ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


২৩ অগাস্ট, ২০১৯ ১২:৪৩ পিএম

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

আমার চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা আসলেন বুকে ব্যাথা নিয়ে। তার প্রেশার আনকন্ট্রোলড। আমি জানতে চাইলাম- ঘুম কেমন হয়? জবাবে তিনি বললেন- ঘুমুতে তো পারিনা। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- গত বছর আমার ২৮ বছরের ছেলেটা মরে গেল হার্ট অ্যাটাক করে। এর কিছুদিন পর ৩২ বছরের মেয়েটাও মরলো। তার ক’দিন পর স্বামীও মরে গেল অ্যাটাকে। এক বছরে তিন তিন জনকে হারিয়ে কিভাবে ঘুমাই বলেন!

রোগীকে শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা নাই। ধর্মকেই টেনে আনলাম শেষ ভরসা হিসাবে। এখানে ধৈর্য ধরতে পারলেইতো আপনি সফল। আল্লাহকে স্মরণ করুন। আবার সবার সাথে দেখা হবে জান্নাতে।

বড় মলিন একটা হাসি দিলেন ভদ্রমহিলা।

একটু পর আরেকজন রোগী আসলেন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হার্টে ব্লক নিয়ে। তিনিও ঠিক মত ঘুমাতে পারেন না। ঔষধও খাচ্ছেন না ঠিকমতো। ওনাকে জানতে চাইলাম- আপনার এই অবস্থা কেন? তিনি বললেন- স্যার, আমার একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে। সে সারারাত ঘুমায় না। শেষ রাতের দিকে ঘুমায়। আমার স্ত্রীও মরে গেছে দুই বছর হলো। মেয়েটার দেখাশোনা করতে হয় আমাকেই। আমি আর পারছিনা স্যার।

আমি ওনাকেই কি জবাব দিব? শুধু বললাম- মেয়েটার জন্যই আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে।

আরেকজন রোগী আসলো বুকে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে। বললো, আমাকে ঈদের দুই দিন আগে তাকে দুবাই থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারও সাতদিন আগে তিনি ওখানে বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই কাগজপত্রও তিনি সাথে করে নিয়ে এসেছেন। তার প্রেশার জিরো পেলাম। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখলাম দুবাইয়ে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। সেখানে তাকে দুইটা রিংও লাগিয়েছেন। মনে হলো রিং দুটি বন্ধ হয়ে গেছে।

কথা হলো, তার হার্টে রিং লাগানো হয়েছে অথচ তিনি জানেন না। তাকে জানানো হয়নি। হার্টে রিং লাগালে রক্ত পাতলা করার ওষুধ ডাবল খেতে হয়, তা না হলে রিং বন্ধ হয়ে যায়।

দুবাইয়ের ডাক্তার সাহেবরা কেন জানানোর প্রয়োজন মনে করলেন না আমার বোধগম্য নয়। এই রোগের জন্যতো তারা দায়ী না। তারা এতগুলো টাকা খরচ করলেন অথচ অবলীলায় বন্ধ হয়ে যেতে দিলেন রিং দুটোকে! এখন মৃত্যুর অতি কাছাকাছি এই ভদ্রলোক।

এভাবেই আমরা বেঁচে আছি, দুনিয়ার কঠিন বেড়াজালে বন্দী হয়ে। প্রকৃতি কখনো শান্তনা দেয়, কখনো শান্তনাহীন কঠিন শিকল পড়িয়ে দেয় জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে। আমৃত্যু বয়ে বেড়াই এই দুর্লঙ্ঘ শিকলের ভার।

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না