আবদুল্লাহ আল হারুন

আবদুল্লাহ আল হারুন

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ


১৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০৯:২৩ এএম

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

মানহীন মেডিকেলের প্রাদুর্ভাব বন্ধে মেডিকেলিয় ভূমিকা

আমরা সবাই জানি এবং প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছি ব্যাঙের ছাতার মতো মানহীন মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের মেডিকেল সেক্টরে যে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে সেটা আমরা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি। এই মানহীন মেডিকেল কলেজের জন্যে আমরা শুধুমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সরকারি ব্যবস্থাপনাকেই দোষারোপ করি। সত্যিকার অর্থে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্যে আমরাও অনেকাংশ ভূমিকা পালন করতে পারি।

আপনারা খেয়াল করবেন, যে কোন স্টুডেন্ট বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবার নিয়ত করলে স্টুডেন্ট নিজে হোক অথবা স্টুডেন্টের অভিভাবক যে কোন একজন মেডিকেলিয় ব্যক্তির নিকট পরামর্শ নিতে আসে। আপনাদের কাছে অনুরোধ এইসব ক্ষেত্রে পরামর্শ দেয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল করবেন, মেডিকেল কলেজটা কি শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত? মেডিকেল কলেজটার কি অবকাঠামোগত যোগ্যতা আছে? মেডিকেল কলেজটাতে কি একজন স্টুডেন্ট চেষ্টা করলে স্কিল সম্পন্ন ডাক্তার হতে পারবে? মেডিকেল কলেজ হতে হলে অন্তত যে পরিমাণ রোগী থাকা দরকার সেরকম রোগীর পর্যাপ্ততা কি সে মেডিকেলে আছে? পর্যাপ্ত ডিপার্টমেন্ট কি আছে?

আমাদের সমস্যা আমাদেরকেই সমধান করতে হবে। আমি স্পেসিফিক কোন মেডিকেল কলেজকে ছোট করতে চাইনি। এই কথাগুলো বললাম এই জন্যে যে, এমনও মেডিকেল কলেজ আছে সেগুলো স্টুডেন্ট থেকে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে অথচ সে অনুপাতে স্টুডেন্টদের সার্ভিস দিচ্ছেনা। স্টুডেন্টরা চাইলেও অনেক শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ রাজনীতিক পরিচয়ে তারা দিব্বি স্টুডেন্ট সংখ্যা দিন দিন বাড়িয়ে চলতেছে। ফলশ্রুতিতে কম যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করেই একটা মেডিকেল কলেজের অবস্থা বললে আপনাদের কাছে বিষয়টা ক্লিয়ার হবে। সে মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ইয়ারের সাবজেক্ট গুলোর মধ্যে শুধুমাত্র  মাত্র ৪টা ডিপার্টমেন্ট আছে, মেডিসিন, সার্জারি গাইনি, আই তারচেয়ে বড় কথা সেখানে নিয়মিত রোগীর সংখ্যা ৩/৪ টা বেশি না। অথচ মেডিকেল স্টুডেন্টের সংখ্যা প্রতি ব্যাচে ৯০ এর মতো। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষের জন্যে স্ব-স্ব সাবজেক্টের পার্মানেন্ট শিক্ষক নাই। শিক্ষক ধার করে কোনরকম চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এক সাবজেক্টের শিক্ষক দিয়ে অন্য সাবজেক্টও কোনরকম পড়াচ্ছে, ফলে স্টুডেন্টরা উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আমি এই কথা বলতেছিনা যে ১০০% উপযুক্ত হতে হবে। তবে আমার দাবি হলো মেডিকেল কলেজগুলোকে এতটুকু কোয়ালিটি মেনে চলা দরকার যাতে এই দেশ যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তার পায়। স্টুডেন্টরা মোটা অংকের টাকা লগ্নি করে পর্যাপ্ত সুবিধা পায়। যোগ্যতা সম্পন্ন ডাক্তার হিসাবে এই জাতিকে সেবা দিতে পারে।

আমি আশাবাদী মেডিকেল সেক্টরের লোকজন একটু সচেতন হলেই এই সমস্যার অনেকাংশ সমধান সম্ভব। আমরা মানহীন মেডিকেল কলেজ গুলোতে স্টুডেন্ট সংখ্যা দিন দিন কমাতে পারলে, কর্তৃপক্ষ হয় মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে, না হয় কলেজগুলোর মান বাড়াতে বাধ্য হবে। সবাইকে পজিটিভলি নেওয়ার আহবান।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত