ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৩৬

আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ

প্রতিষ্ঠার সময় হিসাবে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বয়স খুব বেশী নয়। ২০০৯ সালের ১১ জানুয়ারী মাত্র ৪৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। নারী ও শিশুদের সেবার মান বৃদ্ধিতে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান কেবলমাত্র নারী শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল কলেজটি পরিচালিত হয় আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন এর অধীনে যার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক। কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডাঃ আবু আহমেদ আশরাফ আলী। 

ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসটি পা দিয়েছে সফলতার ৭ম বর্ষে। বর্তমানে ১৩৬ জন শিক্ষকের নিবিঢ় তত্বাবধানে চিকিৎসাবিদ্যার দীক্ষা গ্রহণে নিয়োজিত রয়েছে ৪৬২ জন শিক্ষার্থী। এ মেডিকেলে প্রতি বছরই ৫ জন শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে মেধাবী কোটায় অধ্যয়ণের সুযোগ পান। ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সকল সুযোগ সুুবিধা; রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাস রুম, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, মিউজিয়াম, কমনরুম ও উন্নত মানের ক্যান্টিন। পাঁচ হাজারেরও বেশী পাঠ্য বই ও সহ¯্রাধিক আন্তর্জাতিক জার্নালে সমৃদ্ধ কলেজটির লাইব্রেরী। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্য রয়েছে পৃথক পাঠকক্ষের ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের সহযোগীতার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কম্পিউটার ল্যাব। কমনরুমে রয়েছে নানা ইনডোর গেমসের সুবিধা। ছাত্রীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে রয়েছে একটি আধুনিক ছাত্রীনিবাস।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় নিয়মিত মুখরিত থাকে মেডিকেল কলেজটির প্রাঙ্গণ। সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নানা শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকে কলেজটি। ত্যাগী ও পরিশ্রমী শিক্ষকবৃন্দ এই পুরোটা সময়ে চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে সহায়তা করতে। তাই এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার  পরিবেশ বেশ আন্তরিক। নেই ছাত্ররাজনীতির কোনো সুযোগ। প্রতি বছরই বিভিন্ন দিবস, নবীনবরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, শিক্ষাসফর প্রভৃতি অনুষ্ঠান উদযাপন করে কলেজটির ছাত্রীরা। বিভিন্ন ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, যা মেডিকেলের একঘেঁয়ে জীবনে এনে দেয় বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। 

এতোসব কর্মকাণ্ডের পরেও পেশাগত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে নেই আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ। পেশাগত পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশের হার  বরাবরই সন্তোষজনক। অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধতা ও আন্তরিক শিক্ষার পরিবেশ আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজকে দিয়েছে এক ঈর্ষণীয় স্বাতন্ত্র্য।  প্রতিষ্ঠানটির বেশকিছু প্রশংসনীয় নিয়ম যোগ করেছে  বৈচিত্র্যের নতুন মাত্রা। ক্যাম্পাসটিতে ঢোকার সময় সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে জুতা খুলে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হয়। মনে হয় যেন শিক্ষার কোন প্রার্থনালয়ে প্রবেশ! হাসপাতালের প্রত্যেকটি রোগী থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান প্রধান পর্যন্ত সবাই খালি পায়ে। যেন সবাই সমান এই বোধটুকুর প্রতি নিরঙ্কুশ স্বীকারোক্তি। প্রতি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পৃথক রঙয়ের ইউনিফর্ম এবং তারই সাথে চিকিৎসকদের পড়তে হয় এপ্রোন। 
বর্তমানে শুধু নারী ও শিশুদেরই নয়, সকল বয়সের মানুষের চিকিৎসায় আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরী করেছে ঈর্ষণীয় গণমুখী অবস্থান। বিনা খরচে শতাধিক শয্যাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক শয্যা সমৃদ্ধ হাসপাতালটি নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে।

প্রচলিত ব্যবসায়িক মানসিকতার বাইরে গিয়ে স্বল্পমূল্যে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে আদর্শস্থানীয় পর্যায়ে অবস্থান করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক সকল পরীক্ষা- নিরীক্ষার সু-ব্যবস্থা। হাসপাতালটির জরুরী বিভাগ ও বহিঃবিভাগ দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা প্রদানে। মানবদরদী ও আদর্শ গণমুখী চিকিৎসক তৈরীর মূলমন্ত্র নিয়ে সামনে এগিয়ে চলছে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ। সময়ের হিসেবে পথ চলা খুব দীর্ঘ না হলেও ইতোমধ্যেই আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মানুষের প্রতি সেবা, ভালবাসা এবং যুগোপযোগী শিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এক সময়ে এ প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠবে বাংলাদেশের তথা সারাবিশ্বের কাছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আদর্শ; এই স্বপ্নই প্রতিষ্ঠানটির পথ চলার অনুপ্রেরণা।

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৫, বর্ষ ২, জুন-জুলাই ২০১৫ তে প্রকাশিত)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত