এমবিবিএস পরিচয়দানকারী এইচএসসি পাস ভুয়া চিকিৎসক আটক


মেডিভয়েস রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সবুজ ইসলাম সরকার (৩৮) নামক এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিলেও পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। এমনকি, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন, সেখানকার ঠিকানাটাও সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

মঙ্গলবার রাত ৯টায় দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ওই চিকিৎসক তার এমবিবিএস পাসের কোনো সনদপত্র দেখাতে পারেননি। র‌্যাব-১১ সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাবিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব বলেন, র‌্যাবের নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল এলাকার সেবা মেডিকেলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আমরা সবুজ ইসলাম সরকার নামে একজনকে আটক করি। যিনি কি না নিজেকে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছিলেন। কিন্তু তিনি একজন ভুয়া চিকিৎসক।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো কোনো সনদপত্র নেই। তিনি গত ৩-৪ বছর ধরে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, তিনি একজন ভুয়া চিকিৎসক। আমরা তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করব।

এদিকে, র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ভুয়া চিকিৎসক জানান, তিনি ১৯৯৮ সালে দাউদকান্দির সুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর এক বছর বিরতি দিয়ে ২০০১ সালে এইচএসসি পাস করেন গৌরিপুর ফজলুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে। এইচএসসিতে অধ্যয়নের সময় ২০০০ সালেই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্সে ভর্তি হন ‘কুমিল্লা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং’ স্কুলে (ম্যাটস)। পরে ২০০৫ সালে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের ওপর ইন্টার্ন করেন। এরপর ২০০৮ সালে ঢাকার মিরপুর-২-এ অবস্থিত ‘মা ও শিশু ফাউন্ডেশন’ এবং ২০০৯ সালে কলকাতার বারাসাতের বিসিবি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আলট্রাসনোগ্রাফির ওপর কোর্স করেছেন। এরপর ২০১৬ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলে মুক্তি ডায়াগনস্ট্রিক সেন্টার এবং ২০১৮ সাল থেকে হিরাঝিলে অবস্থিত সেবা মেডিকেল সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন। কিন্তু র‌্যাবের অভিযানে নিজের দাবি করা এসব কোর্সের কোনো কাগজপত্রই দেখাতে পারেননি তিনি।  এমনকি কলকাতার যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলে দাবি করেন, সেখানকার ঠিকানাটাও সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

রোগী দেখার জন্য বিএমডিসিরও (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টালের কাউন্সিল) কোনো রেজিস্ট্রেশনও ছিল না তার।