ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধে অধ্যাপক ডা. এম এ খানের বিশ্লেষণাত্বক গবেষণা

মুন্নাফ রশিদ: দেশে ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর হার বেশি কারণ হিসাবে যারা ইতিপূর্বে অন্য সেরো টাইপ-ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত বা সেকেন্ডারি ইনফেকশনের ফলে দ্রুতগতিতে অধিক মাত্রায় ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমকে দায়ী করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুজ্বরের মারাত্মক পরিণতি নির্ভর করে রোগীর বয়স, ডেঙ্গু ভাইরাসের সেরা-টাইপ এবং রোগীর নিউট্রিসন্যাল অবস্থা বিশেষ করে রক্তে ফ্যাটি এসিডের স্বল্পতার ওপর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ খান ডেঙ্গুর এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশ্লেষণাত্মক গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রক্তে ফ্যাটি এসিড অর্থাৎ পলি আনস্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটি এসিড; ডেকোস্যাক্সোনোয়িক এসিড (ডিএইচএ) এবং ইকোস্যাপেটিনোয়িক এসিডের (ইপিএ) পরিমাণ কমে যায়। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যাক্তির ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম ত্বরান্বিত হয়। তবে রক্তে ফ্যাটি এসিড বিশেষ করে পলি আনস্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটি এসিড (ডিএইচএ এবং ইপিএ) ডেঙ্গুজ্বরের ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধ করতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বরের এই মৃত্যুর হার কমাতে হলে অধিক সতর্কতার সাথে চিকিৎসায় মনোনিবেশ করতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, এর জন্য প্রয়োজন মাল্টিডিসিপ্লিন্যারি (রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞসহ) চিকিৎসা পদ্ধতি, পর্যাপ্ত পানীয় বা স্যালাইন গ্রহণ, নিয়মিত ব্লাড প্রেশার ও বক্তের ঘনত্ব পরীক্ষা করা। এছাড়া ফ্যাটি এসিড (ডিএইচএ, ইপিএ) ওমেগা-৩ গ্রহণে ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

অধ্যাপক ডা. এম এ খান মেডিভয়েসকে বলেন, ওমেগা-৩ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ব্যাবহার  করে আমি ভালো ফল পেয়েছি। তবে এ নিয়ে আরও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। ওমেগা-৩ কার্ডিও প্রটেক্টিভ এবং ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারিতা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

এছাড়াও তাঁর গবেষণায় ডেঙ্গু ভাইরাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো নিচে হুবহু তলে ধরা হলো-

ডেঙ্গু জ্বর ফেব্রাইল ফেইজ বা ভাইরাল ফেইজ: এটি সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। প্ল্যাটলেট  ও হেমাটোক্রিট স্বাভাবিক থাকে। এনএস১  এন্টিজেন পজিটিভ হয় (NS-1 90-95% +ive হয়, Sensitivity 92% & Specificity 98%, Ref; Dengue NS1 Ag Standard Q rapid test; kit leaflet, SD BIOSENSOR, Republic of Korea.)

এফেব্রাইল ফেইজ: এ সময় রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, প্ল্যাটলেট  কমতে থাকে এবং হেমাটোক্রিট বেড়ে যায়। যা এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক। এ সময়ে রোগীর রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে না।

ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি: এটি সাধারণত দুই ধরনের। স্পেসিফিক অ্যান্টিবডি যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ক্রসিং অ্যান্টিবডি যা প্ল্যাটলেট , ব্লাড ভেসেল (এন্ডোথেলিয়াম) ও লিভার কোষের ওপর সরাসরি ও সাইটোকাইনের মাধ্যমে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

সাইটোকাইন (γ-IFN, CD10, CD6, TNF): এটি রক্তে নিঃসৃত হয়ে রক্তনালী, প্ল্যাটলেট , লিভার কোষ ইত্যাদির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। যার ফলে প্ল্যাটলেট  এগ্রিগেসন, প্লাজমা লিকেজ, হেপাটাইটিস, হাইপোএলবুমিনেমিয়া, রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া ও ব্লাড প্রেশার কমাসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

ডেঙ্গু কর্তৃক একাধিক ইনফেকশনের (সেকেন্ডারি) ক্ষেত্রে উল্লেখিত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। যারফলে রোগীর ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের মত অবস্থা তৈরি হয়।

Dengue Fever: Acute Episode; high fever with body ache, muscle ache, Den Virus Positive:

Den NS1 Ag test Positive (98%), Plasma Fatty Acid (Poly Unsaturated Fatty Acid) normal;   become reduced, Fatty Acid (PUFA): Docosahexaenoic Acid (DHA)             Eicosapentaenoic Acid    (EPA) which has protective role in DF to prevent progression to DHF/DSS by    immunomodulatory function reduce expression of pro-               inflammatory cytokines, decrease           endothelial activation & dysfunction, vasodilation and decreasing platelet aggregation, Ref: Serum Fatty acids and                         progression from dengue fever to DHF/DSS; BrJNutr.2018, October;         120(7): 787-796.doi:10.1017/S0007114518002039.

 Cytokines release (γ-IFN, IL-10, IL-6, TNF): release>Inflammation, Platelet Aggregation etc.

Fig-1: Pathophysiology of DHS/DSS and role of Fatty acid (PUFA)

Afebrile phase (Dengue Hemorrhagic Fever): G-I: Low platelet but no bleeding>G-II: Low platelet with bleeding>G-III: Leakage Syndrome & DSS (Tachycardia, hypotension, pluse pressure<20mmHg, Hct rising)> G-IV; Irreversible shock>Death.

Recovery (Convalescence) Phase: Lab Parameters become normal including Fatty acid, extreme weakness.

 

Fif-2: Beneficial eefects of Poly Unsaturated Fatty Acid (Omega-3) on Dengue Fever.

 

ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম চিকিৎসায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ জরুরিভাবে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

১. ডেঙ্গুজ্বর রোগ নির্ণয়ের সময় প্রাথমিক হিসাবে সিবিসি (CBC) পরীক্ষা করা।

২. জ্বর কমার পর রোগীর প্রতি অধিক যত্নশীল হতে হবে; দৈনিক ১-২ বার হেমাটোক্রিট পরীক্ষা করা (১০-২০% বৃদ্ধি আশংকা জনক)।

৩. প্রতিদিন ঘনঘন ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করা জরুরি।

৪. দৈনিক মেপে মেপে ২-৩ লিটার পানীয় (স্যালাইন পানি/ওআরএস) খাওয়া জরুরী।

৫. ঘনঘন বমি, মুখে পর্যাপ্ত পানি খেতে না পারা, পেটে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট , ফুসফুসে ও পেটে পানি জমলে, রক্তক্ষরণ হলে, গর্ভবতী মহিলা, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

৬. স্যালাইন দেয়ার পরও ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক না হলে প্লাজমা এক্সপাণ্ডার দেয়া প্রয়োজন।

৭. প্ল্যাটলেট  ডাক্তারের পরামর্শক্রমে দেয়া যেতে পারে; সাধারণভাবে কম রিক্স রোগীদের ও হাই রিক্স রোগীদের বেলায় যথাক্রমে দশ হাজার ও বিশ হাজারে কম হলে অথবা রক্তক্ষরণ হলে প্ল্যাটলেট  দিতে হবে। তবে একজন রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে ভাল হয়।

৮. রক্ত দেয়া বিপজ্জনক, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (হিমোগ্লোবিন ৮ গ্রামের ও হেমাটোক্রিট ২৫% এর কম হলে) আরবিসি (RBC) দিতে পারবেন।

৯. ওমেগা-৩ (ফিশ ওয়েল) ডেঙ্গু রোগ সনাক্ত করার পর থেকে দৈনিক ২-৪ গ্রাম (২-৪ ক্যাপসুল) ৩ থেকে ৫ দিন খেলে ক্যাপিলারি লিকেজ সিন্ড্রোম ও ডেঙ্গু শক সন্ড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

১০. শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক ও হার্টের রোগী, থ্যালাসেমিয়া ও আইটিপি রোগীরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে বেশী সাবধাণতা অবলম্বন করতে হবে (এরা হাইরিক্স গ্রুপ)।

রক্তের ঘনত্ব ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ওমেগা-৩ গ্রহণে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের রক্ত রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শীঘ্রই ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: মহাপরিচালক

শীঘ্রই ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: মহাপরিচালক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জনবলের ঘাটতি অনেক আগে থেকেই।  এই সংকট মেটাতে…

চিকিৎসক সংকট: তথ্য জানতে জেলায় জেলায় ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণরা

চিকিৎসক সংকট: তথ্য জানতে জেলায় জেলায় ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণরা

ভ্রমণকাহিনী শুনলেই দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে আনন্দময় কিছু মূহূর্ত। ভ্রমণকে বেছে নেয় সবাই…

রোগী দেখা রেখে ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেয়ায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

রোগী দেখা রেখে ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেয়ায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নাটোরে রোগী দেখা রেখে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট না…

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

কুমিল্লার সেরা মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল ফরহাজ খান

মো. মনির উদ্দিন: কুমিল্লা জেলার সেরা মেডিকেল অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন চান্দিনা…

ডা. আকাশের আত্মহত্যা: স্ত্রীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডা. আকাশের আত্মহত্যা: স্ত্রীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২)…

কর্মস্থলে নারী চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান স্পিকারের

কর্মস্থলে নারী চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান স্পিকারের

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কর্মস্থলে নারী চিকিৎসকদের জন্য অনুকূল কর্মপরিবেশ তৈরির পাশাপাশি তাদের সুযোগ-সুবিধা…

আরো সংবাদ
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর