ঢাকা      সোমবার ২৬, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


শুকরের চর্বিতে উৎপাদিত তেলে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের হৃদপিণ্ড! 

এতো এতো হার্টের রোগী এদেশে! হতাশ হয়ে যাই। কারণ খুঁজতে গিয়ে গলদঘর্ম হয়ে যাই। খেটে খাওয়া মানুষ, সেভাবে খাবারও খেতে পায় না। তবুও হার্টে ব্লক!

আমার হার্টে ব্লক দেখে চমকে উঠেছিলেন আমার প্রিয়, শ্রদ্ধাভাজন, বাংলাদেশের প্রথিতযশা কার্ডিওলজিস্টগণ। দিল্লির মেদান্তা হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্টরা শুধু উপরের দিকে তাকিয়ে বলেছেন, সবকিছুর হিসাব মিলানো যায় না।

আমার লিপিড প্রোফাইল দেখে মানুষ ঈর্ষান্বিত হয়। টোটাল কোলেস্টেরল-১২৫, ট্রাইগ্লিসারাইড-৭৮, এলডিএল-৭০, এইচডিএল-৫১.। ওজন ও বডি স্ট্রাকচার দেখে তারা অবাক।  

আমি ধূম ও মদ্যপান করি না।  রাত ১০টায় ঘুমাই, ভোর সাড়ে চারটায় উঠি। সকালে নামাজ শেষে হাঁটি, বাসায় ফিরি সাতটায়। গোসল ও নাস্তা সেরে ৮টায় ঘর থেকে বের হই। কর্মক্ষেত্র থেকে ফিরে আসি দুপুর আড়াইটায়। দুপুরের খাবার খেয়ে ছোট্ট ঘুম। চারটায় চেম্বারে যাই, সেখান থেকে রাত নয়টায় বাসায় ফিরি। রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটায় বিছানায় গাঁ ছোয়াতেই ১-২ মিনিটের মধ্যে ঘুম।

তারপরও আমার হার্টে ব্লক। স্বাভাবিকভাবেই এখন মানুষকে উপদেশ দিতে লজ্জা লাগে। হতাশ হয়ে তাকাই, ভুলে যাই সমস্ত বিদ্যা; মনে মনে ভাবি, হার্টে ব্লক যেন কেন হয়?

বড় জ্বালায় পরেছি হার্টের ডাক্তার হয়ে। এতো সুশৃঙ্খলা জীবন-যাপন করার পরও আমার হার্টে ব্লক হওয়ার কারণ জানতে চায় মানুষ। বউ গলা উঁচু করে বলে, বুঝোনাতো কিচ্ছু! আর থানকুনি পাতার রস, কালোজিরার তেল ও চিরতার পানি গিলায়, একই সঙ্গে মুখ থেকে গরুর গোশত খুলে নিয়ে যায়। 

উঠতে-বসতে হার্ট ভালো রাখার উপদেশ বাণী শোনায়। আমি অমৃতের মতো গিলি। মাঝে মধ্যে আবার তীক্ষ্ণ বাণী শোনায়—কত করে বলি সূর্যমুখীর তেল খাও, সাফোলা অয়েল। আমি চুপ থাকি।

শেষ পর্যন্ত সাফোলা অয়েল আমার বাসায় পৌছলো বটে, কিন্তু ততদিনে সংবাদ চাউর হলো টন টন শুকরের চর্বি পাওয়া গেছে ধামরাইয়ে, যেখানে উৎপাদন করা হয় স্বাস্থ্য সম্মত তেল—সয়াবিন অয়েল, রাইস ব্রান অয়েল ও সাফোলা অয়েল, যা এতো দিন মানুষের শরীরের পরম বন্ধু বলে বিবেচিত হতো।

চাঞ্চল্যকর এমন খবর শোনার পর ঘৃণায় শরীর রি রি করে উঠলো। এমনি হাজারো নিত্যখাদ্যে শুকরের নির্যাস খাচ্ছি প্রতিদিন এই সোনার বাংলায়, আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে।

শুকরের এতো সব কারবারীরাই প্রতিদিন ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে আমাদের প্রাণভোমরা প্রিয় হৃদপিণ্ডটাকে, ধ্বংস করে দিচ্ছে শরীরটাকে, বিষিয়ে তুলছে আমাদের সুন্দর জীবনটাকে, অকাল মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

তাদের কারসাজিতেই হাসপাতালগুলো ভরে উঠে জটিল রোগীতে, তারপর দাঁত কেলিয়ে বলে ডাক্তাররা কসাই। তারা উপরতলার বনেদি ঘরের সন্তান! 

প্রশ্ন জাগে মনে—আচ্ছা, কসাইরা কি শুয়োরের চামড়াও ছিলে?

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার…

ভিআইপি রোগী

ভিআইপি রোগী

এমবিবিএস পাস করে কেবল ১৯৮৫ সনের নভেম্বর মাসে ইন-সার্ভিস ট্রেইনিং শুরু করেছি।…

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

রোগীকে যখন শান্তনা দেয়ার কোন ভাষা থাকে না

আমার চেম্বারে একজন ভদ্রমহিলা আসলেন বুকে ব্যাথা নিয়ে। তার প্রেশার আনকন্ট্রোলড। আমি…

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

একটা দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কি হয়?

আমাদের শরীরের কিছু কিছু অসুখ আছে যেগুলো জীবাণুর কারণে হয়। বলা হয়…

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

গর্ভবতী মায়ের সন্তানের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু, করণীয় কী?

ডেঙ্গু বিষয়ক নানা প্রশ্নের একটি হচ্ছে, গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে সন্তানেরও তা…

বুদ্ধিজীবী

বুদ্ধিজীবী

আমার সামনে বসা মধ্যবয়সী এক অত্যাধুনিক ভদ্রলোক! ঘাড় পর্যন্ত ঝুলানো লম্বা চুল,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর