ড. তৌফিক জোয়ার্দার

ড. তৌফিক জোয়ার্দার

(এমবিবিএস, এমপিএইচ, ডিআরপিএইচ)
সহযোগী অধ্যাপক, পাবলিক হেলথ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ঢাকা


২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০৭:০৯ পিএম

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা হবার আশঙ্কা আছে কিনা? এক্ষেত্রে করণীয়ই বা কী? উত্তর হচ্ছে, যদিও আগে ধারণা করা হতো, গর্ভাবস্থায় মা থেকে সন্তানে ইনফেকশন (যেটাকে আমরা vertical transmission বলি) যা হবার হার খুব কম; সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এই হারটা নেহাত কম নয়। ১৮-২৩% অর্থাৎ প্রায় এক পঞ্চমাংশ ক্ষেত্রে গর্ভবতী মা থেকে ডেঙ্গু ভাইরাস সন্তানের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। এই হারটা আরো বেশি হয়, যদি মা প্রসবের কাছাকাছি সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

তাহলে গর্ভবতী মা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে করণীয় কী? মা যদি নিশ্চিতভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে (অর্থাৎ টেস্ট দ্বারা প্রমাণিত হয়ে থাকে), অথবা প্রসবের পূর্বে ১৫ দিনের মধ্যে যদি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকে (অজানা কারণে), তাহলে শিশুর জন্মের সময়ই আম্বিলিকাল কর্ড বা নাড়ি থেকে রক্ত নিয়ে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে। এরপর শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং বিধিমতো ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিতে হবে।

বিষয়টি এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, সাধারণভাবে শিশুর জন্মের পর কর্ড ব্লাড নিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করার রেওয়াজ নেই। কিন্তু যেহেতু বর্তমানে ডেঙ্গুর আউটব্রেক চলছে, এ অবস্থায় ডেলিভারি প্রোটোকলে আমার প্রস্তাবিত কাজগুলো অন্তর্ভুক্ত করাটা জরুরি। অনেক সময় রোগী নিজ থেকে বলতে নাও পারে যে তার ডেঙ্গু হয়েছে। এমনকি সে নাও জানতে পারে সে আসলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল; কারণ, সে মনে করতে পারে তার সাধারণ জ্বর (ভাইরাল ফিভার) হয়েছিল। 

তাছাড়া, অবসটেট্রিশিয়ানরা (অর্থাৎ যেসব ডাক্তার ডেলিভারি করান, গাইনি বিশেষজ্ঞ) মনে করতে পারেন, ডেঙ্গুতো তাদের কনসার্ন না, এটা মেডিসিনের ডাক্তারের ব্যাপার। এভাবে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত নবজাতকের ডেঙ্গু অনির্ণীত থেকে যেতে পারে।

কাজেই, চিকিৎসকদের কাছে, বিশেষ করে গাইনি-অবসের ডাক্তারদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ডেঙ্গুর আউটব্রেক চলাকালীন সময় আপনারা রোগীর রিসেন্ট ফিভারের হিস্ট্রিটা নিবেন। 

সন্দেহ হলে মায়ের ডেঙ্গু টেস্ট করাবেন, অথবা রিপোর্ট থাকলে দেখতে চাবেন। যদি এগুলো পজিটিভ হয়, তখন শিশুর জন্মের পরপর কর্ড ব্লাড টেস্ট করবেন ডেঙ্গুর জন্য। শিশুর ডেঙ্গু পজিটিভ হলে পেডিয়েট্রিশিয়ানকে নোটিফাই করবেন। প্রয়োজনে মেডিসিনের কনসালটেশন নেবেন। গাইনি-অবসের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায়ও এসব নবজাতককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, DGHS-এর National Guideline for Clinical Management of Dengue Syndrome নামক যে চমৎকার গাইডলাইনটা আছে, সেখানে Dengue in Pregnancy and Labor অংশটা পড়ে দেখতে পারেন, যদি ইতোমধ্যে না পড়ে থাকেন।

এতো গেল ডাক্তারদের করণীয়। নবজাতকের বাবা-মা হিসেবেও আপনারা সচেতন থাকবেন। কারণ, আমি যা লিখলাম, সেটা স্বাভাবিক প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে না। কাজেই অনেক ডাক্তার বিষয়টা মিস করে যেতে পারেন। আপনি নিজ দায়িত্বে মায়ের ডেঙ্গুর স্ট্যাটাস ডাক্তারের সঙ্গে শেয়ার করবেন ও পরামর্শ নেবেন। গাইনি-অবস থেকে ডেঙ্গু পজিটিভ মায়ের বাচ্চার কর্ড ব্লাড টেস্ট করা না হলে, নিজ দায়িত্বে তা করিয়ে নেবেন।

উপরে একটা গাইডলাইনের কথা উল্লেখ করেছি, সেটা আমার কাছে বেশ ভালো মনে হয়েছে। আমাদের অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই চমৎকার গাইডলাইনটার জন্য। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত