ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
০৯ অগাস্ট, ২০১৯ ১১:১০

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ওষুধ সংকটে ইরান!

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ওষুধ সংকটে ইরান!

মেডিভয়েস ডেস্ক: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সই করা পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে দেশটির ফার্মাসিউটিক্যালসের ওপর। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ইরানে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। খবর বিবিসি।

ইরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞার কারণে চিকিৎসা সামগ্রীতে বিশেষ ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও তা দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। অথচ, দেশটির প্রয়োজনীয় ওষুধের চার শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলছেন, ফার্মাসিউটিক্যালসের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। কারণ ওষুধ কিনতে আর্থিক লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো পাওয়ার জন্য বিভিন্ন শহরের ফার্মেসিগুলোতে ছোটাছুটি করলেও পাওয়া যাচ্ছে না। আর কয়েকটিতে থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে দাম এতোটাই বেশি যে আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্বাস্থ্য ও মেডিকেল সেবার খরচ বেড়েছে ১৯ শতাংশ। তবে ওষুধের এ ঘাটতি ও দাম বাড়ার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

ইরানের এক ওষুধ আমদানিকারক বলেন, গত দুই বছরে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দামও বেড়েছে। বিশেষ করে অচেতন করা, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ওষুধ পাওয়াটা কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার বাইরে রেখেছে’। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রিচার্ড নিপিয়ো জানান, ব্যবসা চালু রাখতে হলে একটি ব্যাংক পেতে হবে এসব বিষয়ে লেনদেনের জন্য।

ইরানের সরকারি হিসেবে গত ১৬ মাসের ওষুধ ও উপকরণ আমদানির একটি চিত্র পাওয়া গেছে। সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে আমদানি ১৭৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল এবং এরপরই এটি কমতে শুরু করে। চলতি বছর জুড়ে ৬০ শতাংশ কমে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউর কাছ থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। গত নভেম্বরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ইরানের কাছে ওষুধ সামগ্রীর বিক্রিও কমে যায় আগের তুলনায়।

এ বিষয়ে ইউকে ফিন্যান্সের পরিচালক জাস্টিন ওয়াকার বলেন, মানবিক সেবার বাণিজ্য ও পেমেন্ট ইরানের সত্যিই জটিল বিষয়। ব্রিটেনের ব্যাংকগুলোর জন্য মেডিকেল সামগ্রী ইরানে পাঠানো কঠিন তাই এখন সীমিত আকারে ব্যবসা হচ্ছে।

আসলে নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পদ্ধতিই ওষুধ আমদানি কঠিন করে তুলেছে। এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ও দাম বেড়ে যাচ্ছে ইরানের বাজারে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে ইউরোপীয়রা সহায়তার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে ইরান। যদিও এটি রাজনৈতিকভাবে আসলেই কঠিন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হওয়া ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তির পর ২০১৬ সালে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে আবার যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যা কার্যকর হয় শিল্প ও ব্যাংক খাতে। এরপর থেকেই দু'দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু ঘটনার কারণে পারস্য উপসাগরেও উত্তেজনা শুরু হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত