ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলো জীবাণুর কারণে হয়। বলা হয় ইনফেকশন। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস ইনফেকশনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস (ছত্রাক) ধ্বংস করা হয়। এই ওষুধ প্রয়োগ করার নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময় আছে যা একজন এমবিবিএস ডাক্তার জানেন। এই ওষুধ যদি সঠিক নিয়মে সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা না হয়, তাহলে এক পর্যায়ে জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ফলে, এই ওষুধে আর কোনো কাজ হয় না। এই অবস্থাকে বলা হয় 'অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স'। অর্থাৎ যখন ব্যাকটেরিয়ার ধ্বংস করার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা থাকে না।

কেউ কেউ আছেন জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া হলে চট করে ফার্মেসী থেকে একটি বা দুইটি এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল এনে খেয়ে ফেলেন। প্রকৃতপক্ষে এই চারটি রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। এই চারটি কন্ডিশনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এমনটাও দেখেছি যে, দাওয়াতে গিয়ে বেশি পরিমাণে খেয়ে একটা অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেয়ে নিচ্ছেন। কেন খেলেন, জিজ্ঞেস করলে বলেন- "যদি পেট খারাপ হয়, তাই ট্যাবলেট খেয়ে নিলাম।" পেট খারাপ হতে পারে মনে করে একটা অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট খেলেন। আবার পেট খারাপ হয়ে গেছে সেই ক্ষেত্রেও দেখেছি ফার্মেসি থেকে একটি বা দুইটি ট্যাবলেট এনে খেলেন। পেট খারাপ ভালো হলে আর খেলেন না। একদিন পর আবার পেট খারাপ হলো, আবার একটা ট্যাবলেট খেলেন। এই সব ক্ষেত্রে জীবাণুরা এই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। ভবিষ্যতে এই এই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই জীবাণুকে মারা আর সম্ভব হবে না।

যারা সবসময় ঘরের ভিতর থেকে অভ্যস্ত তাদের যদি অনেকক্ষণ রোদে দাড় করে রাখা হয়, তারা রোদে কাবু হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে। এমনটি মারাও যেতে পারে। কিন্তু একজন কৃষক সারাদিন রোদে কাজ করেও অসুস্থ হন না বা মারাও যান না। কারণ, তিনি রোদে কাজ করে করে রোদের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছেন। জীবাণুও তেমনি একটু একটু করে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে।

তাই, সামান্য অসুখ বিসুখ হলেই একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ঠিক না। খেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স হয়। তখন এই ওষুধে আর কাজ করে না। খেতে হলে, বিএমডিসি রেজিস্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফুল কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

: ব্যাটসম্যানদের ভুলে আজ খেলাটা চলে গেল! : ভুল বলছেন কেন? বল…

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর