১৬ অগাস্ট, ২০১৯ ০৮:৫৬ পিএম

এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত 

এবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসক লাঞ্ছিত 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেটল পয়জনিংয়ের এক শিশুকে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বজনদের দ্বারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জনৈক নারী চিকিৎসক। শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে ডেটল পয়জনিংয়ের এক রোগী ইভা (৬) ইমার্জেন্সির মাধ্যমে ভর্তি হয়। পরে তাকে নিয়ে একজন মহিলা এবং ৪ জন পুরুষ হাসপাতালের ২১০ ওয়ার্ডে আসেন। এ সময় তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন তারা।

কিন্তু পয়জনিংয়ের রোগী পুলিশ কেস বিধায় তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বজনদের অনুরোধ করেন চিকিৎসক। তবে রোগীর স্বজনেরা এতে কিছুতেই সম্মত হচ্ছিল না। পরে ওই শিশুর প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন ওই চিকিৎসক। তবে তাকে আউটডোর বেসিসে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসকদের অবজারভেশনে থাকার কথা বলতে থাকেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজনেরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ডাক্তারকে মারতে উদ্যত হন। তখন আত্মরক্ষার্থে ডক্টরস রুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে স্বামী ও অন্যান্যদের ফোন করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩২ ব্যাচের এ শিক্ষার্থী। 

এ সময় ওয়ার্ডে কর্মরত মহিলা আনসার সদস্য এগিয়ে এলে ডাক্তারকে দেখে নেবার হুমকি দিতে দিতে স্বজনেরা ভর্তির কাগজপত্রসহ রোগীকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগার কথা জানিয়ে ঢামেকহা কর্তৃপক্ষকে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান ওই চিকিৎসক।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন মেডিভয়েসকে বলেন, এ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেবেন। 

পুরো ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত স্বজনেরা রোগীকে ভর্তির জন্য চেষ্টা চালান। কিন্তু তারা রোগীকে ভর্তি না করতে পীড়াপীড়ি থাকেন, যা রহস্যজনক। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়া হবে না। 

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত