ঢাকা      সোমবার ২৬, অগাস্ট ২০১৯ - ১০, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


প্রাকৃতিক উপায়ে এডিস মশা থেকে মুক্তির উপায়

এডিস মশা জমে থাকা অতি অল্প পানিতে বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে এবং বংশ বিস্তার করে। সে হিসেবে বলা যায়, ঘরের অ্যাকুরিয়াম, ফুলের টব, ছাদে গাছের টব, এসি'র পানি, ফ্রীজের নীচে জমা পানি, ছোট পাত্রে জমা পানি খুবই উপযোগী এডিস মশার বংশ বিস্তারে। তাছাড়া ঘরের পাশের ছোট নালাতে সে বাসা বাঁধে।

এডিস মশার ডিম ফুটে যে বাচ্চা এডিস বের হয় তার নাম লার্ভা। এসব লার্ভা পাত্রের পানিতে চ্যাংদোলা বা ল্যাজদোলা হয়ে ঝুলে থাকে। তাদের লেজ থাকে উপরে, মাথা থাকে নীচে। লেজের উপরে থাকে ছিদ্র এবং ছিদ্র দিয়ে পানির উপরিতল থেকে সে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়। সুতরাং ভালো হলো এসব জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া এবং পুনরায় এসব স্থানে জমতে না দেয়া।

আর যদি তা সম্ভব না হয় তবে ইনসেক্টিসাইড স্প্রে করা। তবে গৃহস্থালির কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে লার্ভাকে সাময়িক ধ্বংস করা যায়।

অয়েল: তৈল পানির চেয়ে হালকা। তাই সামান্য তেল পানিতে ছেড়ে দিলে তা পানির উপর একটা পাতলা আবরণ তৈরি করে ফলে লার্ভা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা পাড়ে। অলিভ ওয়েল, ভেজিটেবল ওয়েল, নিমের তৈল, ইউক্যালিপটাস তৈল এতে উপকারী।

ভিনেগার: পরিমিত মাত্রার ভিনেগার সলিউশন এডিস মশার লার্ভাকে ধ্বংস করে। মাত্রা হবে ৮৫ ভাগ পানি ও ১৫ ভাগ ভিনেগার।

লিক্যুইড সোপ: বাসন ধোবার লিক্যুইড সোপ অল্প পরিমানে জমে থাকা পানিতে ছেড়ে দিলে লার্ভা মরে যায়।

ব্লিচিং পাউডার: ব্লিচিং পাউডার যদিও স্বাস্থ্যের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ তবে এক চামচ ব্লিচিং পাউডার এক গ্যালন পানিকে এডিস লার্ভা মুক্ত রাখতে পারে।

কেরোসিন তৈল: পূর্বে সচেতন গ্রামের মানুষ বাসা বাড়ির আঙিনায় বা আশেপাশে নালা নর্দমার মশা-মাছি, কিট-পতঙ্গ, সাপ-বিচ্ছি তাড়াতে কেরোসিন ছিটিয়ে দিতেন। তবে সেটাও স্বাস্থ্য সম্মত নয়।

মাছের চাষ: কিছু মাছ আছে যাদের খাদ্য মশার লার্ভা। যেমন- কই মাছ। সুতরাং আশে পাশে পুকুর ডোবা, নালার মশা মাছি ধ্বংস করতে কই মাছ ছেড়ে দেয়া যায়।

তবে প্রাকৃতিক এসব উপায় কয়েকটি পরিবেশ বান্ধব হলেও দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে খুব একটা কার্যকর নয়।

কিছু কিছু রোগ আছে যাদের বেলায় প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ডেঙ্গু সেরকম একটি রোগ। অসচেতনতায় যেকোন রোগই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ডেঙ্গু যেহেতু মশার মাধ্যমেই ছড়ায় আর সে মশা সাধারণত ঘরেই থাকে, তাই নিজের ঘর দোয়ার নিজেকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ডেঙ্গু ভাইরাস বাহক এডিস মশা দিনে কামড়ায়। তাই লম্বা ডিলে ঢালা পোশাক, মশারী ব্যবহার, স্বাস্থ্য সম্মত মশার কয়েল, স্প্রে ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত রোগীকে যাতে মশা কামড় দিতে না পারে সেজন্যে রোগী এবং নিজে উভয়েই মশারি ব্যবহার করা। কারণ, ডেঙ্গু জ্বরের রোগীকে মশা কামড়িয়ে প্রথমে মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়, পরে সে সুস্থ মানুষকে কামড়িয়ে তার লালার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গলায় মাছের কাঁটা: সায়েন্টিফিক সমাধান

গলায় মাছের কাঁটা: সায়েন্টিফিক সমাধান

শিরোনাম শুনে লেখাটি যেমন ভাবছেন, লেখাটি মোটেই সেরকম নয়। গলার কাঁটার সাহিত্যিক…

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয় 

সারভাইক্যাল ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। তবে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সচেতনতার…

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথাবিলাস ও আমাদের ব্যথাসহনীয়া ট্যাবু

ব্যথা নিয়ে আমার নিজের মাথাব্যথা কম। আমার নিজের পেইন থ্রেসল্ড খুবই বেশী।…

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

গ্যাস্ট্রিক নামে কি কোন রোগ আছে?

আমাদের দেশে অনেক রোগী আছে গাস্ট্রিকের। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্যাস্ট্রিক নামে এমবিবিএস…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর