২০ অগাস্ট, ২০১৯ ১০:৩৯ এএম

ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত পুরুষ, বেশি মৃত্যু নারীর

ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত পুরুষ, বেশি মৃত্যু নারীর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মশাবাহিত এই রোগে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। আক্রান্ত কম হলেও মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার জন্য নারীদের দেরিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কথাই বলছেন গবেষকরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের নারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা পুষ্টিহীনতাকেও তারা দায়ী করছেন তারা।

গত ১ জুলাই থেকে ১৬ অগাস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৩১৬ রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে পুরুষ রোগীর সংখ্যাই বেশি পেয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

তারা বলেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির রোগীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ পুরুষ আর ৩৫ শতাংশ নারী।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমার মনে হয় নারীরা দেরিতে হসপিটালে আসছে। পুরুষদের ট্রিটমেন্ট নেওয়ার প্রবণতাটা যত তাড়াতাড়ি, নারীদের বেলায় হয়ত একটু ডিলে হয়। এটা নারীদের মৃত্যু বেশি হওয়ার একটা কারণ বলে আমার কাছে কাছে মনে হয়।

বাংলাদেশে নারীদের পুষ্টির বিষয়ে সমাজের উদাসীনতাকেও কারণ হিসেবে দেখিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, নারীরা ঘরে থাকে, ওইটা এইডিসের সোর্স হওয়ায় নারীরা দুই বার বা তিন বার করে আক্রান্ত হচ্ছে। নারীদের হিমোগ্লোবিনের পার্সেন্টেজ কম থাকে, তাদের নিউট্রেশনের সমস্যা থাকে এবং এসব কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। এজন্য আক্রান্ত হলে তারা বেশি মারা যাচ্ছে।

ডেঙ্গুতে গর্ভবতী নারীদের ঝুঁকি বেশি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি ৭০ থেকে ৮০ ভাগ।

আইইডিসিআরের তথ্যে দেখা গেছে, এবছর ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে তরুণ ও যুবকদের সংখ্যা বেশি। তারা যে ১০ হাজার ৪০০ রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছে, তার মধ্যে ৩১ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী রোগীর হার ২২ শতাংশ। সে হিসাবে ৫৩ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর বয়সই ১৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

এক বছরের কম থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার ২৭ শতাংশ বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

এছাড়া ১০ শতাংশ রোগীর বয়স ৩৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে, ৬ শতাংশ রোগীর বয়স ৪৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে, ৩ শতাংশের বয়স ৫৫ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। ৬৫ বছরের বেশি রোগীর সংখ্য শতকরা ২ ভাগ।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ১৫ থেকে ২৫ এবং ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তার মানে শতকরা ৫৩ ভাগই এই বয়সসীমার। আর ৫ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়সসীমা হিসাব করলে দেখা যায় এদের হার শতকরা ৭০ ভাগ।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই গ্রুপটা স্কুলে যায় অথবা অফিসে যায়। আমাদের ধারণা, স্কুল-কলেজ এবং অফিসেই আক্রান্ত বেশি হচ্ছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে ১৯ অগাস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ৫৪ হাজার ৭৯৭ জন ভর্তি হন। এর মধ্যে জুলাই-অগাস্ট মাসেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এইডিস মশাবাহিত এই রোগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কৈফিয়তনামা

ভুল কাজ করে, ভুল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করবেন না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি