ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন


শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা, মাংস বিলানো। এখন শুরু হবে ম্যারাথন ভোজন পর্ব। জিভটা শাসন নিয়ম থেকে অনেকখানি বাঁধন হারা হয়ে যাবে। মানুষকে কি বলবো, নিজেরই তো এমন হয়। তারপরও একটু সতর্ক না হলেই নয়। আর যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডেমিয়া, হৃদরোগ, কিডনি জনিত সমস্যা, গ্যাষ্ট্রিক আলসারসহ পেটের পীড়া আছে, তাদের তো আবশ্যকই একটু রয়ে সয়ে গলধকরণ করা।

বুঝেনইতো- জিভ যখন বেপরোয়া হয়ে যায়, ব্রেইন তখন বলে "এই অল্পতে কিছু হবে না।" কিন্তু এই অল্পের যেহেতু কোন সীমারেখা নেই তাই যা হবার ছিল তাই হয়।

যে বিষয়গুলোতে একটু দৃষ্টি রাখবেন - 

১. যাদের ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডেমিয়ার সমস্যাগুলো আছে একটু রয়ে সয়ে মাংস খান, হার হাভাতের মতো খাবেন না। অল্পতে কিছু হবে না বুঝে শুরু করে, অল্পতেই শেষ করবেন বেশীতে যাবেন না। কারণ, খেয়ে মানুষ বাঁচে না -মরে, মরে।

২. আমার আম্মা মাঝে মাঝে একটা কথা বলেন- "জিহবার মজাই মানুষরে মারলো"। কথা একদম ঠিক, উনার ক্ষেত্রেও তাই। উনিও মার খাচ্ছেন। চর্বিযুক্ত মাংস বেশী সুস্বাদু কিন্তু সমানুপাতিক হারে ক্ষতিকর, তাই যতটা সম্ভব চর্বি পরিহার করুন। মাংস সিদ্ধ করে চর্বিটা ফেলে যে রান্না করে খেতে পারে জিহবার সাথে যুদ্ধে সেই তো প্রকৃত জয়ী। কারণ, রেড মিটের চর্বিতে থাকে সেচ্যুরেটেড ফ্যাট যা শরীরে জন্য ক্ষতিকর।

রান্নায় মসলা কম ব্যবহার করা ভাল। বেশী মসলাদার খাবার গ্যাষ্ট্রিক আলসার থাকলে তা বাড়িয়ে দেয়। স্টেক-টিস্টেক প্রিপারেশনের সময় ব্যবহৃত উপকরণ ও এর পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

৩. কিডনী রোগীদের জন্য তার ডায়েট প্ল্যানে প্রোটিনের লিমিটেশন জানা খুবই জরুরী। তাই ডাক্তাররা আপনাকে আগে যতটুকু বেঁধে দিয়েছেন তার বেশী খেতে যাবেন না।

৪. অনেকের মাংসে কনসটিপেশন হয়। খেয়াল রাখবেন যাতে এই সমস্যা এড়িয়ে চলা যায়। বেশী করে পানি, ফলের জুস, শরবত, ইসবগুলের ভুষি খান।

৫. যাদের কোন ধরনের মাংসে এলার্জি আছে, তারা টেস্টবাডের ফাঁদে পা দিয়ে সেই মাংস না খাওয়াই ভাল।

৬. সবাই ভারী খাবার খেয়ে হজমের জন্য এই সময়ে কোল্ড ড্রিংসটা খুব প্রেফার করে। মিডিয়ার বদৌলতে সবাই এখন এসবের কুফল খুব ভালই জানেন। নতুন করে জানানোর কিছু নেই। এসব ক্যামিকেল যুক্ত পানি পানের চেয়ে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি বেশী বেশী পান করুন।

৭. এতকিছু খেলেন একটু ডেজার্ট না হলে চলে? সর্বনাশ অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে, বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীদের। বুঝে শুনে রসনা বিলাস করুন।

৮. খুশির অতিশয্যেই হোক কিংবা ঘুরাঘুরি কারণেই হোক প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ রেগুলার যে ঔষধগুলো সেবন করেন সেগুলো যাতে মিস না হয়। প্রয়োজনীয় ঔষধ সমূহ হাতের কাছেই রাখুন, যেমন-গ্যাষ্ট্রিকের ঔষধ।

৯. মাংস সংরক্ষণ পদ্ধতিতে মাংসের গুণগত মান ঠিক থাকছে কিনা সে বিষয়ে নজর দিন।

অনেক জ্ঞানগর্ভ কথা হলো। বলা সহজ, মেনে চলাটাই আসল চ্যালেন্জ। শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। এবারের ঈদে দুর্ভোগের নতুন সংযোজন ডেঙ্গুর মহামারী, সবকিছুর পাশাপাশি এদিকটায় খেয়াল রাখুন। নিরাপদে থাকুন। ঈদের আনন্দ মন খুলে উপভোগ করুন।