১৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০৮:৫৪ এএম

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো মইনুল ও তানিয়াকে। গত ১৪ আগস্ট চোখের সমস্যা নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তারা। ডাক্তারও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আর সুস্থ চোখ নিয়ে দেশে ফেরা হলো না। বেপরোয়া গাড়ি কেড়ে নিলো তাদের প্রাণ। কফিনে মোড়ানো অবস্থায় তাদের মৃতদেহ আনা হয়েছে দেশে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করে তাদের মরদেহ। দুর্ঘটনায় আহত ফুপাতো ভাই কাজী শফিউর রহমান চৌধুরী জিয়াদ তাদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসেন। বেনাপোল বন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনরা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর সদস্যদের কাছ থেকে তাদের মৃতদেহ গ্রহণ করেন।

লাশ হস্তান্তরের সময় চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ, পুলিশ, কাস্টমস ও বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিজিবি ও কাস্টমসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন ঝিনাইদাহ জেলার ভুটিয়ারগাতি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে কাজি মোহাম্মাদ মঈনুল আলম (৩৬) ও কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার চান্দুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা ইসলাম তানিয়া (৩০)।

কলকাতার সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে শেক্সপিয়ার সরণি ও লাউডন স্ট্রীটের ক্রসিং-এ। বেপরোয়া গতিতে আসা জাগুয়ার গাড়িটি মার্সিডিজকে প্রথমে ধাক্কা মারে ও সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাফিক পুলিশের একটি পোস্টে ঢুকে পড়ে। এসময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই পথচারীকে পিষে দেয়। গুরুতর আহত ওই দুজনকে কলকাতার এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ভারতীয় পুলিশ সূত্র জানায়, তারা দুজন গত ১৫ দিন যাবৎ কলকাতায় চিকিৎসা করতে উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে।

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফারহানা ইসলাম ঢাকায় সিটি ব্যাংকে ও মঈনুল ইসলাম ঢাকায় গ্রামীণফোনে চাকরি করতেন। গত ১৫ দিন আগে তারা ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। ভারতে তাদের সাথে যাওয়া কাজি সাফি রহমত উল্লাহ জানান, আমরা তিনজনই দাঁড়িয়ে ছিলাম শেক্সপিয়র সরণিতে। এমন সময় আকস্মিক জাগুয়ার জিপ সজোরে পাশের রাস্তায় উঠে পড়ে ফারহানা ও মঈনুলকে চাপা দেয়। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভাইয়ের এমন মৃত্যু এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মইনুলের বড় ভাই কাজি মোহাম্মদ সাইফুল আলম। কান্নাভেজা গলায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভাবতেই পারছি না এমনটা হয়েছে। পরশু রাতেই কথা হয়েছিল।

সাইফুল জানান, তানিয়া তার ভাইয়ের বন্ধু ছিলেন। মইনুলের স্ত্রী এবং ৪ বছরে ছেলে আছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে জিয়াদ এবং তানিয়াকে নিয়ে মইনুল গত ১৪ তারিখ ভারতে আসেন। উঠেছিলেন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে। ১৫ অগস্ট রাতে মইনুলের সঙ্গে শেষ কথা হয় সাইফুলের।

তিনি বলেন, কলকাতায় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চোখ দেখাতে গিয়েছিল মইনুল। এবারের কলকাতা যাত্রা ছিল রুটিন চেকআপের জন্য। তানিয়া-জিয়াদও ওর সঙ্গে গিয়েছিল।

এদিকে ঘাতক জাগুয়ারের চালক কলকাতার বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকান আরসালানের মালিকের ছেলে আরসালান পারভেজ। তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শেক্সপিয়র থানার কলকাতা পুলিশ প্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আরসালান পারভেজকে শনিবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়ে দেয় আদালত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরসালান পারভেজরা দুই ভাই। দুজনেই বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত পারভেজ এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস ম্যানেজমেন্টের পড়াশুনো করেছেন।

 

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি