২৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০৩:৫৯ পিএম

ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধে অধ্যাপক ডা. এম এ খানের বিশ্লেষণাত্বক গবেষণা

ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধে অধ্যাপক ডা. এম এ খানের বিশ্লেষণাত্বক গবেষণা

মুন্নাফ রশিদ: দেশে ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর হার বেশি কারণ হিসাবে যারা ইতিপূর্বে অন্য সেরো টাইপ-ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত বা সেকেন্ডারি ইনফেকশনের ফলে দ্রুতগতিতে অধিক মাত্রায় ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমকে দায়ী করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুজ্বরের মারাত্মক পরিণতি নির্ভর করে রোগীর বয়স, ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরা-টাইপ এবং রোগীর নিউট্রিসন্যাল অবস্থা বিশেষ করে রক্তে ফ্যাটি এসিডের স্বল্পতার ওপর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ খান ডেঙ্গুর এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণাত্মক গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তে ফ্যাটি এসিড অর্থাৎ পলি আনস্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটি এসিড; ডেকোস্যাক্সোনোয়িক এসিড (ডিএইচএ) এবং ইকোস্যাপেটিনোয়িক এসিডের (ইপিএ) পরিমাণ কমে যায়। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যাক্তির ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম ত্বরান্বিত হয়। তবে রক্তে ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে পলি আনস্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটি এসিড (ডিএইচএ এবং ইপিএ) ডেঙ্গুজ্বরের ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধ করতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বরের এই মৃত্যুর হার কমাতে হলে অধিক সতর্কতার সাথে চিকিৎসায় মনোনিবেশ করতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, এর জন্য প্রয়োজন মাল্টিডিসিপ্লিন্যারি (রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞসহ) চিকিৎসা পদ্ধতি, পর্যাপ্ত পানীয় বা স্যালাইন গ্রহণ, নিয়মিত ব্লাড প্রেশার ও বক্তের ঘনত্ব পরীক্ষা করা। এছাড়া ফ্যাটি এসিড (ডিএইচএ, ইপিএ) ওমেগা-৩ গ্রহণে ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

অধ্যাপক ডা. এম এ খান মেডিভয়েসকে বলেন, ওমেগা-৩ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ব্যাবহার  করে আমি ভালো ফল পেয়েছি। তবে এ নিয়ে আরও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। ওমেগা-৩ কার্ডিও প্রটেক্টিভ এবং ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারিতা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

এছাড়াও তাঁর গবেষণায় ডেঙ্গু ভাইরাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো নিচে হুবহু তলে ধরা হলো-

ডেঙ্গু জ্বর ফেব্রাইল ফেইজ বা ভাইরাল ফেইজ: এটি সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। প্ল্যাটলেট  ও হেমাটোক্রিট স্বাভাবিক থাকে। এনএস১  এন্টিজেন পজিটিভ হয় (NS-1 90-95% +ive হয়, Sensitivity 92% & Specificity 98%, Ref; Dengue NS1 Ag Standard Q rapid test; kit leaflet, SD BIOSENSOR, Republic of Korea.)

এফেব্রাইল ফেইজ: এ সময় রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, প্ল্যাটলেট  কমতে থাকে এবং হেমাটোক্রিট বেড়ে যায়। যা এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক। এ সময়ে রোগীর রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে না।

ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি: এটি সাধারণত দুই ধরনের। স্পেসিফিক অ্যান্টিবডি যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ক্রসিং অ্যান্টিবডি যা প্ল্যাটলেট , ব্লাড ভেসেল (এন্ডোথেলিয়াম) ও লিভার কোষের ওপর সরাসরি ও সাইটোকাইনের মাধ্যমে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

সাইটোকাইন (γ-IFN, CD10, CD6, TNF): এটি রক্তে নিঃসৃত হয়ে রক্তনালী, প্ল্যাটলেট , লিভার কোষ ইত্যাদির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যার ফলে প্ল্যাটলেট  এগ্রিগেসন, প্লাজমা লিকেজ, হেপাটাইটিস, হাইপোএলবুমিনেমিয়া, রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া ও ব্লাড প্রেশার কমাসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

ডেঙ্গু কর্তৃক একাধিক ইনফেকশনের (সেকেন্ডারি) ক্ষেত্রে উল্লেখিত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। যারফলে রোগীর ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের মত অবস্থা তৈরি হয়।

Dengue Fever: Acute Episode; high fever with body ache, muscle ache, Den Virus Positive:

Den NS1 Ag test Positive (98%), Plasma Fatty Acid (Poly Unsaturated Fatty Acid) normal;   become reduced, Fatty Acid (PUFA): Docosahexaenoic Acid (DHA)             Eicosapentaenoic Acid    (EPA) which has protective role in DF to prevent progression to DHF/DSS by    immunomodulatory function reduce expression of pro-               inflammatory cytokines, decrease           endothelial activation & dysfunction, vasodilation and decreasing platelet aggregation, Ref: Serum Fatty acids and                         progression from dengue fever to DHF/DSS; BrJNutr.2018, October;         120(7): 787-796.doi:10.1017/S0007114518002039.

 Cytokines release (γ-IFN, IL-10, IL-6, TNF): release>Inflammation, Platelet Aggregation etc.

Fig-1: Pathophysiology of DHS/DSS and role of Fatty acid (PUFA)

Afebrile phase (Dengue Hemorrhagic Fever): G-I: Low platelet but no bleeding>G-II: Low platelet with bleeding>G-III: Leakage Syndrome & DSS (Tachycardia, hypotension, pluse pressure<20mmHg, Hct rising)> G-IV; Irreversible shock>Death.

Recovery (Convalescence) Phase: Lab Parameters become normal including Fatty acid, extreme weakness.

 

Fif-2: Beneficial eefects of Poly Unsaturated Fatty Acid (Omega-3) on Dengue Fever.

 

ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম চিকিৎসায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ জরুরিভাবে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

১. ডেঙ্গুজ্বর রোগ নির্ণয়ের সময় প্রাথমিক হিসাবে সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করা।

২. জ্বর কমার পর রোগীর প্রতি অধিক যত্নশীল হতে হবে; দৈনিক ১-২ বার হেমাটোক্রিট পরীক্ষা করা (১০-২০% বৃদ্ধি আশংকা জনক)।

৩. প্রতিদিন ঘনঘন ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করা জরুরি।

৪. দৈনিক মেপে মেপে ২-৩ লিটার পানীয় (স্যালাইন পানি/ওআরএস) খাওয়া জরুরী।

৫. ঘনঘন বমি, মুখে পর্যাপ্ত পানি খেতে না পারা, পেটে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট , ফুসফুসে ও পেটে পানি জমলে, রক্তক্ষরণ হলে, গর্ভবতী মহিলা, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

৬. স্যালাইন দেয়ার পরও ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক না হলে প্লাজমা এক্সপাণ্ডার দেয়া প্রয়োজন।

৭. প্ল্যাটলেট  ডাক্তারের পরামর্শক্রমে দেয়া যেতে পারে; সাধারণভাবে কম রিক্স রোগীদের ও হাই রিক্স রোগীদের বেলায় যথাক্রমে দশ হাজার ও বিশ হাজারে কম হলে অথবা রক্তক্ষরণ হলে প্ল্যাটলেট  দিতে হবে। তবে একজন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে ভাল হয়।

৮. রক্ত দেয়া বিপজ্জনক, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (হিমোগ্লোবিন ৮ গ্রামের ও হেমাটোক্রিট ২৫% এর কম হলে) আরবিসি (RBC) দিতে পারবেন।

৯. ওমেগা-৩ (ফিশ ওয়েল) ডেঙ্গু রোগ সনাক্ত করার পর থেকে দৈনিক ২-৪ গ্রাম (২-৪ ক্যাপসুল) ৩ থেকে ৫ দিন খেলে ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সন্ড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

১০. শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ও হার্টের রোগী, থ্যালাসেমিয়া ও আইটিপি রোগীরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে বেশী সাবধাণতা অবলম্বন করতে হবে (এরা হাইরিক্স গ্রুপ)।

রক্তের ঘনত্ব ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ওমেগা-৩ গ্রহণে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি