ঢাকা      রবিবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩১, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

আমার চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা আসলেন বুকে ব্যাথা নিয়ে। তার প্রেশার আনকন্ট্রোলড। আমি জানতে চাইলাম- ঘুম কেমন হয়? জবাবে তিনি বললেন- ঘুমুতে তো পারিনা। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন- গত বছর আমার ২৮ বছরের ছেলেটা মরে গেল হার্ট অ্যাটাক করে। এর কিছুদিন পর ৩২ বছরের মেয়েটাও মরলো। তার ক’দিন পর স্বামীও মরে গেল অ্যাটাকে। এক বছরে তিন তিন জনকে হারিয়ে কিভাবে ঘুমাই বলেন!

রোগীকে শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা নাই। ধর্মকেই টেনে আনলাম শেষ ভরসা হিসাবে। এখানে ধৈর্য ধরতে পারলেইতো আপনি সফল। আল্লাহকে স্মরণ করুন। আবার সবার সাথে দেখা হবে জান্নাতে।

বড় মলিন একটা হাসি দিলেন ভদ্রমহিলা।

একটু পর আরেকজন রোগী আসলেন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হার্টে ব্লক নিয়ে। তিনিও ঠিক মত ঘুমাতে পারেন না। ঔষধও খাচ্ছেন না ঠিকমতো। ওনাকে জানতে চাইলাম- আপনার এই অবস্থা কেন? তিনি বললেন- স্যার, আমার একটা প্রতিবন্ধী মেয়ে আছে। সে সারারাত ঘুমায় না। শেষ রাতের দিকে ঘুমায়। আমার স্ত্রীও মরে গেছে দুই বছর হলো। মেয়েটার দেখাশোনা করতে হয় আমাকেই। আমি আর পারছিনা স্যার।

আমি ওনাকেই কি জবাব দিব? শুধু বললাম- মেয়েটার জন্যই আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে।

আরেকজন রোগী আসলো বুকে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে। বললো, আমাকে ঈদের দুই দিন আগে তাকে দুবাই থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারও সাতদিন আগে তিনি ওখানে বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই কাগজপত্রও তিনি সাথে করে নিয়ে এসেছেন। তার প্রেশার জিরো পেলাম। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখলাম দুবাইয়ে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। সেখানে তাকে দুইটা রিংও লাগিয়েছেন। মনে হলো রিং দুটি বন্ধ হয়ে গেছে।

কথা হলো, তার হার্টে রিং লাগানো হয়েছে অথচ তিনি জানেন না। তাকে জানানো হয়নি। হার্টে রিং লাগালে রক্ত পাতলা করার ওষুধ ডাবল খেতে হয়, তা না হলে রিং বন্ধ হয়ে যায়।

দুবাইয়ের ডাক্তার সাহেবরা কেন জানানোর প্রয়োজন মনে করলেন না আমার বোধগম্য নয়। এই রোগের জন্যতো তারা দায়ী না। তারা এতগুলো টাকা খরচ করলেন অথচ অবলীলায় বন্ধ হয়ে যেতে দিলেন রিং দুটোকে! এখন মৃত্যুর অতি কাছাকাছি এই ভদ্রলোক।

এভাবেই আমরা বেঁচে আছি, দুনিয়ার কঠিন বেড়াজালে বন্দী হয়ে। প্রকৃতি কখনো শান্তনা দেয়, কখনো শান্তনাহীন কঠিন শিকল পড়িয়ে দেয় জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে। আমৃত্যু বয়ে বেড়াই এই দুর্লঙ্ঘ শিকলের ভার।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

: ব্যাটসম্যানদের ভুলে আজ খেলাটা চলে গেল! : ভুল বলছেন কেন? বল…

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

বেড়ে উঠার গল্প: সুরক্ষিত দূর্গ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে

বেড়ে উঠার গল্প: সুরক্ষিত দূর্গ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে

এক টুকরো জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ড শোয়ার জন্য এক আরামদায়ক তোশক পায় সুরক্ষিত দূর্গ…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর