ঢাকা      রবিবার ২৫, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

মেডিভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান

‘পেশাজীবী সংগঠন যেন স্বাস্থ্যসেবায় বাধা না হয়’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। মেডিকেল শিক্ষার উন্নয়নে তিনি সম্পাদন করেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষায় প্রভূত উন্নতির ভিত্তিতে বিশ্বসেরার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় বিএসএমএমইউ। দক্ষিণ এশিয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন করে দ্বিতীয় অবস্থান। সম্প্রতি মেডিভয়েস মুখোমুখি হয়েছিল প্রথিতযশা এ অধ্যাপকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের বর্ণাঢ্য নানা দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুন ওবায়দুল্লাহ

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব-কৈশোর কোথায় কেটেছে?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমার শৈশব কেটেছে গ্রামে। এটা আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ সময়। ক্লাস ফোর পর্যন্ত গ্রামে ছিলাম। ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত আমার ছোটবেলা কেটেছে টাঙ্গাইলের অ্যালেঙ্গা ও কালিহাতি উপজেলায়।

মেডিভয়েস: পড়াশোনা কোথায় শুরু করেছেন?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: অ্যালেঙ্গায় আমি এক বছর পড়াশোনা করি, তারপর চলে যাই বল্লা স্কুলে। ক্লাশ ফাইভে আমি টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেখান থেকে আমি এসএসসি পাস করি। আর উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তি হই নটরডেম কলেজে এবং এমবিবিএস পাস করি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে। তারপর আইপিজিএমআর অর্থাৎ বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর পড়াশোনা করি।

মেডিভয়েস: আর কর্মজীবন সম্পর্কে বলুন?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: ১৯৮৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে প্রথম কর্মজীবন শুরু করি। তারপর টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকটি উপজেলায় কাজ করি। এর পর ১৯৮৯ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্যাথলজির লেকচারার হিসেবে যোগদান করি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত উচ্চতর পড়াশোনা করি বিএসএমএমইউতে। ১৯৯৫ সালে এখানে প্যাথলজি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করি।

মেডিভয়েস: কর্মজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কোনটি?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমি বলবো, তিন বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দায়িত্ব, অন্যদিকে শিক্ষকতা পেশার সর্বোচ্চ পদ। এটা একজন চিকিৎসকের জন্য সবচেয়ে গৌরবেরও বটে। ওই সময়টা বিভিন্ন কারণে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সে সময়ে মেডিকেলে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পেরেছি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার বৈঠকে থাকার সুযোগ হয়েছে পদাধিকার বলে। গত পাঁচ বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যা কিছু হয়েছে সব কিছুতে আমার একটা অংশগ্রহণ আছে।

মেডিভয়েস: দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রাপ্তিগুলো কী?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমার সময়ে ২০১৭ সালে বিএসএমএমইউ বিশ্বসেরার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সে সময় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করে। গবেষণা ও শিক্ষার অবস্থার ভিত্তিতে এই অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।এই অর্জনের ফলে বিশ্বের কাছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে পরিচিতি পায়। গবেষণায় ও হেলথ সার্ভিসে এটা একটা বড় প্রাপ্তি। আমি যখন বিএসএমএমইউতে দায়িত্ব নেই, তখন এটির র‌্যাঙ্কিং ছিলো ৭৩ আর আমার সময়ে এর র‌্যাঙ্কিং হয় ২৩।

মেডিভয়েস: উপাচার্য পদে থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কিছু করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি, এমন কিছু আছে?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমার সময়ে উন্নয়নের কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আবার কিছু কাজ করার পরিকল্পনা ছিলো। আজকে যে ক্যানসার ভবন, কনভেনশন সেন্টার দেখছেন তার সব কিছু ২০১৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন, আজকের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ সব কিছুই কিন্তু আমার হাতে করা। এটি ১৯৯৮ সালের কথা, তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি ছিলাম। আমি একটা পলিসি নিয়েছিলাম, দেশের আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল কলেজগুলোকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসা। কিন্তু পরবর্তীতে আমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি আর সম্ভব হয়নি।  বর্তমানে বিষয়টি কী অবস্থায় আছে বলতে পারবো না। তবে এটি হওয়া দরকার।

আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে, ভালো মেডিকেল গ্রাজুয়েট করতে হবে। এই জায়গায় আমাদের কোনো আপস করা যাবে না। এছাড়া অন্যান্য যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো করতে পেরেছিলাম।

মেডিভয়েস: আন্তর্জাতিক বলয়ে গবেষণা নিয়ে বিএসএমএমইউ কাজ করছে কি না?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: হ্যাঁ, আমার সময়ে জাপানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমি নিজে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন করেছি। সিএমএইচ ও আইসিডিডিআরবির সঙ্গেও আমাদের গবেষণা চুক্তি হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের সঙ্গে আমরা বড় একটা গবেষণা কার্যক্রম করেছি। এছাড়া কানাডার সঙ্গেও আমাদের সমঝোতা স্মারক করা হয়েছে। আমাদের এখানে অনেক জুনিয়র শিক্ষক আছেন, যারা যৌথভাবে গবেষণা কাজ করছেন।

মেডিভয়েস: সরকারি হাসপাতালগুলোতে বৈকালিক প্রাকটিসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, এজন্য কি কি করা উচিত?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমাদের এখানে আগে থেকেই বৈকালিক শিফট চালু রয়েছে। এখানে ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি রয়েছে। রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। এটাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। প্রধানমন্ত্রী প্রাইভেট প্রাকটিসের কথা বলছেন। সেটা একটা সিস্টেমের মাধ্যমে চালু হতে পারে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাটাকে আধুনিক করে তারপরে চালু করা উচিত। ডাক্তারদের সময়সীমার পরিবর্তন করা উচিত। আটটা থেকে আড়াইটা এটা হতে পারে না। এরকম সময়সীমা কোথাও নেই।। আটটা-চারটা বা নয়টা-পাঁচটা হবে এবং সপ্তাহে দুদিন ছুটি থাকবে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদেরও সুবিধা হবে, রোগীরাও বেশি সময় চিকিৎসক পাবেন। এছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম ও গবেষণাটা অনেক বাড়বে। আরেকটি প্রস্তাব আমি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী জায়গায় দিয়েছি। সেটি হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটা মডেল আছে যেটা আমাকে ফলো করতে হবে।

মেডিভয়েস: নন প্রাকটিসিংয়ের অ্যালাউন্স একজন অধ্যাপকের ক্ষেত্রে পরিমাণটা কেমন হওয়া উচিত?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: একটা উদাহরণ দিলে বুঝবেন, মনে করেন একজন অধ্যাপক মাসিক দশ লাখ টাকা পান। এখন তাকে যদি বাড়তি পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয় তাহলে কিন্তু তিনি একটা সুশৃঙ্খলা জীবনে চলে আসবেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকবেন তারপর পরিবারের সঙ্গে বাসায় থাকবেন। এক্ষেত্রে তারা বাইরে রোগী না দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত সময় দিবেন, ছাত্রদের সময় দিয়ে তাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবেন। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশটাই পাল্টে যাবে। আমার সময় প্রফেসরদের বলতাম, আপনারা পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টদের সঙ্গে সময় দেন।

মেডিভয়েস: চিকিৎসকদের একটি বিরাট অংশ মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: কেউ যদি মূলধারার রাজনীতিতে যেতে চায় যাবে। কিন্তু আমাদের পেশাজীবীদের যে সংগঠন সেটা যেন আমাদের মেডিকেল বা স্বাস্থ্যসেবায় কোনো বাধা না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। হাসপাতালের অবস্থা যদি ভালো রাখতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। এজন্য আমি বলি, সব জায়গায় স্বাস্থ্য প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। যদি সিভিল সার্জন বা উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তাকে বলা হয়, এটা করা যাবে না ওটা করা যাবে না, তাহলে তো সমস্যা।

মেডিভয়েস: এবারের সংসদে ১৫ জন চিকিৎসক সদস্য রয়েছেন, স্বাস্থ্যখাতের জন্য তারা কতটা কাজ করতে পারবেন?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: তারা চাইলে তো নিশ্চয়ই অনেক কিছু পারবেন। কারণ তারা তো স্বাস্থ্যখাতের সমস্যাটা বুঝবেন। এজন্য তাদেরকে উদ্যোগী হতে হবে।

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্য প্রশাসনের সংস্কার কেমন হতে পারে?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, স্বাস্থ্যসচিব থেকে শুরু করে থানা স্বাস্থ্য প্রশাসক, সিভিল সার্জন তারা বাস্তবেই খুব ব্যস্ত থাকেন। একই ব্যক্তি সব কাজ করবে, এসব পুরনো ধ্যান-ধারণা পাল্টাতে হবে। এখন তো জনশক্তির অভাব নেই, এখন দরকার কর্মটাকে ভাগ করে দেয়া। আমি পরিষ্কার করে বলি, একই ব্যক্তি প্রিন্সিপাল, তিনি আবার হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট, তিনি আবার ডিন, আবার বিভিন্ন সংগঠনেরও দায়িত্বে আছেন, প্রাকটিসও করছেন, আবার ক্লিনিকে রোগীও দেখেন। একই ব্যক্তি যখন সব কাজ করছে, তখন আমার বুঝতে হবে কোনটাই সঠিকভাবে হচ্ছে না। সেকারণে ডিস্ট্রিবিউশন ওয়ার্ক ইজ ভেরি ইমপর্টেন্ট। এটা আমাদের অতিসত্বর করতে হবে।

মেডিভয়েস: বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডাক্তাররা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় চাকরি করছেন, যা অমানবিক। এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন কি না?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: দেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল হওয়াতে মানুষের সুবিধা বেড়েছে, কিন্তু চিকিৎসকদের সুবিধা হয়নি। তাদের বেতন কাঠামো নেই, সুযোগ-সুবিধা নেই, হায়ার অ্যান্ড ফায়ারে চলছে। কমদামে চিকিৎসক নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একটা নীতিমালা থাকতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সেই নীতিমালাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি তাদেরকে সহযোগিতাও করতে হবে। কারণ তারাও কিন্তু সেবা দিচ্ছে। সরকারি থেকে আসছে ৪০ ভাগ সেবা আর বেসরকারি খাত থেকে ৬০ ভাগ। সেজন্য সরকারের একটা ওভারঅল মনিটরিং থাকতে হবে।

আরেকটা বিষয়, ইর্ন্টানদের বেতন দেয়া হচ্ছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। তারাই মূলত হাসপাতালগুলোকে জাগিয়ে রেখেছে। তাদের বেতন হওয়া উচিত কমপক্ষে মেডিকেল অফিসার সমপর্যায়ে।

মেডিভয়েস: স্যার আপনি তো একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে কি না?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমরা তো দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমাদের যারা ডাক্তার তাদের মূল কাজটা হচ্ছে মেডিকেল সেক্টরটাকে নিয়ে কাজ করা। চিকিৎসক হিসেবে এটা আমার বড় একটা দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন দেশের জন্য। আর আমি যদি আমার কাজটা ঠিক মতো করি, তাহলে কিন্তু জীবন দিতে হবে না, ত্যাগও স্বীকার করতে হবে না। কিন্তু আমি মনে করি, আমার কাজটা যদি ঠিক মতো করি, তাহলেই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে। আমার কাজ ফেলে অন্য কাজ করবো, এটা হতে পারে না। আমার মধ্যে পেশাদারিত্ব থাকতে হবে। আমার জায়গা থেকে মানুষের সেবা করবো, তাহলেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষা পূরণ হবে।

মেডিভয়েস: শিক্ষকতা জীবনে কোন শিক্ষককে সবচে বেশি ভালো লেগেছে বা কোন গুণের কারণে তাকে ভালো লেগেছে?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: আমাদের সময়ে প্যাথলজির শিক্ষক ছিলেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম। তাঁর সময়ে তিনি একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আজকের হিস্টোপ্যাথলজি ও সাইটোপ্যাথলজি-এসব সাবজেক্ট তিনিই করে গেছেন। তাঁর লেকচারে উপচেপড়া ভিড় থাকতো। একজন শিক্ষকের থাকবে ন্যায় নীতিবোধ, আদর্শ ও সততা। সততা ও ন্যায় নীতিবোধের কোনো বিকল্প নেই। অনেক দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, অনেক শিক্ষক আছেন, যারা আজ প্রশ্নবিদ্ধ কাজ করছেন।

আমি দুটি কথা বলতে চাই, যে পিতামাতার সম্মান তার সন্তানের কাছে নেই সে পিতামাতা ব্যর্থ। আর যে শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে সম্মান পান না সে শিক্ষকও ব্যর্থ।

মেডিভয়েস: তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ?

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: তরুণ চিকিৎসকরা অনেক কষ্ট করে মেডিকেলে চান্স পাচ্ছে। একজন চিকিৎসক হওয়ার পর সারা জীবনের জন্য একটা পরিকল্পনা করে তাকে এগুতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে যেন সে না পড়ে। রাজনীতিতে পড়ে অনেক মেধাবী ছাত্র নষ্ট হয়ে যায়। জাতির সামনে একজন মেডিকেল গ্রাজুয়েট অনেক বড় বিষয়। এজন্য মেডিকেল ছাত্রদের মাথায় রাখা উচিত জাতির প্রতি তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

মেডিভয়েস: স্যার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: তোমাদেরও অনেক ধন্যবাদ।

(সাক্ষাৎকারটি মেডিভয়েসের জুলাই-আগস্ট ২০১৯ প্রিন্ট সংখ্যায় প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

কুষ্টিয়ায় নার্সের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার 

কুষ্টিয়ায় নার্সের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিখোঁজের তিন দিন পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিলকিস আক্তার (৪০) নামে…

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ফিরেছেন লাশ হয়ে

মেডিভয়েস ডেস্ক: ভারতের কলকাতায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো মইনুল…

ঢাকা মেডিকেলে নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের মামলায় যুবক গ্রেপ্তার 

ঢাকা মেডিকেলে নারী চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের মামলায় যুবক গ্রেপ্তার 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেটল পয়জনিংয়ের রোগীকে আউটডোর বেসিসে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায়…

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন…

পূর্বের আদেশ বাতিল: কাটলো চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

পূর্বের আদেশ বাতিল: কাটলো চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসক না থাকলে চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার ছুটি না পাওয়া…

চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ চিকিৎসক

চিকিৎসায় নিয়োজিত থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ চিকিৎসক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর