০৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০৫:২৭ পিএম

ডেঙ্গু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও পূর্বানুমান ছিল না: হেলথ ডিজি

ডেঙ্গু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও পূর্বানুমান ছিল না: হেলথ ডিজি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, এটা শুধু মশার ক্ষেত্রে না সমস্ত ক্ষেত্রেই আছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দৈনিক যুগান্তরের আয়োজনে ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘এ কথা স্বীকার করতে কোনো লজ্জা নেই। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এমনকি সরকার স্বীকারও করবে—আমাদের যে ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন সে ধরনের দক্ষতা অনুপস্থিত। এটা শুধু মশার ক্ষেত্রে না সমস্ত ক্ষেত্রেই আছে। অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।’

তবে ডেঙ্গু নিয়ে গণমাধ্যমগুলো অনেক সময় সঠিক তথ্য দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে ১২৮টি দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আছে। সব দেশে এ রকম ভয়াবহ পরিস্থিতি। এ রকম পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। বাংলাদেশে এতো জনসংখ্যা থাকার পরও অনেক ক্ষেত্রে সফলভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৭-১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের কোনো দেশ এটা অনুমান করতে পারেনি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ এ ডেঙ্গু পস্থিতির মুখোমুখি হবে।’

জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থনা করতে হবে আল্লাহ তায়ালা যেন বৃষ্টি কমিয়ে দেন। যদি তিনি অনেক দিনের জন্য বৃষ্টি বন্ধ করতেন, তাহলে মশা মরে যেতো। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টি বন্ধ করছেন না। বৃষ্টি আসছে, আবার থামছে, আবার আসছে। এই যে সারা পৃথিবীতে জলবায়ুর এত পরিবর্তন—এখানে যেহেতু নিয়ন্ত্রণ নেই, তাহলে এখানেও আপনাকে মেনে নিতে হবে।’

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কী করা হয়েছে, কী করা হয়নি এই মুহূর্তে তা ভাবার সুযোগ নেই। বরং ডেঙ্গু নির্মূলে এখন কী করতে হবে এবং আগামী দিনে কী করতে হবে—তার করণীয় ঠিক করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে তর্ক করলে শুধু সময় নষ্ট হবে। 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দায়িত্ব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে। তখন বাংলাদেশে মশা নির্মূলের দায়িত্বটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ছিল। এবং তখন ম্যালেরিয়া নির্মূলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করেছে আইইডিসিআর। পরবর্তীতে যখন ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আসে, সে সময় থেকে মশা নিধনের দায়িত্ব আর আইইডিসিআরের ছিল না। কাজেই বর্তমানে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ তাদের না। কিন্তু মশা কামড়ালে যেহেতু অসুখ হয়, মানুষ হাসপাতালে আসে, চিকিৎসা নিতে হয়—সে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুবিধার লক্ষ্যে আইইডিসিআর কিছু কিছু কাজ করে যাচ্ছে।’

এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে শুষ্ক মৌসুমে আইইডিসিআর মশা নিয়ে একটি সার্ভে করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ২০০০ সালে ডেঙ্গু হয়েছিল, ২০১৭ সালে মারাত্মক আকারে চিকুনগুনিয়া দেখা দিয়েছিল। প্রতি বছর যদি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া হয়, তাহলে সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে। মশা যদি থাকে, তাহলে মশাবাহিত রোগও থাকবে। সেজন্য প্রস্তুতিও নিতে হবে। 

মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, সারা দেশের দায়িত্ব রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এজন্য সিটি করপোরেশনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। সারা বাংলাদেশেই মশা নিধন করতে হবে। এর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব হচ্ছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। মশা মরছে কিনা, কোন ওষুধ দিতে হবে, কখন দিতে হবে, কিভাবে দিতে হবে—তাদেরকে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুগান্তরের প্রকাশক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন যুগান্তরের উপসম্পাদক এহসানুল হক বাবু। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত