ঢাকা      সোমবার ২৬, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


শুধুমাত্র চিকিৎসকদের ঈদ ছুটি বাতিল কেন?

দুপুর আড়াই টা, বৃহস্পতিবার, ৮ আগষ্ট ২০১৯। ব্যাংকে গিয়ে চেক জমা দিলাম। অফিসার বললো। আজ রেখে দিলাম। ঈদের ছুটির পর জমা হবে। এমন সময়ে ওনার ফোন এলো।

উনি বলছিলেন- হ্যাঁ ভাইয়া, বলো। এই যে। আজ একটু তাড়াতাড়ি করেই ফিরবো। আজ অফিস হয়ে ঈদের ছুটি। ১৪ তারিখ একদিন ছুটি। এরপর আবারো তিন দিন বন্ধ। হ্যাঁ হ্যাঁ। ১৪ তারিখ ছুটি নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। দশ দিন। কুরবানী ঈদে লম্বা ছুটি পাওয়া গেলো।

এদিকে আমার বুকের ভেতর একটা মোচড় দিলো। পেডীর ভাইয়ার মেয়েটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন, বাবা এলে গরু কিনবে। মজা করে ঈদ করবে। হাজারো শিশুর চিকিৎসা দেয়া মানুষটা তার কন্যা শিশুটার বাবা একথা কারো মনে নাই।

ইন্টার্ন ডাক্তার ছেলে মেয়েগুলোর বাবা-মা তীর্থের কাকের মতো বসে আছে খোকা/ খুকু কখন আসবে। কত বাপ মায়ের বড় ছেলেটা হাসপাতালে মেডিসিন ইউনিটে ডিউটি করছে। সাধ্যের অনেক বেশি রোগী ভর্তি। দিন রাত পরিশ্রম করছে মাস ধরে। কর্মঘন্টা বলে কিছু নাই। ঈদেও ছুটি নাই।

ঝাপসা চোখে জায়নামাজে বসে মা ভাবে, এ কেমন চাকরী? এত মেধাবী সন্তানটি সারা জীবন এত পড়াশোনা করলো। তার এ কেমন জীবন?

এই ঈদে কোথাও কোন কিছু হ্যাম্পার হয়নি। কোন বিভাগে কারো ছুটি বাতিল হয় নাই। এমন কি মশার বাম্পার ফলনকারী সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও দুর্দান্ত ঝাড়ু নাটকরের পর লম্বা ঈদ ছুটি।

পাবলিক প্লেসগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর যাতায়াত কমে নাই। ঘরমুখী মানুষের ঢল কমে নাই। জ্বর নিয়ে রোগরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুভ করছেন। কোন মনিটরিং নাই। অথচ, শুধুমাত্র ডাক্তারদের কোন ঈদ নাই।

চিঠির পর চিঠি আসতেছে উপরের মহল থেকে ডাক্তারের কাজের ফর্দ নিয়ে। একজন বলছেন না, ঈদের ছুটি বাতিলের বিনিময়ে ডাক্তার কি পাবেন। এই মহা মূল্যবান ছুটির কমপেনসেশন তাকে কি দিয়ে করবেন? ক্রেডিট নিতে ব্যস্ত কেউ কেউ মনিটরিংয়ের ডায়ালগ বাজি করেন।

আটজন চিকিৎসক এবং একজন নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমনকি বিএমএ টিম কোন শোকবার্তা পর্যন্ত দেননি। তিনটা বাচ্চাকে এতিম করে চিকিৎসক পত্নী নারী চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কারো কোন দায়িত্ব নাই ঐ এতিম বাচ্চাদের জন্য? একটি বার বাড়িতে গিয়ে মাথার পরে হাত রাখা। একটু শান্তনা দেয়া ও আদরকারী মনে করেন আপনারা।

৩৬৫ দিনের প্রতিটি দিন আমরা চিকিৎসকগণ দেশের সেবা করি। সরকার থেকে সর্বনিম্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেশকে আমরা চিকিৎসকগণ দেই।

তাই চিকিৎসকদের প্রতি মানবিক হোন। রাষ্ট্র বেঈমান না হয়ে চিকিৎসকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করুন। নইলে প্রকৃতি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবে। তার ফলাফল এ দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য ভালো হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

আমার চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা আসলেন বুকে ব্যাথা নিয়ে। তার প্রেশার আনকন্ট্রোলড। আমি…

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলো জীবাণুর কারণে হয়। বলা হয়…

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা…

বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী

আমার সামনে বসা মধ্যবয়সী এক অত্যাধুনিক ভদ্রলোক! ঘাড় পর্যন্ত ঝুলানো লম্বা চুল,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর