সার দেখা যায়। বাংলাদেশে মেয়েদের স্তন ক্যান্সাসের পরেই এই ক্যান্সার বেশি হতে দেখা যায়। তবে আশার কথা হলো, ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে এই জটিল রোগ অনেকটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এই রোগ সম্পর্কে  সবার ধারণা থাকা জরুরি। 

কেন হয়? 
এই ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন। এসব কারণের মধ্যে আছেঃ
১. হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV), 
২. হার্পিস সিমপ্ল্যাক্স ভাইরাস (HSV-2), 
৩. কম বয়সে যৌন জীবন শুরু করলে, 
৪. একাধিক যৌন সঙ্গী থাকলে, 
৫. অপরিচ্ছন্ন থাকলে, 
৬. কম বয়সে বাচ্চা হলে, 
৭. অধিক সন্তান নিলে, 
৮. ধূমপান করলে, 
৯. দীর্ঘদিন পিল খেলে, 
১০. বিভিন্ন যৌন রোগ থেকেও এই ক্যান্সার হতে পারে। তবে সব কারণ কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও বের করতে পারেননি।

কিভাবে বুঝবেন?
সারভাইক্যাল ক্যান্সারে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে আছে: 
১. সাদা স্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত হয় সাধারণত, 
২. অনিয়মিত রক্তস্রাব, 
৩. সহবাসের পর রক্তস্রাব, 
৪. সহবাসে ব্যথা, 
৫. তলপেটে ব্যথা, 
৬. অনেক সময় ক্যান্সার দূরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। সারভাইক্যাল ক্যান্সারে অনেক সময় কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। 

প্রাথমিক অবস্থায় এই ক্যান্সার ধরা পরলে শতভাগ ভালো করা সম্ভব। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। তখন আর তেমন কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক অবস্থা নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন স্ক্রিনিং পদ্ধতি আছে। তারমধ্যে প্যাপস স্মেয়ার এবং ভায়া অন্যতম। 

প্রতিরোধ কোন পথে
উপরোক্ত লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। দেরিতে ডায়াগনোসিস হলে অপারেশন, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। কখনো আবার বিভিন্ন পদ্ধতি একসঙ্গে দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

ক্যান্সারের চিকিৎসা জটিল ও ব্যয়বহুল। তাই প্রতিরোধের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে। প্রতিরোধক হিসেবে টিকা দেয়া যায়, যা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। গাইনির বিভিন্ন দক্ষ ডাক্তার আমাদের দেশেই আছে। কোনরকম লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কোনো অবহেলাই এক্ষেত্রে কাম্য নয়। 
 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

আধুনিক মায়েরা সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসবের চিন্তাই করেন না

সমাজে কিছু মানসিকভাবে অসুস্থ ডাক্তার বিদ্বেষী মানুষ আছে। অসুখ হলে ইনিয়ে বিনিয়ে…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ: গল্পে গল্পে শিখি

স্রষ্টার সৃষ্টি বড় অদ্ভুত, মেডিকেল সায়েন্স পড়লে এটা ভাল বুঝা যায়। মাছের…

বদ লোকের গল্প!

বদ লোকের গল্প!

উপজেলায় নতুন তখন। সবাইকে ঠিকঠাক চিনিও না। হঠাৎ একদিন আমার রুমে পেট…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস